বৃহস্পতিবার ০৭ জুলাই ২০২২, আষাঢ় ২২ ১৪২৯, ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

টিপ: সাংস্কৃতিক কেলেঙ্কারির ছবি

ঘটনাটির সূচনা ২ এপ্রিল সকালে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ব্যস্ত রাজপথে। অভিযোগকারিণীর একতরফা বয়ানের ভাষা ছিল; রাস্তায় দাঁড়ানো অবস্থায় হুট করে পাশ থেকে এসে একজন দাঁড়িওয়ালা বয়স্ক লোক তাকে বলল- ‘তুই টিপ পরছোস কেন?’ শেরেবাংলানগর থানায় মহিলা যে জিডিটি করেছেন সেখানেও তার ভাষা ও ভাষ্য এমনই ছিল। এমনকি গণমাধ্যমগুলোর শিরোনাম কিংবা সূচনা বিবরণীতেও (ইন্ট্রো) এজাতীয় শব্দই এসেছে। সঙ্গে এ-ও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত লোকটি বাইক চালাচ্ছিলেন এবং তার গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ২৩:২০

শেখ সাদীর গুলিস্তা

পূর্বযুগের এক বাদশাহ জনৈক বুযুর্গকে করেন জিজ্ঞাসা, যার ছিলো অনেক পোষ্যমুখ, আর মনে ছিলো অনেক চিন্তাদুঃখ। জিজ্ঞাসা করেন, আপনার জীবনের প্রিয় সময়গুলো হে জনাব, কীভাবে কাটে দেবেন কি জবাব? তিনি বললেন, সারা রাত কাটে ইবাদত বন্দেগিতে, ভোর রাত কাটে রিযিকের দু‘আ-মুনাজাতে, আর সারাটা দিন যায় রুটি-রুযির ধান্ধায়। বাদশাহর অতি উচ্চ ছিলো চিন্তাধারা, তাই তিনি বুঝে নিলেন তার কথার ইশারা এবং তখনই জারি করলেন হুকুমনামা, দান করো তাকে নতুন জামা-পাজামা, আর জারি করে দাও প্রতি মাসের পর্যাপ্ত ভাতা, যাতে চিন্তুামুক্ত হয়ে সিজদায় পড়ে থাকে তাঁর মাথা। কবিতা- পরিবারের শেকলে বাঁধা তুমি সকাল-বিকাল/ঝেড়ে ফেলো নিশ্চিন্ত ইবাদতের খোশ খেয়াল/ রুটি-রুজির চিন্তা করে যার শান্তিহরণ/ঊর্ধ্বজগতে কেমন করে হবে তার বিচরণ?/ একই ঘোরে নিত্য যে ঘুরি, আর বলি হে মন/ আজ নিশিতে নির্জনে খোদারে করিব স্মরণ/ নিশিতে নামাযে দাঁড়িয়ে হায়, ভাবনা এসে যায়/ সন্তানেরা মোর কী খাবে ভোরে, কী হবে উপায়? শিক্ষা- যারা ইবাদত বন্দেগির স্বাদ পেতে চায়, তাদের কর্তব্য হলো সংসারের ঝামেলায় বেশীমাত্রায় নিজেকে লিপ্ত না করা।

শনিবার, ২১ মে ২০২২, ২৩:০১

সওম ও রমযানের শিক্ষা অক্ষয় হোক আমাদের জীবনে

মাহে রমযান আমাদের জন্য আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নিআমত ছিল। এ মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে। সওম ও তারাবীর বিশেষ বিধানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর নৈকট্য অর্জনের উপায় নির্দেশ করেছেন। তাকওয়ার শিক্ষার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে নাজাত পাওয়ার পথনির্দেশ দান করেছেন। আন্তরিকতার সাথে চিন্তা করলে বোঝা যাবে, এইসকল বিষয়ের সমন্বয়ে মাহে রমযান সত্যি সত্যি আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি ছিল। এই মাস আমাদের মধ্য থেকে বিদায় নিয়ে গেছে। মানুষের জানা নেই, আগামী রমযান পর্যন্ত কারা কারা বেঁচে থাকবেন। কাজেই এই নিআমতের শোকরগোযারির পাশাপাশি এর প্রভাব কীভাবে আমাদের কর্ম ও জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে- এই চিন্তা করাটা আমাদের কর্তব্য।

