মঙ্গলবার ২৪ মে ২০২২, জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৯, ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

ইসলাম

রোজা ও রমজান: পর্ব- ১৩ বিষয়:রোজা ও রমজানের শিক্ষা

মুফতি মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন

 আপডেট: ২১:৫১, ১১ এপ্রিল ২০২২

রোজা ও রমজান: পর্ব- ১৩ বিষয়:রোজা ও রমজানের শিক্ষা

৪। সময়ের সঠিক ব্যবহার শিক্ষা দেয়ঃ রমযান কিভাবে সময়ের সঠিক ব্যবহার শিক্ষা দেয় তা আমরা সহজেই বুঝতে পারি সিয়াম বিষয়ক কুরআনের আলোচনা থেকে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সিয়ামের বিধান সম্পর্কে বলেন-
وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ
‘আর পানাহার কর রাত্রের কাল রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা দেখার আগ পর্যন্ত। এভাবে সিয়ামকে পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত।’ সূরা বাক্বারা, আয়াত- ১৮৭


এই আয়াতটিতে একথা পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মাগরীব থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত পানাহার গ্রহণ করা হালাল। এর বাইরে যদি কেউ পানাহার গ্রহণ করে তাহলে সিয়াম হবে না। সুতরাং বুঝা গেল যে, সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া প্রতিদিন টাইম লক্ষ্য করে সাহরী, ইফতার, তারাবীহসহ ইসলামের অন্যান্য কাজগুলো আমরা সঠিক সময়ে আদায় করছি। এর বাইরে এসব কাজ করলে তা সঠিকভাবে আদায় হবে না। তাহলে একথাই বুঝা গেল যে, মাহে রমযান আমাদেরকে সময়ের সঠিক ব্যবহার শিক্ষা দেয়।


৫। একনিষ্টভাবে একমাত্র আল্লাহর বিধান পালনের চরম প্রশিক্ষন দেয়ঃ যেমন একজন সিয়াম পালনকারী প্রচÐ ক্ষুধা বা পিপসায় কাতর হয়েও কোনো অবস্থাতে পানাহার করতে রাজী হন না। নিজের ঘরের মধ্যে একাকী, নির্জনে সকল মানুষের অজান্তে পানাহার করার সুযোগ থাকলেও তিনি পানাহার করেন না। কারণ তিনি জানেন তা করলে দুনিয়ার কেউ না জানলেও মহান আল্লাহ জানবেন এবং তিনি অসুন্তুষ্ট হবেন। তাহলে একজন সিয়াম পালনকারী কত একনিষ্টভাবে মহান আল্লাহর বিধান পালন করছে, তা ভাবতেও অবাক হতে হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদেরকে এই শিক্ষা দিচ্ছেন যে, আমরা মাহে রমযানের পরও যেন মহান আল্লাহর সব বিধান সঠিকভাবে যথা সময়ে পালন করি।

অথচ মাহে রমযানের এই প্রশিক্ষণ পাবার পরও মহান আল্লাহর হুকুম বা বিধানকে সঠিকভাবে যথা সময়ে নিয়মিত পালন করছি না। আমরা মহান আল্লাহকে শুধু রমযান মাসে খুশি করার চেষ্টা করছি, অন্যান্য সময়ে তাকে খুশি করার পরিপূর্ণ চেষ্টা করছি না। আমরা মাহে রমযানে একথা পুরোপুরি বিশ্বাস করছি যে সিয়াম অবস্থায় কিছু খেলে তিনি দেখবেন, কিন্তু একই বিশ্বাস রমযানের পরে কাজে লাগাতে পারছি না। যার ফলে আমরা সামান্য লোভেই গুনাহ করছি, মহান আল্লাহকে অনুন্তুষ্ট করছি। সুতরাং আমরা যেমনভাবে মহান আল্লাহর বিধান পালন করার জন্য প্রচÐ ক্ষুধা বা পিপসায় কাতর হয়েও কোনো অবস্থাতে পানাহার করতে রাজি হচ্ছি না তেমনিভাবে মাহে রমযানের পরও যেন মহান আল্লাহকে রাজী করার জন্য তাঁর বিধান পালনে অবহেলা না করি। সে দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। গুরুত্ব সহকারে বিধান পালনের জন্য মাহে রমযান আমাদেরকে চরম প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

 


মুফতি মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন
সাতাউক মধ্যগ্রাম, লাখাই, হবিগঞ্জ
আমলের কথা জানতে ইউটিউবে সার্চ করুন, 01712961470

মন্তব্য করুন: