সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২, মাঘ ১১ ১৪২৮, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ইসলাম

সূরা মুলক: আমল ও ফযীলত

মুহাম্মাদ ফজলুল বারী

 আপডেট: ০০:২৪, ২ জানুয়ারি ২০২২

সূরা মুলক: আমল ও ফযীলত

সূরা মুলক কুরআনে কারীমের ঊনত্রিশ নম্বর পারার প্রথম সূরা। সূরার ক্রম অনুসারে এটি কুরআনের সাতষট্টি নম্বর সূরা। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি সূরা এটি। আল্লাহ তাআলার রাজত্ব-কতৃর্ত্ব ও মহত্ত্বের বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এ সূরা। আসমান ও গ্রহ-নক্ষত্রের সৃষ্টি-কুশলতা ও নিপুণতা উল্লেখের মাধ্যমে তাঁর কুদরতের কথা আলোচনা করা হয়েছে।

জন্ম-মৃত্যু সৃষ্টির উদ্দেশ্য বর্ণনার মাধ্যমে মানুষের জীবনের লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহকে ভয় করে যে বান্দা সিরাতে মুসতাকীমের উপর অটল-অবিচল থাকবে এবং জীবন-পরীক্ষায় কৃতকার্য হবে তার জন্য ঘোষণা করা হয়েছে মহা পুরস্কারের। সাথে সাথে জীবন চলার পথে মানুষ যদি লক্ষচ্যুত হয়; আল্লাহর নাফরমানীর পথ অবলম্বন করে তাহলে তার জন্য কী ভয়াবহ পরিণাম অপেক্ষা করছে তা বিবৃত হয়েছে। আর পথভ্রষ্ট বান্দা তার পরিণাম প্রত্যক্ষ করে আখেরাতে কী ভাষা ও বাক্যে আফসোস-আক্ষেপ করবে তা-ও তুলে ধরা হয়েছে মর্মস্পর্শী উপস্থাপনায়।

স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে দুনিয়াতে আল্লাহর দেয়া সুযোগ ও ছাড়ের কথা। পরিশেষে তাঁর বিভিন্ন নিআমতের কথা উল্লেখ করে মানুষের আল্লাহ-মুখাপেক্ষিতা ও অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে আল্লাহর শোকর আদায় ও আখেরাতের প্রস্তুতির প্রতি। এসব কারণে সূরা মুলক মুমিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এক পাথেয়।

সাথে সাথে সূরা মুলকের অনেক ফযীলতও বর্ণিত হয়েছে হাদীস শরীফে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এ সূরা তিলাওয়াত করতেন। এমনকি এ সূরা তিলাওয়াত না করে রাতে ঘুমাতে যেতেন না। এ সূরা তার আমলকারীর জন্য সুপারিশ করবে। কবরের আযাব থেকে প্রতিবন্ধক হবে। আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের মাধ্যম হবে।

এ সূরা আমলকারীর জন্য সুপারিশ করবে

আল্লাহ তাআলার নিজ কালাম যদি তাঁর কাছে কারো মাগফিরাতের জন্য সুপারিশ করে তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহ সে সুপারিশ গ্রহণ করবেন এবং বান্দাকে ক্ষমা করবেন। সূরা মুলক এমনই একটি সূরা, যা আমলকারীর জন্য মাগফিরাতের সুপারিশ করবে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِنّ سُورَةً مِنَ القُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتّى غُفِرَ لَهُ، وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ الّذِي بِيَدِهِ المُلْكُ.

قال الترمذي: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ.

কুরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা এক ব্যক্তির জন্য মাগফিরাতের সুপারিশ করেছে ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তা হল, সূরা তাবারাকাল্লাযী... অর্থাৎ সূরা মুল্ক। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৮৯১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪০০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৭৮৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৭৯৭৫

বর্ণনাটি মুসতাদরাকে হাকেমে এসেছে এ ভাষায়-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، قَالَ: إِنّ سُورَةً مِنْ كِتَابِ اللهِ عَزّ وَجَلّ مَا هِيَ إِلّا ثَلَاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ فَأَخْرَجَتْهُ مِنَ النّارِ وَأَدْخَلَتْهُ الْجَنّةَ.

قال الحاكم: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ، وَقَدْ سَقَطَ لِي فِي سَمَاعِي هَذَا الْحَرْفُ وَهِيَ سُورَةُ الْمُلْكِ.