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ১৬:৩৮

মাহে রমযানের পর আমাদের জীবনে আসুক আল্লাহর ভয়

এবারের মাহে রমযান বিভিন্ন দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এবং তজ্জনিত নানা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। আমাদের দেশেও সর্বত্র এখনো একটি ভীতির আবহ বিরাজ করছে। এক আশ্চর্য মৃত্যুভীতিতে যেন কুঁকড়ে গেছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু এই ভয়-ভীতির পরিবেশেও মাহে রমযানের জুমা-তারাবীতে মসজিদে মসজিদে বিপুল মুসল্লীর সমাগম ছিল। নিঃসন্দেহে এই দেশের জন্য এটা অত্যন্ত ইতিবাচক ব্যাপার। আল্লাহ তাআলা এই দেশ ও দেশের নাগরিকদের রক্ষা করুন। তিনিই একমাত্র রক্ষাকর্তা।

শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২, ০৫:৩৯
বিদায় রমযান, বিদায় ঈদ

রমযান মাস পুরোটাই কল্যাণ ও বরকতের মাস; এই মাস মেঘমালার মতো আল্লাহর বান্দাদেরকে শীতল ছায়া দান করছিল; মেহরাবগুলোতে হাফেয সাহেবদের সুমধুর তেলাওয়াত, যা মূলত মুমিনের উদ্দেশ্যে রাহমানুর রাহীমের আহবান, হৃদয় ও মস্তিষ্কে আলো দান করছিল; যিকির ও দুআ এবং তেলাওয়াত ও তাহাজ্জুদ, অন্তরকে আল্লাহর নৈকট্যের অনুভূতিতে সিক্ত করছিল এবং চোখ থেকে খোদাভীতির অশ্রু ঝরাচ্ছিল।

শুক্রবার, ৬ মে ২০২২, ১৪:৪৬
কেমন হবে রমযান পরবর্তী জীবন?

রমযান হল ঈমান-আমলের উন্নতি ও তাকওয়া হাসিলের এক মোক্ষম সময়। এটি পুরো বছর গুনাহ বর্জন, ইবাদতের শক্তি সঞ্চয় ও আত্মিক পাথেয় সংগ্রহের এক মহা সুযোগ। ঐ ব্যক্তিই রমযান হতে কাক্সিক্ষত সুফল ও উপকার গ্রহণ করতে পারল, যে নিজের জীবনকে পরিবর্তন করতে পারল। রমযান হতে অর্জিত পাথেয় নিজের জীবনে ধারণ করতে পারল। হতে পারল মুত্তাকী- যে কিনা আল্লাহর আনুগত্য ও তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ৫ মে ২০২২, ১৬:৩১

রোজা ও রমজান: পর্ব-৪৪: ইতিকাফ পালন ও কিছু প্রাসঙ্গিক কথা

ইতিকাফঃ ইতিকাফ-এর শাব্দিক অর্থ কোন এক স্থানে অবস্থান করা। আর কুরআন-সুন্নাহর পরিভাষায় ইতিকাফ বলা হয় কতকগুলো বিশেষ শর্তসাপেক্ষে একটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করা। রমযানের শেষ দশকের সুন্নত ইতিকাফ শুরু হয় রমযানের ২০ তারিখে সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পূর্ব থেকে। তা সমাপ্ত হবে রমযানের শেষ সময়ে। পুরুষের জন্য মসজিদে এবং মহিলাদের জন্য নিজ গৃহে সালাতের নির্ধারিত স্থানে ইতিকাফ করতে হয়। 

বুধবার, ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০৯:২৭

রোজা ও রমজান: পর্ব-৪৩: লাইলাতুল কদরের ফযিলত

লাইলাতুল কদরের অনেক ফযিলত রয়েছে। এর মধ্যে এখানে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি ফযিলতের কথা উল্লেখ করছি- ১. এই রাত্রিতে মহাগ্রন্ত্র আল-কুরআন নাযিল করা হয়েছে।  إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ‘একে নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে।’ হযরত ইবনে আব্বাস (রাদি.)-সহ প্রমুখ সাহাবী হতে বর্ণিত আছে যে, লাইলাতুল কদরে সমগ্র কুরআন লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে নাযিল করা হয়েছে। তারপর বিভিন্ন ঘটনার পরিপেক্ষিতে সুদীর্ঘ তেইশ বছরে ধীরে-ধীরে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উপর অবতীর্ণ করা হয়েছে। ইবনে কাছির,  সূরায়ে কদরের ব্যাখ্যা।

বুধবার, ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০৯:২২

রোজা ও রমজান: পর্ব-৪২: লাইলাতুল কদরের আমল

লাইলাতুল কদরে আমলের কোনো বিশেষ পদ্ধতি নাই। কারণ এগুলো নফল আমল। অতএব যার যত ইচ্ছা সে ততই বেশি আমল করতে পারেন। তবে আল্লাহর প্রিয় বান্দা বা ওলীগণের নিয়ম হল, তারা রাতে যে পরিমাণ সময় জাগ্রত থাকতে পারবেন সে সময়কে আমলের জন্য তাঁরা তিনভাগ করে নিতেন। 

মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০২২, ২৩:২৫

রোজা ও রমজান: পর্ব-৪১: লাইলাতুল কদরের নিদর্শন

লাইলাতুল কদর অবশ্যই অনির্দিষ্ট। তবে এর কিছু সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। তা আমরা আলোচনা করেছি। আর সেই সম্ভাব্য তারিখ বোঝার জন্য কয়েকটি নিদর্শনও বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০২২, ০০:৫৬

রোজা ও রমজান: পর্ব-৪০: লাইলাতুল কদর’ অনির্দিষ্ট রাখার রহস্য

হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রাদি.) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে ‘লাইলাতুল কদর’ সম্পর্কে খবর দেয়ার জন্য বের হয়ে আসলেন। কিন্তু তিনি বের হয়ে দেখলেন যে, দু’জন মুসলমান পরস্পরে ঝগড়া করছে। তিনি এই অবস্থা দেখে বললেন: ‘আমি তোমাদেরকে ‘লাইলাতুল কদর’ সম্পর্কে সংবাদ দিতে এসেছিলাম। কিন্তু অমুক আর অমুকের ঝগড়ার কারণে ঐ রাত্রির বিষয়টি আমার স্মৃতি থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। সম্ভবতঃ এর মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০২২, ০০:৫৩

রোজা ও রমজান: পর্ব-৩৯: লাইলাতুল কদর’ কখন?

‘লাইলাতুল কদর’ কখন? এ ব্যপারে বিভিন্ন অভিমত পাওয়া যায়। যেমন-  ১. বছরের যে কোন দিনঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদি.) এবং ইরাকের কুফা নগরীর আলেমদের মতে ‘লাইলাতুল কদর’ সারা বছরে একটি এবং তা যে কোন মাসেই থাকার সম্ভাবনা আছে।  ২. রমযানুল মুবারকের পুরো মাসে ‘লাইলাতুল কদর’ থাকার সম্ভবনা রয়েছে। ৩. ইমাম গাযালি (রহ.) বলেছেন, রমযানের প্রথম রাত্রিই লাইলাতুল কদরের রাত্রি। (ইবনে কাছির, সূরায়ে কদরের ব্যাখ্যা।) ৪. রমযান মাসের একুশতম রাত্রি হলো ‘লাইলাতুল কদর।’  ৫. রমযানের তেইশ তারিখ।     ৬. রমযানের চব্বিশ তারিখ। 

সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০২২, ১৫:৩১

রোজা ও রমজান: পর্ব-৩৮: লাইলাতুল কদরের ইতিহাস

লাইলাতুল কদরের ইতিহাসঃ (ক) মুসনাদে ইবনে আবী হাতিমে হযরত মুজাহিদ (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বনি ইসরাঈলের এক ব্যক্তির আলোচনা করলেন। বললেন ঐ ব্যক্তি হাজার মাস পর্যন্ত অবিরাম আল্লাহর  রাস্তায় অস্ত্র ধারণ করেছিলেন। কখনও অস্ত্র সংবরণ করেননি। অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি একনাগারে এক হাজার মাস পর্যন্ত জিহাদে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। সাহাবারা একথা শুনে বিস্মিত হলেন।

শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২, ১২:৪৬

রোজা ও রমজান: পর্ব-৩৭: লাইলাতুল কদর কি ও কেন?

লাইলাতুল কদরের নাম করণের কারণ ও কিছু প্রাসঙ্গিক কথাঃ  ‘লাইলাতুল কদর’ এখানে মূলত দু’টি শব্দ। ‘লাইলাতুন’ অর্থ রাত। আর ‘কদর’ অর্থ ‘মহিমান্বিত, সম্মান ও ভাগ্য।’  সুতরাং ‘লাইলাতুল কদর’ অর্থ ‘মহিমান্বিত রাত।’ কদরের আরেক অর্থ তাকদীর। এ রাত্রিতে পরবর্তী এক বছরের জন্য অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থা প্রয়োগকারী ফিরিশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিযিক, বৃষ্টি, ইত্যাদির পরিমাণ নির্দিষ্ট ফিরিশতাগণকে লিখে দেয়া হয়।

শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২, ১২:৪৪

রোজা ও রমজান: পর্ব-৩৬: রোজা সম্পর্কে ২২ টি জিজ্ঞাসার জবাব (১২-২২)

১২ নং প্রশ্নঃ একাধিক বছরে স্বেচ্ছায় পানাহার করে সিয়াম ভেঙ্গে ফেললে কাফফারা হিসেবে কতটি সিয়াম পালন করতে হবে? উত্তরঃ একাধিক বছরে সেচ্ছায় পানাহার করে একাধিক সিয়াম ভেঙ্গে ফেললে, একাধিক বছরের জন্য একটি কাফফারাই যথেষ্ট হবে। এর জন্য পৃথক পৃথক কাফফারা দিতে হবে না। তবে সকল সিয়ামের কাযা আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়া শামী, ২/৪১৩; বাদায়েউস সানায়ে, ২/১০১; আহসানুল ফাতাওয়া, ৪/৪৩৪; সমকালীন জরুরী মাসায়েল, পৃ.-৮৫)

শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২, ১২:৩৮

রোজা ও রমজান: পর্ব-৩৫: রোজা সম্পর্কে ২২ টি জিজ্ঞাসার জবাব (০১-১১)

০১ নং প্রশ্নঃ যে সব দেশে প্রায় ছয় মাস রাত এবং ছয় মাস দিন থাকে সেখানে সিয়াম পালনে ইসলামের বিধান কী? এমনিভাবে যেখানে ২৪ ঘন্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় রাত বা দিন হয় সেখানে কিভাবে সিয়াম পালন করবে? উত্তরঃ যে সব দেশে প্রায় ছয় মাস রাত এবং ছয় মাস দিন থাকে, কিংবা যেখানে ২৪ ঘন্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় রাত বা দিন হয় সেখানেও নিঃসন্দেহে সিয়াম পালন করা ফরয।

শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২, ১২:৩৪