সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২, মাঘ ১১ ১৪২৮, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এডিটর`স চয়েস

রকমারির প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হাসান সোহাগের বিবিসি ইন্টারভিউ

 আপডেট: ১০:০৮, ১ জানুয়ারি ২০২২

 

মাহমুদুল হাসান সোহাগ রকমারিডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। উদ্যোক্তা জীবনের শুরু কোচিং সেন্টার দিয়ে হলেও, সরাসরি যুক্ত ছিলেন শিশু-কিশোরদের সায়েন্টিফিক  এক্সপেরিমেন্টের বিজ্ঞানবাক্স, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ইভিএম এবং অনলাইনে বই বিক্রির প্ল্যাটফর্ম তৈরির কার্যক্রমে।

 

বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন তার ব্যতিক্রমী কিছু উদ্যোগ গ্রহণের কথা।

একই সঙ্গে তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রচলিত বিতর্ক নিয়ে প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন মাহমুদুল হাসান সোহাগ।

 

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাইয়েদা আক্তার।

 

উপস্থাপিকা: বিবিসি বাংলায় আজকের আয়োজনে আমার অতিথি মাহমুদুল হাসান সোহাগ। তিনি একজন উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবক। আপনি নানা রকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু আপনি শুরু করেছিলেন কোচিং সেন্টার করার মধ্য দিয়ে এবং সেখান থেকে অনলাইন ভিত্তিক নতুন নতুন উদ্ভাবন যেমন: শিশু-কিশোরদের সাইন্টিফিক কিড, বিজ্ঞান বাক্স, ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম), তারপর হচ্ছে গিয়ে অনলাইনে বই বিক্রি এরকম নানান রকম নতুন নতুন উদ্যোগের কথা আমরা জানি। তো এই ধরণের পরিকল্পনা, এই ধরণের ভিন্ন রকম কাজ করবেন সেই পরিকল্পনা কি আগে থেকেই ছিল, শুরু থেকেই ছিল?


সোহাগ: একচুয়ালী যেটা হয়েছিলো যে, আমি ছোটবেলা থেকেই অনেক প্রশ্ন করতাম। খুব মানে, ক্লাসরুমে। তো আমি "আই ওয়াজ লাকি" যদিও আমার স্কুলটা একটি মফস্বলের স্কুল বাট ওখানে আমার টিচাররা আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছেন, ইন্সপায়ার করেছেন, প্রশ্ন করার জন্য। কিন্তু কলেজে আসার পর একটু ভিন্ন পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, আমি প্রশ্ন করার জন্য অনেক ঝাঁড়ি খাই। কলেজেও, প্লাস ব্যাচেও। তখন আমার মধ্যে একটা জেদ চাপে যে আমি একদিন একটা প্রতিষ্ঠান করব যেখানে প্রশ্ন করে কেউ ঝাঁড়ি খাবে না! রেদার আমরা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি বা না পারি আমরা স্টুডেন্টদের ইন্সপায়ার করব, যাতে তারা প্রশ্ন করে। এখন প্রশ্ন কেন করবে? 'বিকজ' মানুষ চিন্তা করার প্রক্রিয়ার পরেই তো তার মাথায় প্রশ্ন আসে। আর মানুষকে যদি আমি  চিন্তা করতে না শিখালাম, তাহলে তো জাস্ট মুখস্ত করলাম এটাতো পড়ালেখা! মানে 'মিনিংলেজ' আমার কাছে মনে হয়। তো এইটা, এই ড্রাইভ থেকে একচুয়ালি কিন্তু আমি ১৯ বছর বয়সে উদ্ভাস শুরু করি। 'বিকজ' আমার তখন কোনো বিজনেস ব্যাকগ্রাউড ছিল না, আমার ফ্যামিলিতেও না, আমি জানতাম না 'হুয়াট ইজ বিজনেস ওর এন্টারপ্রিনিউরশিপ' 'এই জাস্ট ফলোড মাই প্যাশন' যে আমাকে একটা ছোট প্রতিষ্ঠান হলেও করতে হবে যেখানে কেউ প্ৰশ্ন করে ঝাঁড়ি খাবে না। তো এখান থেকেই শুরু। তারপর একচুয়ালী ভিতরে ঢুকে গিয়েছি আর কি!


উপস্থাপিকা: তো বাংলাদেশে অনলাইনে বই বিক্রির সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম এই মুহূর্তে রকমারি। এটা কিভাবে শুরু করলেন? আর কবে করা হলো?


সোহাগ: রকমারি শুরু করেছি ২০১২ সালে। ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি। এবং রকমারির উদ্যোগটা একটু ভিন্নভাবে আমার অন্য উদ্যোগগুলোর তুলনায় কারণ এখানে হচ্ছে আমাদের বুয়েটের ৩ জন জুনিয়র, ওরা কিছু আইডিয়া নিয়ে আমার এবং লিটন।.. আমরা যে দুইজন একসাথে আছি ২০ বছর ধরে। তো আমাদের কাছে আসে, তো আমরা ঐ প্রজেক্টটা শুরু করি সেটা রকমারি ছিল না। অন্য একটা প্রজেক্ট। ওই প্রজেক্টটা একসময় 'ফ্লাই' করে। অনেক বড় প্রজেক্ট তো 'লিংকড ইন' এর মতো একটা প্রজেক্ট ছিল। সো আমরা বুজতে পারিনি যে এটা এত বড় প্রজেক্ট হবে। সো একটা সময় গিয়ে আমরা 'কাইন্ড অফ' একটু ফ্রাস্টেটেড হয়ে পরি। তারপর 'ত্রিপল' নামে আমরা একটা প্রজেক্ট করি প্রথম আলোর সাথে ঐটা খুব সাকসেসফুল হয়। এরপর আমরা আরো ইন্সপায়ারড হই। এরপরে হচ্ছে যে আমাদের এই যে জুনিয়র ৩ জনের কথা বললাম, ওরা প্রথমে বলল যে ভাইয়া আমরা এই মুহূর্তে কি বই নিয়ে কাজ করতে পারি কিনা? তো বই ব্যাপারটা আমার কাছে 'অলওয়েজ ফ্যাসিনেটিং' আর আমার পার্টনার যে ছিল লিটন।..লিটন আবার 'রকমারি' নামটাও এটা ওর খুব পছন্দ হলো। তখন আমরা বললাম 'ওয়েল ট্রাই ফর ইট' তো আমরা খুব অল্প সময়ের ভিতরেই কারণ ফেব্রুয়ারী মাসে।..আমরা এটা আলোচনা করেছিলাম 'মোস্ট প্রবাবলি' নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে। আর ফেব্রুয়ারি মাস আসতে তো মাত্র ২ মাস বাকি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সাইট-টাইট গুছিয়ে, কিছু 'ইনিশিয়াল' বই 'এন্ট্রি করে আমরা সাহস নিয়ে শুরু করে দিয়েছিলাম।


উপস্থাপিকা: কিন্তু শুরুর দিকে এই যোগাযোগগুলো মানে প্রকাশক, ক্রেতা। মানে এই যে যোগাযোগ গুলো বিভিন্ন 'স্টেক হোল্ডার' দের সাথে সেটা কিভাবে করেছিলেন?


সোহাগ: হ্যাঁ! শুরুর দিকে আমাদের একটা ছেলে ছিল " তুষার " নাম ও এখন "লেবাননে"  থাকে। তো তুষার 'অলমোস্ট অল দ্যা টাইম' হচ্ছে বাংলা বাজার পরে থাকত। ওর একটা 'টি শার্ট' ছিল আমাদের রকমারির ছাপানো একটা 'টি শার্ট' ওকে 'ইভেন' প্রকাশকরা রকমারি নামেই ডাকত। ওর মূল নামই হারিয়ে গিয়েছিল! আমরা যখন একচুয়ালি কাজটা শুরু করলাম ফেব্রুয়ারির জাস্ট ১-২ মাস আগে তখন যেটা হয়েছে কি, মানে পাবলিশাররা শুরুতে সিরিয়াসলি নেন নাই এবং এটা খুব যোক্তিক ওনাদের দিক থেকে। কারণ প্রত্যেক বছর হয় কি, জানুয়ারি ফেব্রুয়ারিতে এরকম বই নিয়ে কাজ করার মতো অনেকে পাবলিশার দের সাথে সাথে দেখা করেন, কথা বলেন এন্ড আইডিয়া দেন। তো পাবলিশাররা মনে করেন যে এরা হচ্ছে বসন্তের কোকিল ফেব্রুয়ারি চলে গেলেই এদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তো উনারা এক্সাক্টলি আমাদেরকে এ রকমই মনে করেছিলেন। বাট আমারা হচ্ছে মানে ইয়েটা হারাই নাই,,মানে আশাটা হারাই নাই। তো আমাদের একচুয়ালী ওনাদের কনভিন্সড করার জন্য অনেক বেগ পেতে হয়েছে, শুরুতে অনেক এফোর্ড দিতে হয়েছে। কিছু কিছু পাবলিশার শুরু থেকেই সাপোর্ট দিয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন। বাট বাদবাকি,, আস্তে আস্তে যখন দেখলেন যে না, আমরা বসন্তের কোকিল না,, আমরা এটা সিরিয়ালি করার জন্যই মাঠে নেমেছি  'দেন' আস্তে আস্তে ওনারা আমাদেরকে সাপোর্ট করেছেন। আর এখানে একটা বড় স্ট্রাগল ছিল আমাদের পাবলিশারদের কিন্তু একটা বড় অংশ কিন্তু ডিজিটালি খুব একটা অভ্যস্ত না। সো উনাদের যে ডেটা এন্ড এভরিথিং এগুলো কিন্তু উনাদের কাছে এভাবে ডিজিটাল ফরমেটে নাই। সো ওখানে আমাদের আজকের দিন পর্যন্ত অনেক এফোর্ড গিয়েছে এবং যাচ্ছে যে বইগুলোকে এন্ট্রি করা লুকিং সাইড আপলোড করা 'দেন' ওনাদের ইনভেন্টরি সফটওয়ার না থাকার কারণে আমরা রিয়েল টাইম জানতে পারি না কোনো একটা বই উনাদের কাছে আছে কি নাই! তো সেজন্যই পুরো কাজটাই আসলে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। বাট ওভারকাম করা সম্ভব হয়েছে প্রাথমিকভাবে আমাদের যে পজিটিভ এটিটিউড যে, হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ আর দ্বিতীয়ত উনারা যখন আমাদেরকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতে শুরু করলেন তখন আস্তে আস্তে জিনিসটা সহজ হয়ে আসে।


উপস্থাপিকা: বাট এই সহজ হয়ে আসার ব্যাপারটাতে আসতে কতদিন সময় লেগেছিলো?


সোহাগ: আমি বলব যে, ধরেন মোটামুটি বছরখানেক পর বরফ গলতে শুরু করে.. এটা হয়তো বলা যেতে পারে। মোটামুটি বছরখানেক ধরেন আমরা অলমোস্ট প্রায় এক পাক্ষিক ভালোবাসার সম্পর্ক বলে না,, সেরকম ছিল অবস্থাটা। তো বছরখানেক যাওয়ার পর মোটামুটি হলো যে, উনারা বিশ্বাস করতে শুরু করলেন যে না এরা হয়তো কাজ-টাজ করার জন্যই আসছে। তো তারপর তো,, মানে আজকের দিন পর্যন্তও কিন্তু আসলে অনেক স্ট্রাগল আছে,,অনেকরকম কারণ আমাদেরকে নাম্বার অফ পাবলিশারস কিন্তু অনেক,, আমাদের এখানে এন্ট্রি হওয়া পাবলিশার কিন্তু অনেক হাজার ইভেন আমরা মোটামুটি নিয়মিত লেনদেন হয় এটাও মনে হয় ৩-৪ হাজার পাবলিশার হবে আর ডেইলি পার্চেজ করি আমরা তাতেও প্রায় ৫০০ পাবলিশারের  কাছে থেকে আমরা ইচ এন্ড এভরি ডে পার্চেজ করি সো ইটস এ হিউজ নাম্বার অফ পাবলিশারস। সো উনাদের সবার সাথে আর আমাদের তো অনেক বড় টিম না। রকমারি টিম যে অনেক বিশাল তাতো না ফলে একচুয়ালি ওখানে আমাদের স্ট্রাগল হয়।


উপস্থাপিকা: রকমারি নিয়ে কিছু সমালোচনা আছে যেমন: একটা সমালোচনা হচ্ছে আপনারা রকমারিতে আপনারা ধর্মীয় বই অনেক প্রমোট করেন। মানে,,, এটা কি সত্যি? এক নম্বর কথা আর দুই নম্বর কথা হচ্ছে,,, যদি সত্যি হয় তার পেছনের যুক্তিটা কি?


