সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২, মাঘ ১১ ১৪২৮, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আসাম: এ যেন গণহত্যার এক লীলাভূমি

ব্রহ্মপুত্র নদীর একটি শাখা হল, সুতা নদী। এই নদীরই একটি পাড়ে কিছু মুসলমানের বসবাস। গ্রামের নাম ধোলপুর, জেলার নাম দরং। ২৩ সেপ্টেম্বর এই ধোলপুরেই ঘটে যাওয়া বিভৎস হত্যাকা- সারা পৃথিবীকে হতভম্ব করে দেয়। একটি শিবমন্দিরকে সম্প্রসারণের কথা বলে আসাম সরকার এ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছিল। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছিল। সেখানেই পুলিশ গুলি চালায়। এতে অন্তত দুজন নিহত হয়। আহত হয়েছে আরও অনেক।

শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:২৭

র‍্যাগিং: শিক্ষাঙ্গণে অপরাধ ও অশ্লীলতার দাগ!

ঈমান ও দ্বীনের সৌন্দর্যই জীবনের সৌন্দর্য। শিক্ষাদীক্ষা, আচার-আচরণ, আমল-আখলাক সব ক্ষেত্রে এই সৌন্দর্যের পরিচর্যা ও যত্নশীলতা মুমিনের জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। মুমিনের জীবনে উভয় জগতের (দুনিয়া-আখেরাত) সাফল্য নিয়ে আসে এই ঈমানী ও দ্বীনী সৌন্দর্য। সতর্ক, বুদ্ধিমান ও সুপথের পথিক ঈমানদারদের জীবনের পথচলা হয়ে থাকে এই সৌন্দর্যের পথেই। তবে ইবলিসের হাতছানি ও শয়তানী আহ্বানে এই সুস্থ দ্বীনী সৌন্দর্যের সঙ্গে সবসময় সব মুসলমান যুক্ত থাকার সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন না। বরং একটি শ্রেণী নানাভাবে ঈমানী রাহনুমায়ী ও দ্বীনের পথ থেকে নিজেদের জীবনচর্চাকে দৃষ্টিকটূভাবে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। এবং অনেক সময় দ্বীনী সৌন্দর্য থেকে তাদের এই দূরত্বের মুঃখটা শুধু তাদের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে না, বরং জীবনের দৃষ্টিকটূ অসৌন্দর্যগুলো তারা অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার বেদনা তৈরি করে। জোর, চাপ ও অসহিষ্ণুতার মধ্য দিয়ে অশ্লীলতা ও অপরাধের দাগ তৈরিতে উদ্যোগী ও উৎসাহী কর্মীর ভূমিকা পালন করতে লেগে যায়। এসব উদ্যোগ ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে জীবনে ঈমান ও দ্বীনের সৌন্দর্য থেকে সে নিজে কেবল দূরে থাকা বা বঞ্চিত হওয়ার পরিস্থিতির মধ্যে নিজেকে নিয়ে যায় না, বরং অন্য বহু মানব-মানবীর জীবনেও অশালীনতার বিষ ছড়িয়ে দিয়ে যায়। । দুই। জীবনে ঈমানী ও দ্বীনী সৌন্দর্যের অন্যতম বিষয় হচ্ছে, শালীনতা। কথাবার্তা, পোশাক-আশাক, চলাফেরায় শ্লীলতা, শালীনতা ও লজ্জাশীলতা ধরে রাখাই মুমিনের জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোনো মুসলিম-সমাজে এই শালীনতা ও যৌন সুস্থতার বিষয়ে একসময় আলাদা করে কোনো কথা বলতে হতো না। দ্বীনের সঙ্গে ন্যুনতম সম্পর্কের সূত্র হিসেবেই শিক্ষিত-শিক্ষাবঞ্চিত সব শ্রেণির মুসলমান জীবন-শালীনতার এই সৌন্দর্য ধরে রাখতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ইবলিসি আধুনিকতা, বেহায়া তথ্যস্রােত এবং দুষ্ট জীবনচর্চার অংশ হিসেবে ঘরে-বাইরে, পথে-ঘাটে, ক্যাম্পাসে এই অশালীনতার চর্চা শুরু হয়েছে। এবং একই সঙ্গে চর্চা হচ্ছে নানারকম জুলুম, উৎপীড়ন ও নির্যাতনের। পশ্চিমা জীবনজগত থেকে আমদানি করা র‌্যাগিং-র‌্যাগ-ডের নামে এসব অশ্লীল ও উৎপীড়ক জীবনচর্চা অতি উৎসাহে ক্ষেত্র বিশেষে মূল ভূখন্ডের চেয়েও বিকুত রূপে চালানো হচ্ছে এদেশে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে নানারকম জুলুমের উপাদান। র‌্যাগ-ডে ও র‌্যাগিংয়ের নামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানারকম উৎপীড়নমূলক ঘটনার খবর আগে থেকেই আসতো। সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি মফস্বলের কলেজগুলো থেকেও এ জাতীয় ঘটনার খবর গণমাধ্যমে আসছে। আর এর সঙ্গে বড় হয়ে আসছে নানারকম অশ্লীল উক্তি, কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও লেখাজোখার বিভিন্ন চিত্র। দৃশ্যটা এমন হয় যে মনে হতে থাকে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তরুণ-তরুনীদের মধ্যে এরকম অশ্লীলতার চর্চা চারপাশের অভিভাবকরা যেন স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিচ্ছে। যেন আধুনিক উচ্চ শিক্ষা ও সময়ের বিবর্তনে এরকম অশালীনাতার চর্চা (র‌্যাগ ডে-র নামে) এটা তেমন কোনো মন্দ বিষয় নয়। জীবনের সৌন্দর্য ও সুস্থতা বিঘিœত হওয়ার মতো কোনো উপাদান এতে নেই। অথচ বাস্তবতাটা তো এরকম না। কারণ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা ইরশাদ করেন- اِنَّ الَّذِیْنَ یُحِبُّوْنَ اَنْ تَشِیْعَ الْفَاحِشَةُ فِی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِ وَ اللهُ یَعْلَمُ وَ اَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ. নিশ্চয়ই যারা চায় মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না। -সূরা নূর (২৪) : ১৯ আল্লাহ তাআলার এই বাণী এবং এই বাণীর মধ্যে যে ভয়াবহ শাস্তির সতর্কবার্তা রয়েছে তা যেন আমাদের আধুনিক শিক্ষাপিঠের অভিভাবকেরা অনুধাবন করেন। । তিন। র‌্যাগ-ডে ও র‌্যাগিংয়ের নামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা উৎপীড়নমূলক ঘটনার খবর গত কয়েক বছরে দেশব্যাপী ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। এসব র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় অনেক তরুণ-তরুনীর জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও দেখা যাচ্ছে, কখনো কোনো রাজনৈতিক শক্তির সহযোগিতায় কখনো কোনো সাংস্কৃতিক রীতির দোহাই দিয়ে এ- জাতীয় উৎপীড়নধর্মী অনুষ্ঠানে একশ্রেনির ছাত্র-শিক্ষক উৎসাহী ভূমিকা রাখছেন। কেউ কেউ সংবাদপত্রে কলাম লিখে জানাচ্ছেন, র‌্যাগ-ডে মূলত কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রদের বিদায় অনুষ্ঠানের দিন। এ উপলক্ষে কিছু দেখা-সাক্ষাত, মজা-ফূর্তি করার আয়োজন থাকে। র‌্যাগ-ডে মৌলিকভাবে অতো খারাপ কিছু না! অপরদিকে গত নভেম্বরে নেত্রকোনা অঞ্চলের একটি সরকারি কলেজে র‌্যাগ-ডে পালন করতে না দেওয়ায় কলেজে গিয়ে ক্ষুব্ধ ছাত্ররা বিভিন্ন আসবাবপত্র কুপিয়ে নষ্ট করেছে বলে সংবাদপত্রে খবর এসেছে। অনেকটা নেশায় আসক্ত তরুণদের মতো কাজ করেছে এরা। উৎপীড়ন ও অশ্লীলতার বাহক র‌্যাগ-ডে পালন করতে না দেওয়ায় নিজেদের কলেজে গিয়ে কোপানো ও ভাংচুরের মহড়া দিয়ে গোটা দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। র‌্যাগ-ডে কেন্দ্রিক এসব অস্থিরতা-উত্তেজনা, ক্ষোভ এবং এজাতীয় ঘটনাপ্রবাহ একটি তিক্ত বাস্তবতাকে চোখের সামনে নিয়ে আসে। সেটি হচ্ছে, র‌্যাগিংয়ের মধ্য দিয়ে অশালীনতা-উৎপীড়নকে শিক্ষাঙ্গনের সহজাত বিনোদন কার্যক্রম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রকাশ্য চেষ্টা ও মনোভাব বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিদ্যমান। একইভাবে এ-জাতীয় উৎপীড়ন, জুলুম-নির্যাতনের ঘটনাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা ও দেখানোর মতো মানসিকতাও সমাজে সক্রিয়। অশ্লীলতার বাইরে কেবলমাত্র এই জুলুমের ঘটনাও একটি ভয়ংকর ব্যাপার। স্বাভাবিক পরিসরে, ছোট-বড় শিক্ষাঙ্গনে। হযরত লুকমান আ. তার ছেলেকে যে উপদেশ দিয়েছেন তার একটি বর্ণনা কালামুল্লাহ শরীফে- وَ لَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَ لَا تَمْشِ فِی الْاَرْضِ مَرَحًا اِنَّ اللهَ لَا یُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ. এবং মানুষের সামনে (অহংকারবশত) নিজের গাল ফুলিও না এবং মাটিতে সদম্ভে চলো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দর্পিত অহংকারীকে পছন্দ করেন না। -সূরা লুকমান (৩১) : ১৮ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- اتّقُوا الظّلْمَ، فَإِنّ الظّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. তোমরা জুলুম/সীমালংঘন/অত্যাচার করাকে ভয় করো। কারণ, কিয়ামতের দিনে জুলুম হবে অনেক অন্ধকার। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৭৮ এই জুলুম ও উৎপীড়নে যুক্ত হওয়া এবং শিকার হওয়ার হাত থেকে তরুণ-তরুণী শিক্ষার্থী নতুন প্রজন্মকে বাচানোর পদক্ষেপ নেওয়ার বড় দায়িত্ব অভিভাবকদের। এক্ষেত্রে ঘর ও বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। রাষ্ট্রের অভিভাবকরাও চোখ খুলতে পারেন মন চাইলে। । চার। সুস্থ জীবন ও জীবন সৌন্দর্য থেকে সরে যাওয়ার উপায়-উপলক্ষ সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। হাটে-ঘাটে, চলার পথে, ঘরে-কার্যালয়ে এবং ব্যক্তি জীবনের নিভৃতে অ-সুস্থতা ও গোনাহর হাতছানি এখন অনেক বেশি সক্রিয় ও বিস্তৃত। নফস ও ইবলিসের বাহ্য শক্তির চকমকা প্রভাব এমনিতেও একটু বেশি হয়ে থাকে। এবং একইভাবে এ-জাতীয় দুষ্ট হাতছানি যেমন তরুণ-তরুনীদের মাঝে চলে, তেমনি যুবক ও মধ্যবয়সী এমনকি জীবচনের পড়ন্ত বেলার মানুষদের মধ্যেও আল্লাহর স্মরণ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখার আয়োজনের নানা রূপ নখদাঁত বিকশিত করে আছে। এমন একটি সময়ে মুসলিম সমাজের বৃহত্তম নতুন প্রজন্মের বিদ্যাপিঠগুলোতে অশ্লীলতা ও জুলুমের বিস্তারকে ‘সয়ে যাওয়ার’ চোখে দেখতে থাকা বড়দের জন্য দায়িত্বশীল কোনো জীবন-অবস্থান হতে পারে না। নানা রকম অশ্লীলতা ও অপরাধের উসকানি যারা দেয় এবং যারা উদ্যোগী হয়ে এসব অপকর্মে নিজেরা যুক্ত হয়ে অন্যদেরও শিকার বানায়, তারা তো অবশ্যই অপরাধী। যারা অভিভাবকত্বের জায়গায় অবস্থান করে এসব অপকর্ম ও অ-সুস্থতার নতুন নতুন প্রচলন ও প্রতিষ্ঠাকে নীরবে সহ্য করে ‘সহযোগিতা’ৎ করে, তারাও কম অপরাধী নন। কারণ দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এভাবে জোর করে চাপিয়ে এবং চালিয়ে দেওয়া অসভ্যতার গতি রোধ করে দিলে ভুল ও বর্জনযোগ্য একটি রেওয়াজ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জায়গা পেতে পারে না। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً، فَلَهُ أَجْرُهَا، وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ، وَمَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةً، كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোনো সুন্দর ধারা চালু করলো পরে লোকেরা সে সুন্দর ধারা অনুযায়ী কাজ করলো, সেই ব্যক্তি পরবর্তীদের আমলের সমান সওয়াব পাবে; যতিও পরবর্তীদের সওয়াবের কোনো ঘাটতি হবে না। এবং যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে মন্দ কোনো ধারা চালু করলো, পরে লোকেরা সে মন্দ ধারা অনুযায়ী কাজ করলো, সেই ব্যক্তির আমলনামায় পরবর্তীদের গোনাহে কোনো হ্রাস ঘটানো ছাড়াই তাদের গোনাহের দায় লেখা হবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০১৭ নৈতিক অপরাধ, জুলুম ও অ-সুস্থতা জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে দুনিয়া এবং আখেরাতে। এ ধরনের পাপে ব্যক্তিগত যুক্ততা কিংবা অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার দায় আরো মারাত্মক রকম ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত নতুন নতুন মন্দকর্মের প্রচলনের বিষয়কে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করা সবার দায়িত্ব। আমাদের নিজেদের জন্য, নতুন প্রজন্মের জন্য এবং সমাজের সুস্থ জীবনচর্চা ও জীবন-সৌন্দর্যের জন্য এসব নেতিবাচক বিষয়ের শুদ্ধির বিষয়ে আমাদের উদ্যোগী হওয়া আমাদের ভবিষ্যতকে কল্যাণময় করবে ইনশাআল্লাহ। শুধু র‌্যাগ -ডে বা র‌্যাগিংয়ের ঘটনা নয়, শুধু অশ্লীলতার সামাজিক চর্চা কিংবা ক্যাম্পাস-উৎপীড়ন নয়; সমাজের বিভিন্ন কোনায় কোনায়, বিভিন্ন অলিতে-গলিতে চালু করা মন্দের স্রাতে নির্জীব করে দিয়ে নেকির বাতাস বেগবান করার চেষ্টা করাই মুমিনের কাজ, মুমিনের সৌভাগ্য। ঈমান ও দ্বীন কেন্দ্রিক সুস্থতা এবং এর সৌন্দর্য ছাড়া মুমিনের জীবন সুন্দর পরিণতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। সেজন্যই ছোট-বড়, সমাজের যে স্তর থেকেই জীবন-সৌন্দর্যের জন্য হানিকর কোনো উপাদান এসে যুক্ত হতে চাইলে তাকে থামিয়ে দেওয়া এবং রুখে দেওয়া অপরাপর সব সুস্থ মুমিনের দায়িত্ব হয়ে যায়।

শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:০৭

আল্লাহ তাআলা অবকাশ দেওয়ার পর

ভূস্বর্গ কাশ্মীর যুগ যুগ ধরে রক্ত, লাশ, শোক আর বেদনায় ডুবে আছে। এখানকার টকটকে লাল রক্ত বিচারহীনতায় ভুগতে ভুগতে কালচে হয়ে উঠেছে। কাশ্মীর এমন এক উপত্যকা, যেখানে খুনের বিচার হয় না। সেখানে লাশটুকু ফেরত পেতেই মিছিল করতে হয়। শোক এখানে এতটাই গাঢ় হয়ে আছে যে, মানুষগুলো পাথর হয়ে গেছে। বেদনা তাদেরকে এতটাই নীল করে ফেলেছে যে, তারা আর আত্মভোলা স্বজাতীর কাছে সাহায্য প্রত্যাশা করে না। নিজেদের সংগ্রাম, নিজেদের ভাগ্য তারা এখন খোদার কাছ থেকেই চেয়ে নেয়। দ্রোহের আগুন গেরুয়া পরা জালিমদের এখনো জ্বালিয়ে ছারখার করতে না পারলেও আসমানী কিছু ফায়সালা কখনো কখনো তাদের জন্য সান্ত্বনা হয়ে আসে। সেই সান্ত্বনাকে পুঁজি করে তারা আবার দ্রোহের আগুন প্রজ্বালিত করে। প্রাণে কতটুকু শক্তি থাকলে ছাইচাপা আগুন আবার জ্বলে ওঠে।

বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:৩৩

মদ খাইয়ে মাদক বন্ধ হবে না

শনিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ২৩:১৫
করোনা থেকে পরিত্রাণের প্রকৃত উপায়

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বান্দাদের উপর যেসব আমল ফরয করেছেন, এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হল তওবা। তওবা অর্থ হল, তাঁর দিকে ফিরে আসা। এটা আল্লাহর সকল বান্দাদের উপর ফরয। মুসলিম-অমুসলিম সবার উপরে ফরয।

বুধবার, ১২ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:১৬
কাদিয়ানী এবং অন্যান্য কাফেরের মধ্যে পার্থক্য

আমাদের অনেক ভাইয়ের মনেই প্রশ্ন, পৃথিবীতে কাদিয়ানীদের মতো অমুসলিম তো আরও কত আছে। ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু অমুক তমুক আরও কত। কিন্তু কাদিয়ানীদের প্রতিহত করার জন্য যেমন স্বতন্ত্র সংগঠন ও দল রয়েছে অন্যান্য কাফেরদের প্রতিহত করার জন্য তো এমন স্বতন্ত্র ও বৈশ্বিক কোনো সংগঠন নেই। তাহলে হযরত আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রাহ. থেকে শাইখুল ইসলাম মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ বানূরী রাহ. পর্যন্ত এবং আমীরে শরীয়ত সায়্যিদ আতাউল্লাহ শাহ বুখারী রাহ. থেকে হযরত মাওলানা মুফতী মাহমূদ রাহ. পর্যন্ত সকল আকাবির কাদিয়ানীদের বিষয়ে কেন এত গুরুত্ব দিলেন? কাদিয়ানী এবং অন্যান্য অমুসলিমের মধ্যে পার্থক্য কী?

মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারি ২০২২, ২১:১০

কাদিয়ানী ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণের ঈমানদীপ্ত বিবরণ

[৪ঠা জুন ২০০৪ তারিখে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ রেলওয়ে কলোনি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাযে উপস্থিত মুসল্লিদের মজমায় খ্যাতিমান আলেমে দ্বীন, জনাব মাওলানা তারেক মাহমুদ-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন কাদিয়ানী ধর্মমত থেকে তওবাকারী রানা মুহাম্মাদ রফিক খান। তার ইসলাম গ্রহণের বৃত্তান্ত ও কাদিয়ানী ধর্মমতের বিভিন্ন দিক সম্পর্কিত এ মূল্যবান সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন জনাব নাসির আহমদ আযাদ। বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান এবং বিশেষকরে কাদিয়ানী ফেতনায় আক্রান্ত ভাইদের প্রতি কল্যাণকামিতা থেকে সাক্ষাৎকারটির বাংলা অনুবাদ কিছু প্রয়োজনীয় টীকাসহ এখানে পত্রস্থ করা হল। -অনুবাদক]

রোববার, ৯ জানুয়ারি ২০২২, ১০:০৪

সং স্কৃ তি: সংস্কৃতির নামে ভুল পদক্ষেপ চলছেই

সংস্কৃতির নামে হঠাৎ উন্মাদনার এক অদ্ভুত সময় চলছে দেশে। গত দেড় দশক ধরে এমন উন্মাদনাময় সংস্কৃতির উত্তেজনায় মাঝে মাঝেই দেশ কেঁপে উঠেছে। কখনো থার্টি ফার্স্ট নাইট, কখনো ভালবাসা দিবসের নামে বহু ছোট-বড় ঝড় বয়ে গিয়েছে। গত ক’বছর যাবত শুরু হয়েছে পয়লা বৈশাখের নামে নতুন তুফান। পয়লা বৈশাখের উদযাপনের নামে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে যা যা ঘটে থাকে তার সবকিছুর পেছনে বাঙালী সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের নাম ভাঙ্গানো হয়। কিন্তু ঘটানো হয় এবং ঘটে যায় নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা।

শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ২০:৪৭

আগামী বছর (২০২২) বাংলাদেশিরা হজে যেতে পারবেন: সৌদি রাষ্ট্রদূত

সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত এসসা ইউসেফ এসসা আল দুহাইলান বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী বছর থেকে বাংলাদেশের নাগরিকরা হজে যেতে পারবেন।

শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০৮

স্বাধীনতা সুরক্ষাই বিজয়ের প্রাণ

যে কোনো বড় বিষয় অর্জন করা কঠিন কাজ। কিন্তু অর্জিত বিষয়টিকে রক্ষা করা তার চেয়েও কঠিন, গুরুত্বপূর্ণ ও দরকারি কাজ। এই নীতিটি যদি আমাদের স্বাধীনতার সঙ্গে, রাষ্ট্রের অর্জিত স্বাধীনতা ও স্বাধীন অস্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় তাহলে সেটি আরও জোরালোভাবে ধরা পড়ে। অর্জিত স্বাধীনতা ও বিজয়ের চল্লিশ বছর পূর্তিকালে অর্জনকে রক্ষা করার বিষয়টি মিলিয়ে দেখা এবং এর প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।

বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৩৭

আফগানে হকের প্রত্যাবর্তন পরাশক্তির এজেন্ডা আমাদের প্রত্যাশা

প্রাচ্যের কবি আল্লামা ইকবাল। তার কাব্য বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ। তার বিভিন্ন কবিতায় তিনি শয়তানদের সংলাপ এবং তাদের সংসদীয় আলোচনার কাল্পনিক বিবরণও পেশ করেছেন।  তার একটি কবিতার শিরোনাম- ‘ইবলীস কি মাজলিসে শূরা’ (ইবলীসের পার্লামেন্ট)। এমনিভাবে আরেকটি শিরোনাম- ‘ইবলীস কা ফরমান আপনে সিয়াসী ফরযানদোঁ কে নাম’ (ইবলীসের বার্তা- তার রাজনৈতিক সহযোগী ও সভাসদদের প্রতি)।

বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৩৭

বাকস্বাধীনতার ঠুনকো যুক্তির আড়ালে চরম মুসলিম-বিদ্বেষ

সম্প্রতি ফ্রান্সে আবারো বেদনাদায়কভাবে  রাসূল-অবমাননার ঘটনা ঘটেছে।  আঘাতে আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে বিশ্বের প্রায় পৌনে দু’শ কোটি মুসলিমের হৃদয়। ইতিপূর্বেও ২০১৫ সালে ফ্রান্সে শার্লি এবদো নামক পত্রিকা কর্তৃক চরম ঘৃণ্যভাবে রাসূল-অবমাননার ঘটনা ঘটেছিল। তবে এবার ব্যতিক্রম হল- তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে খোদ ফ্রান্স সরকার। আগে যা হত ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে এখন তা-ই হচ্ছে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে; তাও আবার বাকস্বাধীনতার নামে- ব্যাপক পরিসরে, দম্ভের সাথে।

সোমবার, ৩ মে ২০২১, ১০:০৪

শুক্রবার থেকে পবিত্র জমাদিউস সানি মাস গণনা শুরু

বাংলাদেশের আকাশে বৃহস্পতিবার ১৪৪২ হিজরি সনের পবিত্র জমাদিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। ফলে ১৫ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে পবিত্র জমাদিউস সানি মাস গণনা শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ২১:১৫

ঋণগ্রহিতাকে ক্ষমা করলে বা ছাড় দিলে গুনাহ মাফ হয়

ক্ষমার প্রতিদান ক্ষমা। যেমন আল্লাহ সূরা আররাহমানে বলেছেন- ‘ইহসানের প্রতিদান তো ইহসানই।’ আল্লাহ হলেন, ‘গাফফার’-মহা ক্ষমাশীল। তিনি ছোট থেকে ছোট বাহানায়ও বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।

বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:১২

কোন্ পথে চলেছি আমরা!

কোন্ পথে চলেছি আমরা! আমাদের সমাজব্যবস্থা কি ভেঙে পড়ছে? ধীরে ধীরে কি আমরা নিষ্ঠুর ও অমানুষ জাতিতে পরিণত হচ্ছি? এ প্রশ্ন এখন দেশের সকল বিবেকবান মানুষের। গণমাধ্যমে তো প্রচার পাচ্ছে কেবল জোরপূর্বক ব্যভিচার তথা নারী নির্যাতনের খবরগুলো। কিন্তু সাধারণ বেহায়াপনা ও অসামাজিক কার্যকলাপের সকল রাস্তা তো আমরা আগেই খুলে দিয়েছি।

রোববার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৪৮

মুক্তার হার ও খোদাভীরু যুবক

মক্কায় এক যুবক বাস করত। পরহেজার, খোদাভীরু, তবে খুবই গরিব। একদিন যুবকটি জীবিকার উদ্দেশে মক্কার গলি দিয়ে হাঁটছিল। হঠাত্ সে লক্ষ্য করল—মণিমুক্তা খচিত গলার একটা হার পড়ে আছে। আশপাশে আর কেউ নেই, তাই হারটা উঠিয়ে নিল। যুবক হারের মালিকের খোঁজে হেরেমে এলো।

শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭:৫৪