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহর কিতাবে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে (অর্থাৎ সূরা মুলক), যা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে জান্নাতে দাখেল করেছে। -মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৩৮৩৮; আলমুন্তাখাব মিন মুসনাদি আব্দ ইবনু হুমাইদ, হাদীস ১৪৪৫

এ সূরা আমলকারীর পক্ষে ওকালতি করে জান্নাতে প্রবেশ করাবে

কেবল সাধারণ সুপারিশ নয়; বরং এ সূরা তার আমলকারীর পক্ষে ওকালতি করবে। আমলকারীকে জান্নাতে না নেয়া পর্যন্ত তার পক্ষে লড়তে থাকবে। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

سُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هِيَ إِلّا ثَلَاثُونَ آيَةً، خَاصَمَتْ عَنْ صَاحِبِهَا حَتّى أَدْخَلَتْهُ الْجَنّةَ، وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ.

قال الضياء المقدسي في الأحاديث المختارة: إسناده حسن.

وقال الهيثمي في مجمع الزوائد: رَوَاهُ الطّبَرَانِيّ فِي الصّغِيرِ وَالْأَوْسَطِ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصّحِيحِ.

কুরআনে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা তার আমলকারীকে জান্নাতে প্রবেশ করানো পর্যন্ত তার পক্ষে ওকালতি করেছে, তার পক্ষে লড়েছে। তা হল, সূরা তাবারাকা (সূরামুলক)। -আলমুজামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস ৩৬৫৪; আলমুজামুস সগীর, তবারানী, হাদীস ৪৯০; আলআহাদীসুল মুখতারাহ, যিয়া আলমাকদীসী, হাদীস ১৭৩৮; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ১১৪৩০

সুতরাং যে ব্যক্তি এ সূরা তিলাওয়াত করবে, এর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করবে আশা করা যায় সে এর সুপারিশ লাভ করবে এবং ক্ষমা ও জান্নাত লাভে ধন্য হবে।

এ সূরা তিলাওয়াতকারীর জন্য কবরের আযাব থেকে প্রতিবন্ধক হবে

কবরের আযাব থেকে আল্লাহর পানাহ। কবরের আযাব অত্যন্ত ভয়াবহ। মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণী কবরের আযাব বুঝতে পারে, শুনতে পারে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষ দাফন করতে ভয় পাবে; নইলে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম, তিনি যেন তোমাদের কবরের আযাব শোনান। নবীজী আমাদেরকে কবরের আযাব থেকে পানাহ চাইতে বলেছেন। যায়েদ ইবনে ছাবেত রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

تَعَوّذُوا بِاللهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ.

তোমরা কবরের আযাব থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৮৬৭

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও কবরের আযাব থেকে পানাহ চাইতেন। আয়েশা রা. বলেন, একবার এক ইহুদী নারী তার কাছে এল। সে কবরের আযাব প্রসঙ্গে আলোচনা করল এবং বলল, আল্লাহ আপনাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। নবীজী এলে আয়েশা রা. তাঁকে কবরের আযাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। নবীজী উত্তরে বললেন, হাঁ, কবরের আযাব (সত্য)।

আয়েশা রা. বলেন-

فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بَعْدُ صَلّى صَلاَةً إِلّا تَعَوّذَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ.

এর পর থেকে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, প্রতি নামাযের পরই তিনি কবরের আযাব থেকে পানাহ চাইতেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৭২

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী ভাষায় কবরের আযাব থেকে পানাহ চাইতেন তাও বর্ণিত হয়েছে হাদীস শরীফে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআয় বলতেন-

اللّهُمّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النّارِ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالمَمَاتِ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدّجّالِ.

হে আল্লাহ! আমি কবরের আযাব থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি, জীবন-মৃত্যু ও দাজ্জালের ফিতনা থেকে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৭৭

কবরের আযাব থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনার সাথে সাথে একটি আমলও আমাদেরকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করবে। তা হল, সূরা মুলকের আমল। এ সূরা তার আমলকারীর জন্য কবরের আযাবের সামনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন-

يُؤْتَى الرَّجُلُ فِي قَبْرِهِ فَتُؤْتَى رِجْلَاهُ فَتَقُولُ رِجْلَاهُ: لَيْسَ لَكُمْ عَلَى مَا قِبَلِي سَبِيلٌ كَانَ يَقُومُ يَقْرَأُ بِي سُورَةَ الْمُلْكِ، ثُمّ يُؤْتَى مِنْ قِبَلِ صَدْرِهِ أَوْ قَالَ بَطْنِهِ، فَيَقُولُ: لَيْسَ لَكُمْ عَلَى مَا قِبَلِي سَبِيلٌ كَانَ يَقْرَأُ بِي سُورَةَ الْمُلْكِ، ثُمّ يُؤْتَى رَأْسُهُ فَيَقُولُ: لَيْسَ لَكُمْ عَلَى مَا قِبَلِي سَبِيلٌ كَانَ يَقْرَأُ بِي سُورَةَ الْمُلْكِ، قَالَ: فَهِيَ الْمَانِعَةُ تَمْنَعُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ...، وَمَنْ قَرَأَهَا فِي لَيْلَةٍ فَقَدْ أَكْثَرَ وَأَطْنَبَ.

