বুধবার ৩০ নভেম্বর ২০২২, অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯, ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আজানে নবীজী সাঃ এর নাম শুনে আঙ্গুল চুম্বন বিদআত!

ইদানিং আজানের সময় “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ” শব্দ শুনে আঙ্গুলে চুমু খেয়ে চোখে মোছা বিষয়ে বেশ বিতর্ক চলছে। এ বিষয়ে পরিস্কার ধারণা পেতে অনেকে অনুরোধ করছেন। সেই হিসেবে এ বিষয়ে অল্প সময়ে কিছু তথ্যাদি উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হল।

সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ২৩:৩০

একটি ভুল মাসআলা : দাড়ি লম্বা করার শরয়ী বিধান

শিক্ষা, যা সকল নবীর শরীয়তে ছিল। দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং এক মুষ্ঠি থেকে খাটো করা নাজায়েয। যেহেতু দাড়ি রাখা সকল নবীর পবিত্র রীতি ছিল তাই একে ‘সুন্নত’ও বলা হয়। এতে কারো কারো ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, দাড়ি লম্বা করাও অন্যান্য সাধারণ সুন্নতের মতো একটি সুন্নত। অতএব তা করলে ভালো, না করলেও গুনাহ নেই! এটা একদম ভুল ধারণা। দাড়ি এমন কোনো সুন্নত নয়, যা রাখা-না রাখার স্বাধীনতা রয়েছে, এটা একটা ‘সুন্নতে ওয়াজিবা’। অর্থাৎ সুন্নতে মুয়াক্কাদা থেকেও এর গুরুত্ব বেশি এবং এটা পরিত্যাগ করলে গুনাহ হয়।

বুধবার, ৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫৮

এটা হাদীস নয়

(আমার জন্ম হয়েছে ন্যায়পরায়ণ শাসক নওশেরওঁয়ার যুগে) এই বাক্যটাকে হাদীস মনে করেন এবং এই কথাটাকে সঠিক মনে করেন অথচ এটা একটা ভিত্তিহীন বর্ণনা এবং যেমন মুহাদ্দিস ছনআনী প্রমুখ বলেছেন, এটা একটা মওযূ রেওয়ায়েত। এ প্রসঙ্গে হালীমী রাহ সুন্দর কথা বলেছেন যে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের ও মুশরিককে কীভাবে ‘আদিল’ বলতে পারেন?’

বুধবার, ৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫৬

একটি ভুল চিন্তা : ওজরের হালতে কি মাসআলা নেই?

কারো কারো চিন্তার ধারাই অতি অদ্ভূত। তারা যেন মনে করেন, ওজরের হালতে মানুষ শরঈ বিধিবিধানের অধীন থাকে না। এজন্য তারা একটা নিয়ম বানিয়ে নিয়েছে যে, ‘ওজরের সময় কোনো মাসআলা নেই!’ তাদের ধারণা যেন এই যে, ওজরের কারণে মানুষ সম্পূর্ণ আযাদ হয়ে যায়, কোনো ধরনের নিয়মনীতির অধীন সে থাকে না।

বুধবার, ৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫৫
একটি ভিত্তিহীন কিসসা উম্মুল মুমিনীন খাদিজা রা.-এর কবরের সওয়ালের জ

কোনো কোনো অসতর্ক বক্তাকে বলতে শোনা যায়, যখন খাদিজা রা. ইন্তেকাল করলেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাফন শেষ করে খাদিজা রা.-এর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবু বকর রা. নবীজীকে আসতে বললে নবীজী বললেন, খাদিজা কবরের তিন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না। সে যদি উত্তর দিতে না পারে তাহলে আমি তার পক্ষ থেকে উত্তর দিয়ে দিব।

মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২, ১০:৪৪
ভিত্তিহীন বর্ণনা রবিউল আউয়াল কেন্দ্রিক বানোয়াট আমল ও তার ফযীলত

বার চাঁদের আমল শিরোনামের কিছু পুস্তকে রবিউল আউয়াল মাস কেন্দ্রিক কিছু বানোয়াট আমল ও তার ফযীলত উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলোর একটিতে লেখা হয়েছে- রবিউল আউয়াল মাসে নিম্নোক্তরূপে আমল করলে আল্লাহ পাকের কৃপায় যে কোনো বাসনা সফল এবং অশেষ নিআমত লাভ হয়।

মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২, ১০:৪৩

এটি হাদীস নয় মসজিদে বেশি কথা বললে ফিরিশতারা বলে...

