মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪৩১, ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪৫

ইসলাম

আজ চতুর্থ তারাবি: বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ

 প্রকাশিত: ১৭:১৭, ২৬ মার্চ ২০২৩

আজ চতুর্থ তারাবি: বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ

রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস তথা আত্মশুদ্ধির মাস পবিত্র রমজান। মাসটির অন্যতম আমল হলো তারাবির নামাজ ও তারাবিতে কোরআন খতম।

এশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নাতের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে তারাবির নামাজ আদায় করা হয়। তারাবির নামাজে পূর্ণ এক খতম কোরআন শরিফ তিলাওয়াত শোনার লক্ষ্যে অনেকেই খতমে তারাবিতে অংশ নেবেন।

আজ ৪র্থ তারাবিতে সুরা নিসার ১২তম রুকুর শুরু থেকে শেষ রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৮৮-১৭৬) এবং সুরা মায়েদার ১ম রুকু থেকে ১১তম রুকুর মাঝামাঝি পর্যন্ত (আয়াত ১-৮২) তেলাওয়াত করা হবে। পারা হিসেবে পড়া হবে ৫ম পারার ২য় অর্ধেক থেকে ৬ষ্ঠ পারার পুরো অংশ।

সুরা নিসা : (৮৮-১৭৬)

১২তম রুকুতে (আয়াত ৮৮-৯১) আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলছেন মুনাফিকদের ব্যাপারে কোনো দ্বিধা নয়, পরিপূর্ণ ঈমান আনলে তারা মুমিনদের দয়া ও সাহায্য পাবে, নয়তো তাদের সঙ্গে মুমিনদের কোনো সম্পর্ক নেই।

১৩তম রুকুর (আয়াত ৯২-৯৬) আলোচ্য বিষয় হলো- যদি কোনো মুমিন অন্য মুমিনকে ভুলে হত্যা করে তাহলে কী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যুদ্ধের ময়দানে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শত্রু মিত্র পার্থক্য করা জানতে হবে, আর যারা সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধে অংশ না নিয়ে ঘরে বসে থাকে, তারা কখনও মর্যাদাবান মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

১৪তম রুকুতে (আয়াত ৯৭-১০০) বলা হয়েছে, নির্যাতনে অসহ্য হয়ে কেউ যেন নিজেই নিজেকে হত্যা না করে বসে। বরং সে যেন অন্য কোথাও হিজরত করে।

১৫তম রুকুতে (আয়াত ১০১-১০৪) ভয়কালীন নামাজ ও যুদ্ধকালীন নামাজ পড়ার বিধান এবং নিয়ম বলে দেয়া হয়েছে।

১৬-১৮তম রুকুতে (আয়াত ১০৫-১২৫) মুমিনদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নসিহত করা হয়েছে।

১৯তম রুকুতে (আয়াত ১২৭-১৩২) নারীদের ব্যাপারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক বিধান দেয়া হয়েছে।

২০ ও ২১তম রুকুতে (আয়াত ১৩৫-১৫২) মুমিনদের সত্যের ওপর অটল থাকতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আর মুনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

২২-২৪ রুকুতে (আয়াত ১৫৩-১৭৬) কাফেরদের প্রশ্নের জবাবে মুসা (আ.) ও অন্য নবীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওইসব নবীও সত্যের বাণী প্রচার করতে গিয়ে আরও কঠিন ও জটিল সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এসব সমস্যা মোকাবিলার জন্য হেকমতের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

সুরা মায়েদা : (১-৮২)
সুরা মায়েদা মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা ১২০ এবং রুকু মোট ১৬টি। আজ পঠিত হবে ১১তম রুকু পর্যন্ত। 
১ম রুকুতে (আয়াত ১-৫) ইহরাম অবস্থায় শিকার করা নিষিদ্ধ এবং কোন প্রাণী খাওয়া হারাম ও কোন প্রাণী খাওয়া হালাল- এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

২য় রুকুতে (আয়াত ৬-১১) অজুর বিধান এবং মুমিনদের আল্লাহর অনুগত ও কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ৩য় রুকুতে (আয়াত ১২-১৯) বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসী, ইহুদি-খ্রিস্টানদের দল-উপদলের বিভিন্ন আকিদার অসাড়তা সংক্ষিপ্ত ও যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে।
৪র্থ রুকুতে (আয়াত ২০-২৬) ইহুদিদের হঠকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। তারা মুসা (আ.)-এর সঙ্গে কত নিচু আচরণ করেছে, তা এ রুকুতে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

৫ম রুকুতে (আয়াত ২৭-৩৪) হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের ঘটনা বলা হয়েছে। কীভাবে এক ভাই অন্যায়ভাবে আরেক ভাইকে হত্যা করে জাহান্নামি হয়ে গেছে।
৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৩৫-৪৩) মুমিনদের আল্লাহভীরু হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চোরদের হাত কাটার বিধান এবং মুনাফিকদের ব্যাপারে মনঃক্ষুণ্ণ না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

৭ম রুকুতে (আয়াত ৪৪-৫০) ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। তাওরাত ও ইঞ্জিলের বিধান ছিল আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। আর কোরআন হলো ওই দুই কিতাবের সত্যায়নকারী। তাই তাওরাত ও ইঞ্জিলের মতো এ সময়ও আল্লাহর কিতাব কোরআন অনুযায়ী পরস্পরের মাঝে ফয়সালা করতে হবে। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়, বরং প্রত্যেকে ভালো কাজ করতে থাকুক। কে সত্যবাদী, সে ফয়সালা করবেন আল্লাহ তায়ালা।

৮ম রুকুতে (আয়াত ৫১-৫৬) ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৯ম রুকুতে (আয়াত ৫৭-৬৬) আহলে কিতাব ও মুনাফিকদের নানা আচরণ এবং চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

১০ম রুকুতে (আয়াত ৬৭-৭৭) আহলে কিতাবদের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে হজরত ঈসা (আ.)-এর অনুসারীরা যে ধরনের ভ্রান্ত আকিদা পোষণ করে থাকে তার অসাড়তা তুলে ধরা হয়েছে।

১১তম রুকুতে (আয়াত ৭৮-৮২) খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা হজরত ঈসা ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী, তাদের নিন্দা করা হয়েছে। এসব অসাড় ধ্যান-ধারণা পরিত্যাগ করা এবং এক আল্লাহর পরিপূর্ণ বিশ্বাস অর্জন করা।

আজকের পঠিতব্য আয়াত ও অর্থ
সূরা নিসা (৮৮-১৭৬)

فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ وَاللّهُ أَرْكَسَهُم بِمَا كَسَبُواْ أَتُرِيدُونَ أَن تَهْدُواْ مَنْ أَضَلَّ اللّهُ وَمَن يُضْلِلِ اللّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُ سَبِيلاً
অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের মন্দ কাজের কারনে! তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না। [ সুরা নিসা ৪:৮৮ ]

وَدُّواْ لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُواْ فَتَكُونُونَ سَوَاء فَلاَ تَتَّخِذُواْ مِنْهُمْ أَوْلِيَاء حَتَّىَ يُهَاجِرُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ فَإِن تَوَلَّوْاْ فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ وَجَدتَّمُوهُمْ وَلاَ تَتَّخِذُواْ مِنْهُمْ وَلِيًّا وَلاَ نَصِيرًا
তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না। [ সুরা নিসা ৪:৮৯ ]

 

মন্তব্য করুন: