মোমিনদের গুণাবলি
ইসলামে সাফল্য বলতে শুধু ইহকালীন বৈষয়িক প্রাচুর্যকে বোঝায় না, বরং এটি ইহকাল ও পরকালের চূড়ান্ত মুক্তি ও কল্যাণকে নির্দেশ করে। পবিত্র কোরআন এই সাফল্য অর্জনের জন্য মোমিনদের সুনির্দিষ্ট গুণাবলি বর্ণনা করেছে, যা ঈমানের মৌখিক স্বীকৃতির পাশাপাশি সৎকর্ম (আমলে সালেহ) ও উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের গভীর সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এই গুণাবলিগুলো মোমিনকে দুনিয়ায় ‘হায়াতান তাইয়্যিবাহ’ (পবিত্র ও আনন্দময় জীবন) এবং পরকালে জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী করে তোলে।
জান্নাতুল ফিরদাউসের ভিত্তি : কোরআন মোমিনদের জীবনের আধ্যাত্মিক ভিত্তিকে সংজ্ঞায়িত করেছে সুরা মুমিনুনে (আয়াত, ১-১১)- যেখানে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর ফিরদাউস লাভের জন্য সাতটি মৌলিক গুণাবলিকে সাফল্যের প্রবেশপথ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চিতভাবেই সফলকাম হয়েছে মোমিনরা, যাদের জীবন এই সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’
এই গুণাবলির প্রথমেই স্থান দেওয়া হয়েছে সালাতে খুশুকে (বিনয় ও নম্রতা) । এটি ইবাদতের অভ্যন্তরীণ মানদ-, যা মোমিনের হৃদয়ে আল্লাহর মহত্ত্বের প্রতি সচেতনতা তৈরি করে। একবার এই অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতা অর্জিত হলে মোমিন বাজে বা অনর্থক কথা-কাজ (লাঘব) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যা তার বাহ্যিক নৈতিকতা নিশ্চিত করে। এরপর আসে জাকাত বা পরিশুদ্ধি সম্পাদনের বিষয়টি। মক্কী যুগে নাজিল হওয়ায়, তাফসির অনুযায়ী এটি শুধু আর্থিক দান নয়, বরং আত্মিক, নৈতিক ও চারিত্রিক পরিশুদ্ধির (তাজকিয়া) প্রতি সর্বদা সক্রিয় থাকাকে বোঝায়। পরবর্তী গুণটি হলো লজ্জাস্থানের হেফাজত ও অবৈধ যৌনতা বর্জন, যা ব্যক্তিগত নৈতিকতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
০৫:৩৩ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার