শনিবার ০৭ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২৩ ১৪৩২, ১৮ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

চুক্তিতে পৌঁছাতে জেলেনস্কিকে এগোতে হবে, পুতিন প্রস্তুত: ট্রাম্প ড্রোন হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের সহায়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র খামেনিকে হত্যায় যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন হয়নি : ইসরাইল খলিলুর ও রিজওয়ানা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জড়িত’ ছিলেন: জামায়াতের তাহের ‘হুজুগে’ পাম্পে পাম্পে তেল কেনার হিড়িক স্কুল ও কলেজের জন্য ‘র‍্যাংকিং সিস্টেম’ হবে: শিক্ষামন্ত্রী ‘দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায়’ ইফতারের জাঁকজমক কমালেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে বিমানবন্দরের রাষ্ট্রাচার সীমিত, থাকবেন শুধু ৪ প্রতিনিধি খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ ঈদে এবার সাত দিনের ছুটি এক মামলায় জামিন পেলেন আনিস আলমগীর ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদ হত্যার রায় ৯ এপ্রিল ৯৬ শতাংশ পুলিশ চায় পুরোনো ইউনিফর্ম নারায়ণগঞ্জে মারামারিতে যুবক খুন, বন্ধু হাসপাতালে ইরানের নতুন কৌশলে নতুন করে হিসাব মেলাতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় পতনের পর এশিয়ার বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল-ভারত বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি ঘিরে সমালোচনার ঝড়

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০:০৮, ১৪ জুলাই ২০২৫

ইসরায়েল-ভারত বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি ঘিরে সমালোচনার ঝড়

গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারত-ইসরায়েলের বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি (Investment Protection Agreement - IPA) ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা এই চুক্তিকে দুই দেশের ফ্যাসিবাদী নীতিকে বৈধতা দেওয়ার কৌশল এবং পারস্পরিক দায়মুক্তির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

গত সপ্তাহে ইসরায়েল সরকার জানায়, তারা ভারতের সঙ্গে একটি বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে। চুক্তির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়—উভয় দেশে নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকায় বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো।

তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধকে কাঠামোগত আড়াল দেওয়া হচ্ছে এবং ভারতের শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে জায়নবাদকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফিলিস্তিনি লেখক আবদুল্লা মোয়াসওয়েস বলেন, ভারতের সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে বাড়তে থাকা সম্পর্ককে তাদের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করছে। গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে জাতিসংঘে ভোট না দেওয়াও এই নীতির অংশ।

ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব পিপলস মুভমেন্টসের (NAPM) জাতীয় সমন্বয়ক মীরা সংঘমিত্র বলেন, “গণহত্যাকারী দেশের সঙ্গে এই চুক্তি অনৈতিক। ভারত সরকারের উচিত নেতানিয়াহু সরকারের যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ সুরক্ষা নয়।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। ভারত ইসরায়েলের ষষ্ঠ বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমদানিকারক।

তেলআবিবে নির্মাণশিল্পে হাজার হাজার ভারতীয় শ্রমিক পাঠানোর পরিকল্পনা এবং গোপনে কমব্যাট ড্রোনসহ অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ ঘিরে ভারতের অভ্যন্তরেও সমালোচনা চলছে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এই পদক্ষেপ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের অর্থনীতি বর্তমানে চাপের মুখে রয়েছে। সামরিক খরচ বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে। ফলে, হাইফা বন্দরসহ ভারতের বিনিয়োগ কৌশলকে ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।