إذَا أَتَى الرَّجُلُ الْمَسْجِدَ فَأَكْثَرَ مِنْ الْكَلَامِ تَقُولُ لَهُ الْمَلَائِكَةُ: اُسْكُتْ يَا وَلِيّ اللهِ، فَإِنْ زَادَ تَقُولُ: اُسْكُتْ يَا بَغِيضَ اللهِ، فَإِنْ زَادَ تَقُولُ: اُسْكُتْ عَلَيْكَ لَعْنَةُ اللهِ. কোনো ব্যক্তি যখন মসজিদে এসে বেশি কথা বলে তখন ফিরিশতারা বলে, হে আল্লাহর ওলী! চুপ কর। যদি আরো বেশি কথা বলে তখন বলে, হে আল্লাহর দুশমন! চুপ কর। তার পরও যদি সে ক্ষান্ত না হয় বলে, তোমার উপর আল্লাহর লানত, চুপ কর।

মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২, ১০:৪১

আরেকটি কুসংস্কার এক সন্তান গর্ভে থাকতে আরেক সন্তানের খতনা করানো য

কিছু মানুষকে প্রশ্ন করতে দেখা যায়, স্ত্রী গর্ভবতী অবস্থায় কি অন্য সন্তানের খতনা করানো যাবে? এতে কি গর্ভের সন্তানের কোনো ক্ষতি হবে? বা  এক্ষেত্রে কি কোনো বিধিনিষেধ আছে?

সোমবার, ৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩:০২

একটি কুসংস্কার যে তারিখে জন্ম সে তারিখে বিবাহ করা যাবে না

কিছু মানুষের ধারণা, যে তারিখে জন্ম সে তারিখে বিবাহ করা যাবে না। তাহলে অমঙ্গল হবে। আসলে এটি একটি কুসংস্কার; যা হিন্দু সমাজ থেকে মুসলিমদের মাঝে ছড়িয়েছে। তাদের অনেকে মনে করে, জন্মের তারিখে এমনকি জন্মের মাসে বিবাহ করলে ব্যক্তির ধনপুত্র নাশ হয়। সে মহাদুঃখে দিনপাত করতে থাকে। এ বিশ্বাস থেকেই তারা জন্মদিনে অথবা জন্মমাসে বিবাহ থেকে বিরত থাকে।

সোমবার, ৭ নভেম্বর ২০২২, ১২:৪৩

ভিত্তিহীন বর্ণনা মুহাররম ও আশুরা কেন্দ্রিক ভিত্তিহীন কিছু বর্ণনা

মুহাররম ও আশুরা কেন্দ্রিক ভিত্তিহীন বিভিন্ন ঘটনা আমাদের সমাজে প্রচলিত। সে বিষয়ে মাসিক আলকাউসারে স্বতন্ত্র প্রবন্ধ লেখা হয়েছে। এ বিভাগেও কিছু বিষয় এসেছে। আজ বার চান্দের ফযীলত জাতীয় পুস্তকের মাধ্যমে সমাজে ছড়ানো মুহাররমের প্রথম দশকের আমল এবং আশুরা কেন্দ্রিক আবিষ্কৃত নামায ও তার ফযীলত বিষয়ক ভিত্তিহীন কিছু বর্র্ণনা তুলে ধরা হচ্ছে।

সোমবার, ৭ নভেম্বর ২০২২, ১২:২৯

সুদ বিহীন ঋণ প্রদান করতে ফি নেওয়া যাবে কি না মাসায়েল

আমি একটি সমিতির পরিচালক। আমাদের একটি কার্যক্রম হল, জনগণকে সুদ বিহীন ঋণ প্রদান করা। কিন্তু ঋণ প্রদানের এ কার্যক্রম আঞ্জাম দিতে আমাদের দাপ্তরিক কিছু খরচ হয়। যেমন-ফাইলপত্র ক্রয়, ফরম ছাপানো, ফটোকপি করা ইত্যাদি। তাই আমরা গ্রাহক থেকে ‘লোন প্রসেসিং ফি’ নামে ৩০/- টাকা নিয়ে থাকি। ঋণের কম-বেশিতে এতে কোনো পরিবর্তন হয় না। জানতে চাই, আমাদের এ ‘ফি’ নেয়াতে কোনো অসুবিধা আছে কি?

