রজবে রমজানের পদধ্বনি
রজব এমন এক মাস-যে মাসে আমরা মাহে রমজানের পদধ্বনি শুনতে পাই। ইতোমধ্যে রজবের অর্ধাংশ পেরিয়ে গেছে এবং মুমিনের বহুল প্রতীক্ষিত রমজান মাসের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। তবে মৌলিকভাবে রজব মাসও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। যদিও রজব মাসের গুরুত্ব, তাৎপর্য সম্পর্কে আমরা খুব বেশি অবগত নই। কোরআন চারটি মাসকে সম্মানিত বলেছে। রজব তার একটি। আর কোরআন যাকে সম্মানের বিশেষণে ভূষিত করে, অবধারিতভাবে তার মুকুটে মর্যাদার পালক যুক্ত হয়ে যায়। সম্মানিত মাস সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয় আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন হতে আল্লাহর বিধানে আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি; তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান (তওবা)।
এই আয়াত থেকে আমরা সম্মানিত মাসের সংখ্যা জানতে পারলাম। কিন্তু সম্মানিত মাসের নাম আমরা জানতে পারি হাদিস থেকে। রসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যেদিন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন, সময় সেদিন যেভাবে ছিল তা আজও তেমনি আছে। বারো মাসে এক বছর। তার মধ্যে চার মাস পবিত্র। যার তিন মাস ধারাবাহিক, যথা : জিলকদ, জিলহজ ও মোহররম আর মুযার গোত্রের রজব যা জমাদিউস সানি ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী (বোখারি)। রজব মাস যেহেতু সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই মাসে আমাদের কিছু করণীয়ও আছে। রজব মাসের করণীয় সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, সম্মানিত মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে; বলো, এতে যুদ্ধ করা ভীষণ অন্যায়। কিন্তু আল্লাহর পথে বাধা দেওয়া, আল্লাহকে অস্বীকার করা, মসজিদুল হারামে বাধা দেওয়া আর এর বাসিন্দাকে তা হতে বহিষ্কার করা আল্লাহর কাছে তার তুলনায় অধিক অন্যায়; ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর অন্যায় (বাকারা)। এই আয়াত থেকে আমরা জানলাম-সম্মানিত মাসের যুদ্ধবিগ্রহ করা ভীষণ অন্যায়। কথা হলো, আমরা তো সাধারণ মানুষ, যুদ্ধের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা নেই, তাহলে এই মাসে আমাদের কি কোনো করণীয় নেই? হ্যাঁ, যুদ্ধ হয়তো আমাদের করতে হয় না। কিন্তু যুদ্ধের কাছাকাছি অনেক কাজ আমরা করি। যেমন : মারামারি, ঝগড়াবিবাদ। এগুলো আমাদের সমাজের খুব পরিচিত মন্দ কাজ। এগুলো সব সময়ই নিষিদ্ধ। বিশেষত সম্মানিত মাসের সম্মানে এই ধরনের মন্দ কাজ থেকে আমাদের সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
সুরা তওবার যে আয়াতে আল্লাহ চারটি সম্মানিত মাসের কথা বলেছেন, সেখানে তিনি এ-ও বলেছেন, ‘সুতরাং এ মাসগুলোর ভিতর তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।’ এর মাধ্যমে রজব মাসের আরেকটি করণীয় সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। সেটা হলো, এ মাসে নিজেদের ওপর জুলুম করা যাবে না। জুলুম মানে শুধু অবিচার নয়, জুলুম মানে পাপাচারও। তাই রজব মাসে সব ধরনের পাপাচার থেকে বিরত থাকতে হবে। এই মাসে আপনি যদি পাপ করেন, তবে আপনার গুনাহের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এই মাসের পাপাচারের ব্যাপারে আমাদের বেশি সতর্ক হতে হবে।
শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৯