বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২, ২২ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

আমিরের উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের চিঠির ব্যাখ্যা দিল জামায়াত নানকের সহকারী বিপ্লবের নির্দেশে হাদিকে হত্যা, জবানবন্দিতে রুবেল থাইল্যান্ডে জ্বালানি সাশ্রয়ে সিঁড়ি ব্যবহার ও বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ ইরান তেল রপ্তানিতে বাধা দিলে ‘২০ গুণ কঠোর’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের নেতানিয়াহু নিহত? ইরান ও ইসরায়েলের মিডিয়া যুদ্ধ নেতানিয়াহুর মৃত্যুর সংবাদ ইরানি মিডিয়ায় চরমপপন্থিরা আবার আগের অবস্থায় ফিরছে: র‌্যাব প্রসিকিউটরদের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না: প্রধান কৌঁসুলি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: প্রবাসীদের কল্যাণে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন নতুন নেতৃত্বে ইসরাইলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান আমার অনুমোদন ছাড়া ইরানের নতুন নেতা টিকবেন না’: ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিলেন পাঁচ ইরানি নারী ফুটবল খেলোয়াড় প্রতিশ্রুতি পূরণ, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রাইড শেয়ারিং বাইকে দিনে ৫ লিটার তেল দেওয়ার নির্দেশ ইরানের পক্ষে পোস্ট: বাহরাইনে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এশিয়ার পুঁজিবাজার খুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প ইরানের প্রতি কড়া বার্তা এরদোগানের

ইসলাম

আয়েশা (রা.) রাগ করলে কী করতেন নবীজি (সা.)

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ১৩:০৮, ১২ জুন ২০২৫

আয়েশা (রা.) রাগ করলে কী করতেন নবীজি (সা.)

রাগের মুহূর্তেও ভালোবাসা: আয়েশা (রা.)-এর অভিমান কীভাবে সামলাতেন রাসুল (সা.)

দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ, অভিমান কিংবা রাগ—সবই স্বাভাবিক। এমনকি ইসলামের মহান নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা.)-এর সম্পর্কেও এমন মুহূর্ত দেখা গেছে। তবে এসব পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো যায়, তা আমাদের শেখায় রাসুল (সা.)-এর জীবনচরিত।

নবীজি (সা.) বুঝতেন স্ত্রীর মন-মেজাজ

এক হাদিসে আয়েশা (রা.) নিজেই বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) তাঁর অনুভূতি বুঝতে পারতেন। তিনি বলেন, “রাসুল (সা.) আমাকে বলতেন, ‘আমি বুঝি কখন তুমি আমার ওপর খুশি, আর কখন রাগ করো।’ আমি জিজ্ঞেস করতাম, ‘আপনি তা কীভাবে বোঝেন?’ তিনি বলতেন, ‘যখন তুমি খুশি থাকো, তুমি বলো “মুহাম্মাদের রবের কসম”, আর যখন রাগ করো, তখন বলো “ইব্রাহিমের রবের কসম”।’”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৪০)

এই হাদিস আমাদের শেখায়—প্রিয়জনের আবেগ বুঝে নেওয়াও ভালোবাসারই অংশ।

নবীজির (সা.) ধৈর্য ও কোমলতা

রাসুল (সা.) দাম্পত্য জীবনে সহানুভূতি ও ধৈর্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একবার আয়েশা (রা.) ঈর্ষান্বিত হয়ে নবীজির অন্য স্ত্রী সাফিয়া (রা.)-এর পাঠানো খাবারের থালা ভেঙে ফেলেন। ঘটনাটি ঘটেছিল সাহাবিদের উপস্থিতিতে। তবুও রাসুল (সা.) রাগ না করে মৃদু হাসিতে বলেছিলেন, “তোমাদের মা ঈর্ষান্বিত হয়েছেন।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২২৫)

তিনি থালার বদলে নিজের থালা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, আবেগকে সম্মান দিয়েছিলেন।

কঠিন মুহূর্তেও দয়ালু আচরণ

একবার আয়েশা (রা.) ইহুদিদের অভিবাদনে বিরক্ত হয়ে অভিশাপ দেন। নবীজি (সা.) তাকে কোমলভাবে বুঝিয়ে বলেন, “তুমি কেন তাদের অভিশাপ দিলে? আমি তো শুধু তাদের সালামের জবাব দিয়েছি।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৪৪)

রাসুল (সা.) সর্বদা শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেন এবং ভুল সংশোধনে দয়া ও সম্মান বজায় রাখতেন।

আয়েশা (রা.)-এর শিক্ষাদানের ভূমিকা

হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন জ্ঞান, যুক্তিবোধ ও বিশুদ্ধতা’র প্রতীক। তিনি ২,২১০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাফসির, ফিকহ, আরবি সাহিত্য ও ইতিহাসে ছিলেন বিশেষজ্ঞ। সাহাবিরাও তাঁর থেকে উপদেশ গ্রহণ করতেন।

তার মানবিক রাগ, ঈর্ষা বা আবেগ আমাদের শেখায়—এগুলো মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। তবে রাসুল (সা.)-এর ন্যায় মমতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সেগুলোর সুন্দর সমাধান সম্ভব।

সারসংক্ষেপে, নবীজি (সা.)-এর দাম্পত্য জীবন আমাদের শেখায়—ভালোবাসা মানে শুধু আবেগ নয়, বোঝাপড়া, ধৈর্য এবং সম্মানও।