শনিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ৪ ১৪৩২, ২৮ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

ট্রাম্পকে নিজের নোবেল দিলেন মাচাদো ইরানের প্রতি হুমকি ‘অস্থিরতা’ বৃদ্ধি করেছে: জাতিসংঘ কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জাপানে বিরোধীদের জোট নির্বাচনে জামায়াত ১৭৯ আসনে, এনসিপি ৩০ আসনে লড়বে ‘এবার গুলি ফস্কাবে না’, ট্রাম্পের রক্তাক্ত ছবি দেখিয়ে হুমকি ইরানের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ হচ্ছে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে এবার মামলা করছে দুদক হাদি হত্যা মামলার পুনঃতদন্তে সিআইডি অধ্যাদেশের দাবিতে সোমবার থেকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি, অনড় শিক্ষার্থীরা চলন্ত বাসে ছাত্রীকে রাতভর ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’, চালক-হেলপারসহ আটক ৩ কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর আকাশসীমা আবার খুলেছে ইরান এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ, তেহরানের দাবি: ফাঁসির পরিকল্পনা নেই ট্রাম্পের ‘যুদ্ধক্ষমতা সীমিত’ লক্ষ্য থেকে সরে এল সিনেট ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: অধ্যাদেশের দাবিতে ফের সড়কে সাত কলেজ পাবনা ১ ও ২ আসনে ভোটের বাধা কাটল হাসিনার আমৃত্যু কারাদণ্ডের মামলা আপিলের কার্য তালিকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারী এরফানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করল ইরান

শিশু

কাজী নজরুল ইসলামের শৈশবের গল্প

 প্রকাশিত: ১১:০৭, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

কাজী নজরুল ইসলামের শৈশবের গল্প

কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও দরগার খাদেম। ছোটবেলা থেকেই নজরুল ছিলেন দুরন্ত ও কৌতূহলী স্বভাবের।

শৈশবে নজরুলের পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিল না। মাত্র নয় বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান, ফলে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে তিনি স্থানীয় মক্তবে পড়াশোনার পাশাপাশি মসজিদের মুয়াজ্জিনের কাজ করতেন। কিন্তু এর মধ্যেও তাঁর জ্ঞানার্জনের আগ্রহ ছিল অগাধ।

গ্রামের মক্তবে আরবি, ফারসি ও ইসলামি শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নজরুল স্থানীয় লেটোর দলে যোগ দেন। এই লেটো দলে গান গাওয়া, নাটক লেখা ও অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্য ও সঙ্গীতের প্রতি প্রবল আকর্ষণ তৈরি হয়। তিনি খুব দ্রুত কবিতা ও গান রচনায় দক্ষ হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রতিভা দেখে দলের সবাই অবাক হতেন।

কিছুদিন পর তিনি গ্রামের স্কুল ছেড়ে আসানসোলের রানীগঞ্জ সিয়ারসোল রাজ স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু সংসারের চাপে পড়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি স্কুল ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ৪৯ নম্বর বেঙ্গল রেজিমেন্টে কাজ করেন। তবে তাঁর শৈশবের সেই দুঃসাহসী ও কৌতূহলী মনোভাব সেনাবাহিনীতেও স্পষ্ট ছিল।

শৈশব থেকেই নজরুল ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। একবার গ্রামের এক জমিদার গরিব চাষিদের ওপর অন্যায় করছিলেন। ছোট্ট নজরুল সে ঘটনা দেখেই প্রতিবাদ করেন এবং চাষিদের পক্ষ নেন। তাঁর সাহস দেখে গ্রামের মানুষ বিস্মিত হন।

শৈশবের অভাব, কষ্ট ও সংগ্রামই ভবিষ্যতে তাঁকে বিদ্রোহী করে তোলে। পরে তিনিই হন বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি, যিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন।

নজরুলের শৈশব কেবল দুঃখ-দুর্দশার গল্প নয়, বরং তা এক অসাধারণ প্রতিভার উত্থানের গল্প। ছোটবেলার সেই সংগ্রামই তাঁকে বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব করে তুলেছিল।