(সূরা মুলকের আমলকারী) ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হবে, (আযাবের) ফিরিশতারা তার পায়ের দিক থেকে আসবে; তখন পা বলবে, এদিক দিয়ে তোমরা তার পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। সে (আমার উপর ভর করে) নামাযে দাঁড়িয়ে সূরা মুলক তিলাওয়াত করত। এরপর বুক অথবা পেটের দিক থেকে এলে তা বলবে, এদিক থেকেও তোমরা তাকে কিছু করতে পারবে না; সে তো সূরা মুলক তিলাওয়াত করত (আমার মাঝে সূরা মুলক ধারণ করত)। মাথার দিক থেকে এলে বলবে, আমার দিক থেকেও তোমাদের তার পর্যন্ত পৌঁছা সম্ভব নয়; সে তো সূরা মুলক তিলাওয়াত করত (আমার মাঝে সূরা মুলক সংরক্ষণ করত)।

ইবনে মাসউদ রা. বলেন, এ সূরা ‘মানিআহ’-বাধা দানকারী; ব্যক্তি থেকে কবরের আযাব রুখে দেয়।... যে ব্যক্তি রাতে এটি তিলাওয়াত করল সে অনেক ভালো ও বড় কাজ করল। -মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৩৮৩৯; শুআবুল ঈমান বায়হাকী, হাদীস ২২৭৯

এ বর্ণনাটি তবারানী ও আব্দুর রাযযাকে এ শব্দ-বাক্যে এসেছে-

مَاتَ رَجُلٌ فَجَاءَتْهُ مَلَائِكَةُ الْعَذَابِ فَجَلَسُوا عِنْدَ رَأْسِهِ فَقَالَ: لَا سَبِيلَ لَكُمْ إِلَيْهِ، قَدْ كَانَ يَقْرَأُ سُورَةَ الْمُلْكِ، فَجَلَسُوا عِنْدَ رِجْلَيْهِ، فَقَالَ: لَا سَبِيلَ لَكُمْ إِلَيْهِ قَدْ كَانَ يَقُومُ عَلَيْنَا بِسُورَةِ الْمُلْكِ، فَجَلَسُوا عِنْدَ بَطْنِهِ فَقَالَ: لَا سَبِيلَ لَكُمْ إِنّهُ قَدْ وَعَى فِيّ سُورَةَ الْمُلْكِ، فَسُمِّيَتِ الْمَانِعَةَ.

قال الهيثمي في مجمع الزوائد: رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ، وَفِيهِ عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ، وَهُوَ ثِقَةٌ وَفِيهِ ضَعْفٌ، وَبَقِيَّةُ رِجَالِهِ رِجَالُ الصَّحِيحِ.

এক ব্যক্তি ইন্তেকাল করল। (কবরে) আযাবের ফিরিশতা মাথার কাছে এসে বসলে তা বলল, এদিক দিয়ে তোমরা তার পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না; কারণ সে সূরা মুলক তিলাওয়াত করত। তারা পায়ের কাছে গিয়ে বসলে তা বলল, আমার দিক থেকেও তোমরা তার কিছু করতে পারবে না; সে আমার উপর ভর করে দাঁড়িয়ে সূরা মুলক তিলাওয়াত করত। এরপর তারা পেটের কাছে গিয়ে বসলে তা বলল, সে আমার মাঝে (বক্ষে) সূরা মুলক ধারণ করেছে; সুতরাং তোমরা আমার দিক থেকেও তার কিছু করতে পারবে না।

একারণেই সূরা মুলকের নাম হয়েছে, ‘আলমানিআহ’- বাধা দানকারী, প্রতিহতকারী। -আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ৮৬৫০; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস ৬০২৪; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ১১৪৩৩

নবীজী রাতে সূরা মুলক তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সূরা মুলক তিলাওয়াত করতেন। এমনকি রাতে সূরা মুলক এবং সূরা সাজদাহ তিলাওয়াত না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। জাবের রা. বলেন-

كَانَ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ لَا يَنَامُ حَتّى يَقْرَأَ بِتَنْزِيلُ السّجْدَةِ، وَبِتَبَارَكَ.

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা সাজদাহ ও সূরা মুলক তিলাওয়াত না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৪০৪; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৩৫৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৪৬৫৯; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদীস ২৯৮১৬; আলআদাবুল মুফরাদ, বুখারী, হাদীস ১২০৭; সুনানে দারিমী, হাদীস ১০৪০

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমল করার তাওফীক দান করুন- আমীন।

মন্তব্য করুন: