রোববার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৯ ১৪৩২, ১৩ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ট্রাইব্যুনালে রায় ৫ ফেব্রুয়ারি এবার খুলনা ও যশোরে যাচ্ছেন তারেক রহমান ‘ভোট দিতে ভয় পাবেন না, আমরা পাশে আছি’: হিন্দুদের উদ্দেশে ফখরুল দুদকের ডাকে সাড়া দেননি উত্তর সিটির এজাজ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাহাউদ্দিন নাছিমের ৩৩ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ‘গলা চেপে ধরার’ হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, দমবন্ধ অবস্থায় কিউবানরা চট্টগ্রাম বন্দরে রোববারও চলছে কর্মবিরতি, অচলাবস্থা প্রার্থিতা: নিরাশ হলেন মুন্সী ও গফুর, ভোট করতে পারবেন মোবাশ্বের অন্য হাজতির পরিচয়ে কারামুক্ত হয়ে পালালেন হত্যা মামলার আসামি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমলো ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গঠনমূলক’ আলোচনা কারিগরি ত্রুটির’ কারণে ইউক্রেনে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় আমরা মুক্ত!’: নতুন ভোরের ইঙ্গিত দেখছে ভেনেজুয়েলাবাসী

শিশু

কাজী নজরুল ইসলামের শৈশবের গল্প

 প্রকাশিত: ১১:০৭, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

কাজী নজরুল ইসলামের শৈশবের গল্প

কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও দরগার খাদেম। ছোটবেলা থেকেই নজরুল ছিলেন দুরন্ত ও কৌতূহলী স্বভাবের।

শৈশবে নজরুলের পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিল না। মাত্র নয় বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান, ফলে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে তিনি স্থানীয় মক্তবে পড়াশোনার পাশাপাশি মসজিদের মুয়াজ্জিনের কাজ করতেন। কিন্তু এর মধ্যেও তাঁর জ্ঞানার্জনের আগ্রহ ছিল অগাধ।

গ্রামের মক্তবে আরবি, ফারসি ও ইসলামি শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নজরুল স্থানীয় লেটোর দলে যোগ দেন। এই লেটো দলে গান গাওয়া, নাটক লেখা ও অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্য ও সঙ্গীতের প্রতি প্রবল আকর্ষণ তৈরি হয়। তিনি খুব দ্রুত কবিতা ও গান রচনায় দক্ষ হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রতিভা দেখে দলের সবাই অবাক হতেন।

কিছুদিন পর তিনি গ্রামের স্কুল ছেড়ে আসানসোলের রানীগঞ্জ সিয়ারসোল রাজ স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু সংসারের চাপে পড়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি স্কুল ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ৪৯ নম্বর বেঙ্গল রেজিমেন্টে কাজ করেন। তবে তাঁর শৈশবের সেই দুঃসাহসী ও কৌতূহলী মনোভাব সেনাবাহিনীতেও স্পষ্ট ছিল।

শৈশব থেকেই নজরুল ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। একবার গ্রামের এক জমিদার গরিব চাষিদের ওপর অন্যায় করছিলেন। ছোট্ট নজরুল সে ঘটনা দেখেই প্রতিবাদ করেন এবং চাষিদের পক্ষ নেন। তাঁর সাহস দেখে গ্রামের মানুষ বিস্মিত হন।

শৈশবের অভাব, কষ্ট ও সংগ্রামই ভবিষ্যতে তাঁকে বিদ্রোহী করে তোলে। পরে তিনিই হন বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি, যিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন।

নজরুলের শৈশব কেবল দুঃখ-দুর্দশার গল্প নয়, বরং তা এক অসাধারণ প্রতিভার উত্থানের গল্প। ছোটবেলার সেই সংগ্রামই তাঁকে বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব করে তুলেছিল।