বুধবার, ২ নভেম্বর ২০২২, ১৩:১৮

একটি ভিত্তিহীন আমল

জুমাতুল বিদা ও তার বিশেষ নামায জুমাতুল বিদা দ্বারা রমযানের শেষ জুমা  বোঝানো হয়। কোনো কোনো মানুষের ধারণা, এর বিশেষ ফযীলত রয়েছে। তারা এ জুমাকে খুব গুরুত্ব দেয় এবং একে শরীয়ত-নির্দেশিত ফযীলতপূর্ণ দিবস-রজনীর অন্তর্ভুক্ত মনে করে। ফলে তারা এ জুমা আদায়ের জন্য পারতপক্ষে এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদে গমন করে। সাথে সাথে এ জুমায় মুসল্লির সমাগমও বেশি হয়। কিন্তু শরীয়তে জুমাতুল বিদা বলে আলাদা ফযীলতের কিছু নেই। এটি একটি নব আবিষ্কৃত পরিভাষা। এর কোনো বিশেষ ফযীলত কুরআন-হাদীসে পাওয়া যায় না। বরং এটি রমযানের অন্যান্য জুমার মতই ফযীলত রাখে; এর বাড়তি কোনো ফযীলত প্রমাণিত নয়।

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২, ১৪:২৩

একটি কুফরী বাক্য

আল্লাহ আমার সন্তান ছাড়া আর কাউকে দেখল না! মা-বাবার জন্য সন্তানের বিয়োগ-বেদনা অসহনীয়। ফলে সন্তানের মৃত্যুতে কোনো কোনো মা-বাবার মুখ থেকে এমন কথা বের হয়ে যায়, যা কুফরী কথা। যেমন সন্তানের মৃত্যুতে কোনো কোনো মা-বাবাকে বলতে শোনা যায়- “আল্লাহ আমার সন্তান ছাড়া আর কাউকে দেখল না।” মুমিন এমন কথা বলতে পারে না। দ্বীনী জ্ঞান, সহীহ দ্বীনী বুঝ ও ভারসাম্যের অভাবেই মানুষ এমন কথা বলে ফেলে। এটি একটি কুফরী বাক্য, যা আল্লাহর ফয়সালার উপর আপত্তি ও অভিযোগের বাক্য।

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২, ১৪:২০

শব্দের ভুল ব্যবহার

একজন সাহাবা/সাহাবাগণ সাহাবী (صَحَابِيّ) আরবী শব্দ। যিনি মুমিন অবস্থায় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন এবং মুমিন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন তাকেই সাহাবী বলে। সাহাবী শব্দটি একবচন। এর বহুবচন হল, সাহাবা (صَحَابَة)।

সোমবার, ৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৯:২০

একটি ভুল আমল ইস্তেখারার মনগড়া একটি পদ্ধতি

কোনো কাজ করার ইরাদা করলে কিংবা অত্যাসন্ন কোনো বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে তাঁরই দরবারে কায়মনোবাক্যে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রার্থনা করার নাম ইস্তেখারা। অর্থাৎ ইস্তেখারার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করে যে, আমি যা করতে চাই তাতে যদি আমার কল্যাণ থাকে তাহলে তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং বরকত দান করুন। আর যদি তাতে কল্যাণ না থাকে তাহলে তা থেকে আমাকে বিরত রাখুন এবং যাতে আমার কল্যাণ তা-ই আমাকে দান করুন। এটিই হল ইস্তেখারার হাকীকত।

সোমবার, ৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৯:১৩

একটি ভুল চিন্তা : ওজরের হালতে কি মাসআলা নেই?

কারো কারো চিন্তার ধারাই অতি অদ্ভূত। তারা যেন মনে করেন, ওজরের হালতে মানুষ শরঈ বিধিবিধানের অধীন থাকে না। এজন্য তারা একটা নিয়ম বানিয়ে নিয়েছে যে, ‘ওজরের সময় কোনো মাসআলা নেই!’ তাদের ধারণা যেন এই যে, ওজরের কারণে মানুষ সম্পূর্ণ আযাদ হয়ে যায়, কোনো ধরনের নিয়মনীতির অধীন সে থাকে না।

রোববার, ৩০ অক্টোবর ২০২২, ১৮:৩৭