মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৯ ১৪৩২, ২৪ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

আইসিসির চিঠি: মুস্তাফিজ থাকলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়বে, দাবি আসিফ নজরুলের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, আলোচনার জন্যও: ট্রাম্পকে ইরান ইসিতে তৃতীয় দিনে ৪১ জনের আপিল মঞ্জুর মুছাব্বির হত্যা: ‘শুটার’ জিনাতের ‘দোষ স্বীকার’, রিমান্ডে ৩ জন ‘অনৈতিক প্রস্তাবে’ রাজি না হওয়ায় বনশ্রীর স্কুলছাত্রীকে হত্যা: র‌্যাব মানিকগঞ্জ হাসপাতালে নারীকে ‘ধর্ষণ’, ২ আনসার সদস্য আটক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান-আনিসুলের বিচার শুরু আইনশৃঙ্খলার উন্নতি নেই, এটি সরকারের ব্যর্থতা: মির্জা ফখরুল ৫০ বছর পর চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছে নাসা, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ভাইরাল পোস্টে নিজেকে ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যা: সন্দেহভাজন মিলন র‌্যাবের হাতে ধরা চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতের ফজলুলের প্রার্থিতা ফিরল না আপিলেও হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল থেকে ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৫০০ ছাড়িয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত বিকল্প ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইসলাম

আয়েশা (রা.) রাগ করলে কী করতেন নবীজি (সা.)

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ১৩:০৮, ১২ জুন ২০২৫

আয়েশা (রা.) রাগ করলে কী করতেন নবীজি (সা.)

রাগের মুহূর্তেও ভালোবাসা: আয়েশা (রা.)-এর অভিমান কীভাবে সামলাতেন রাসুল (সা.)

দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ, অভিমান কিংবা রাগ—সবই স্বাভাবিক। এমনকি ইসলামের মহান নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা.)-এর সম্পর্কেও এমন মুহূর্ত দেখা গেছে। তবে এসব পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো যায়, তা আমাদের শেখায় রাসুল (সা.)-এর জীবনচরিত।

নবীজি (সা.) বুঝতেন স্ত্রীর মন-মেজাজ

এক হাদিসে আয়েশা (রা.) নিজেই বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) তাঁর অনুভূতি বুঝতে পারতেন। তিনি বলেন, “রাসুল (সা.) আমাকে বলতেন, ‘আমি বুঝি কখন তুমি আমার ওপর খুশি, আর কখন রাগ করো।’ আমি জিজ্ঞেস করতাম, ‘আপনি তা কীভাবে বোঝেন?’ তিনি বলতেন, ‘যখন তুমি খুশি থাকো, তুমি বলো “মুহাম্মাদের রবের কসম”, আর যখন রাগ করো, তখন বলো “ইব্রাহিমের রবের কসম”।’”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৪০)

এই হাদিস আমাদের শেখায়—প্রিয়জনের আবেগ বুঝে নেওয়াও ভালোবাসারই অংশ।

নবীজির (সা.) ধৈর্য ও কোমলতা

রাসুল (সা.) দাম্পত্য জীবনে সহানুভূতি ও ধৈর্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একবার আয়েশা (রা.) ঈর্ষান্বিত হয়ে নবীজির অন্য স্ত্রী সাফিয়া (রা.)-এর পাঠানো খাবারের থালা ভেঙে ফেলেন। ঘটনাটি ঘটেছিল সাহাবিদের উপস্থিতিতে। তবুও রাসুল (সা.) রাগ না করে মৃদু হাসিতে বলেছিলেন, “তোমাদের মা ঈর্ষান্বিত হয়েছেন।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২২৫)

তিনি থালার বদলে নিজের থালা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, আবেগকে সম্মান দিয়েছিলেন।

কঠিন মুহূর্তেও দয়ালু আচরণ

একবার আয়েশা (রা.) ইহুদিদের অভিবাদনে বিরক্ত হয়ে অভিশাপ দেন। নবীজি (সা.) তাকে কোমলভাবে বুঝিয়ে বলেন, “তুমি কেন তাদের অভিশাপ দিলে? আমি তো শুধু তাদের সালামের জবাব দিয়েছি।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৪৪)

রাসুল (সা.) সর্বদা শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেন এবং ভুল সংশোধনে দয়া ও সম্মান বজায় রাখতেন।

আয়েশা (রা.)-এর শিক্ষাদানের ভূমিকা

হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন জ্ঞান, যুক্তিবোধ ও বিশুদ্ধতা’র প্রতীক। তিনি ২,২১০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাফসির, ফিকহ, আরবি সাহিত্য ও ইতিহাসে ছিলেন বিশেষজ্ঞ। সাহাবিরাও তাঁর থেকে উপদেশ গ্রহণ করতেন।

তার মানবিক রাগ, ঈর্ষা বা আবেগ আমাদের শেখায়—এগুলো মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। তবে রাসুল (সা.)-এর ন্যায় মমতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সেগুলোর সুন্দর সমাধান সম্ভব।

সারসংক্ষেপে, নবীজি (সা.)-এর দাম্পত্য জীবন আমাদের শেখায়—ভালোবাসা মানে শুধু আবেগ নয়, বোঝাপড়া, ধৈর্য এবং সম্মানও।