সোহাগ: আচ্ছা। এই কথা সত্যি এটাও বলা যাবে না। মিথ্যা এটাও বলা যাবে না। দুই দিকেরই দুইটা পয়েন্ট আছে। আমরা,,,যেটা বলেছেন যে, ধর্মীয় বই বেশি প্রমোট করি এই কথাটার সত্যি দিকটা আগে বলি: সত্যি দিকটা হচ্ছে, নট অনলি ধর্মীয় বুক। একচুয়ালি আমাদের এলগোরিদমগুলো যেভাবে কাজ করে, সেটা হচ্ছে যে ধরণের বই বেশি চলে, সেই ধরণের বই অটোমেটেড প্রোমোটেড হয়। কিভাবে: আমি একটু যদি এক্সাম্পল দিয়ে বলি,, একচুয়ালি আমাদের টপ সেলিং ৩ টা ক্যাটেগরির মধ্যে হচ্ছে ,,, ধর্মীয় বই,,,,সেল্ফ হেল্প বই,,,মোটিভেশনাল এন্ড স্কিল ডেভেলপমেন্টের যে বইগুলো।  কোনো কোনো সময় হয়তো এটা ১ নাম্বারে থাকে কোনো কোনো সময় হয়তো ধর্মীয় ১ নাম্বারে থাকে আর গল্প-উপন্যাস কবিতা টাও এক,দুই তিনের ভিতরে থাকে। তো আমাদের একচুয়ালি ধরেন ক্যাম্পেইন গুলোর একটা বড় বাজেট যায় হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে, ওখানে আমরা যে এডটা  সবচেয়ে বেশি এটাচমেন্ট করি সেটা হচ্ছে ক্যাটালগ এড। তো ক্যাটালগ এডটাতে একচুয়ালি আমাদের কন্ট্রোল খুব কম। এটা ফেসবুক নিজে ডিস্ট্রিবিউট করে। সো ও দেখে যে কোন কোন ইউজার আমার কোন পেজে কখন, কতক্ষন টাইম স্পেন্ড করেছিলো এবং আকৰ্ডিংলি ফেসবুক নিজে তার লিডিং থাকলে তাকে তার চয়েজের বই অথবা মানে যে বই মানে বেশি দেখালে বেশি বিক্রি হতে পারে এটা ফেসবুক নির্ধারণ করে। সেই হিসেবে এটা ট্রু যে আমাদের ইসলামিক ক্যাটেগরি এবং সেল্ফ হেল্প ক্যাটেগরির প্রচার-প্রচারণাটা অনেক বেশি হয়। এটা অটোমেটিক হয় আর আমাদের এই ক্ষেত্রেও বিজনেসে ডিসিশনের জায়গাটা কিন্তু সেইম। ধরেন আপনার প্রোডাক্ট লাইনে আপনার ২০ টা প্রোডাক্ট আছে। তো কোন প্রোডাক্টে আপনি কত ইনভেস্ট করবেন ডিপেন্ড করবে 'আর ওয়াই' কোনটাতে আপনার কত হাই। সো বিজনেস ডিসিশনের জায়গা থেকেও কিন্তু আমাদের ডলার স্পেন্ড করি যখন আমরা ক্যাটালগ এড বাদে আমরা টার্গেট ক্যাম্পেইন করি, তখনও কিন্তু আমাদের যেটা হয় যে আমরা যে বইগুলোতে বেশি আমরা সাকসেস পাচ্ছি সেখানে বেশি স্পেন্ড করছি। যেমন আপনি যদি রিসেন্টলি দেখেন,, আপনি দেখবেন টপ ৫ টা বইয়ের ৫ টাই হচ্ছে ইংলিশ শেখার বই তো রিসেন্ট টাইমে এটার খুব ক্রেজ যাচ্ছে এবং যে বছরগুলোতে আপনারা বলতেছেন যে, ইসলামী বই কেন সব টপে আসলো,,ওই বছর গুলো খেয়াল করেন যেমন এই বছরে কিন্তু টপ মোস্ট ইসলামী বই ছিল না ওটা কিন্তু মুনজেরিন এর একটা বই ছিলো। ইংলিশ শেখার বই তার আগের বছরও যদি দেখেন টপ মোস্ট ২ টা বই ছিল ইংলিশ গ্রামারের ২ টা বই। বাট ২,৩,৪,৫ এ অনেকগুলো ইসলামিক বই ছিলো। সো এই জন্য আমি বলব যে এনসারটা মিশ্রণ, যে আমরা এটাতে শুধুমাত্র একটা ধরণই প্রমোট করতে চাই, এটা না। কিন্তু বিজনেস ওয়াইজ চিন্তা করলে আমাদের বাজেটের একটা বড় অংশ সেটা ধর্মীয় বলে কথা না মানে এইখানে আমার 'আর ওয়াই থিংকিং' যখন আমাকে মেইনটেইন করতে হয় তখন কিন্তু গণতান্ত্রিক হওয়া আমার জন্য বিজনেস কেজ ভিজিবল না। কারণ আপনি সব স্টোরি কিন্তু লিড  লিস্ট করবেন না।


উপস্থাপিকা: বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের জন্য দেশের প্রথম সাইন্স কিড (বিজ্ঞান বাক্স)। এটা তৈরির সঙ্গে আপনি ছিলেন। মানে কি ভাবনা থেকে এটা করেছিলেন?


সোহাগ: ছোটবেলা থেকে, আমি যেহেতু মফস্বলে বড় হয়েছি আমার হাতে তো অনেক যন্ত্রপাতি ছিল না। এই বিভিন্ন জিনিসের পার্টস-পাতি ভেঙে টেঙে গাড়ী-টারি ভেঙে টেঙে আমি নিজের মতো একটা বাক্স বানিয়েছিলাম ছোটবেলায়। তো ঐ বাক্স দিয়ে আমি এটা-সেটা জোড়া দিতাম তেমন কিছু হতো না কিন্তু কল্পনায় আমি দেখতাম এটা হচ্ছে , ওটা হচ্ছে , রকেট হচ্ছে। সো এই,,এই ইয়েটা ছিলো ছোটবেলা থেকেই। এরপর যখন আমি দেশের বাইরে ট্রাভেল করতে শুরু করি তখন আমি সুযোগ পেলেই বিভিন্ন সাইন্স মিউজিয়াম,, এই জাতীয় জায়গা গুলোতে যেতাম। এবং এগুলো এক্সপ্লোর করতে করতে আমি এই ধরণের কিছু জিনিসের আইডিয়া আমি পাই যে, এরকম কিছু বক্স মানে আছে,,, বিভিন্ন জায়গায়। তখন আমি চিন্তা করতে শুরু করি যে আমাদের মতো করে যে আমরা এরকম  কিছু করতে পারি কিনা। আপনি বিদেশী যত সাইন্স কিট পাবেন দেখবেন যে ওটার ভেতরে একটা ম্যানুয়াল থাকে ম্যানুয়ালের ভিতরে কোন এক্সপেরিমেন্টে কি করতে হবে কিভাবে কোনটা বানাতে হবে এই জাস্ট এই বর্ণনাটা থাকে। তো আমি চিন্তা করলাম যে, আমরা শুধু কিন্তু ওকে জাস্ট এই ফান্টুকু দিতে চাইনা যে, এটাতে এটা জোরা দাও লাইট জ্বলে গেল। আমরা ওকে গভীরে নিতে চাই। সো গভীরে নিতে চাইলে ওকে থিউরি বুঝতে হবে। থিউরি জিনিষটা অলওয়েজ বোরিং। থিউরি মানুষ বুঝতে চায় না। কারণ ঐটার জন্য অনেক এফোর্ড দেয়া লাগে। এটাকে কি করা যায়? তখন আমরা একটা আইডিয়া চিন্তা করলাম,, হোয়াট ইফ.. আমরা যদি একটা গল্প নিয়ে আসি, আর এই থিউরি গুলোকে গল্পের ভেতরে ঢুকিয়ে দিই। তখন আমরা একটা গল্প বানালাম "রোবেকুপের গল্প" রোবেকুপ হচ্ছে একটা বোকা রোবট। ওর গ্রহে যখন ওকে ম্যানুফেকচার করা হয় ওয়ান অক্ষে তখন ওর একটা ম্যালফাংশনের কারণে ও একটু বোকা কিসিমের হয়ে যায় এবং ওর ভেতরে দেখা যায় যে, একটা ইমোশনাল একটা বিষয় আছে। তো ওর গ্রহে ইমোশন ব্যাপারটা খুব ট্যাবু। যেকারণে ওর গ্রহ থেকে ওকে পৃথিবীতে নির্বাসন দেয়। আর পৃথিবীর একটা মেয়ে হচ্ছে অরণী। অরণী ইজ ভেরি স্মার্ট। অরণী হচ্ছে রোবটটাকে খুঁজে পায়। সো নাও ইজ অরণী'স জার্নি টু মেক দ্যা রোবট স্মার্ট সো দ্যাট হি ক্যান গো টু হিস্ ওন প্ল্যানেট উইথ ডিগনিটি মানে শিখে-টিখে একটু স্মার্ট হয়ে যেন ওর প্লানেটে ফিরতে পারে। এখন এজন্য ও বোকা বোকা প্রশ্ন করতেছে এবং অরণী ওকে বিভিন্ন কিছু বোঝাচ্ছে। আর তার মাঝখানে কিছু এডভেঞ্চার আছে। এই গল্পের মধ্যে দিয়ে আমরা এই থিওরিটাকে আনার চেষ্টা করেছি এবং নট অনলি সাইন্স,,আমরা অলওয়েজ মনে করি যে, আমি সাইন্স শিখলাম,,, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হলাম কিন্তু আমি যদি ভালো মানুষ না হই তাহলে কিন্তু এটা আরো সর্বনাশী কথা। সো ওর ভেতরে যে মাইন্ড সেটটা পজিটিভ এটিটিউড গুলো ঢোকানো দরকার, মোরাল ভ্যালুস গুলো ঢোকানো দরকার, ওই গল্পের মধ্যে দিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি ওই জিনিসগুলো কিছুটা ইনসার্ট করার জন্য।


উপস্থাপিকা: নতুন যারা উদ্যোক্তা হবে অথবা যারা নতুন উদ্ভাবন নিয়ে ভাবছে তাদের জন্য একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে, সফল উদ্ভাবনকারী হিসেবে আপনার পরামর্শ কি হবে?


সোহাগ: আমি উদ্ভাবনের চেষ্টা করেছি। বাট আমার জার্নির বড় পার্টটা হচ্ছে এন্টারপ্রিনিউরশিপ। এন্টারপ্রিনিউরশিপে কনভার্ট করা। সো আমি মনে হয় এন্টারপ্রিনিউরশিপ এর জায়গা থেকে বললে বেশি ভালো হয়। তো এন্টারপ্রিনিয়ারশীপে আমি যেটা বলবো যে, ম্যাজোরিটি মানুষ যেটা মনে করে যে, ইটস এ গেইম অফ মেকিং মানি। একচুয়ালি এটা একটা রং আন্ডারস্ট্যান্ডিং। এটা আমি আমার লাইফ থেকে জানি। মানি একটা বাই প্রোডাক্ট। দ্যাট উইল ফলো। ইফ ইউ ক্যান ক্রিয়েট দ্যা রাইট  ভ্যালু। সো এন্টারপ্রিনিউররা টাকার পেছনে ছোটেনা, তারা ভ্যালু ক্রিয়েশনের পেছনে ছোটে ফলে টাকা তাদের পেছনে ছোটে। একজন এন্টারপ্রিনিয়ার যদি লিটারেলি সে যদি মোটিভেটেড হয় একটি প্রব্লেম দ্বারা যে 'আই নিড টু সল্ভ দিস প্রব্লেম' যেমন ধরেন আমার কোর মোটিভেশনের জায়গা কিন্তু এডুকেশন। যেকারণে দেখেন আমার জিনিসগুলো কিন্তু সুতোয় গাঁথা। আপনি উদ্ভাস দেখেন পড়ালেখা নিয়ে কাজ করে। রকমারি ই-কমার্স হওয়া সত্ত্বেও, আমরা অন্য প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করি বা করার আমাদের ভিশন আছে কিন্তু মেইনলি আটকে আছি বইয়ের ভিতর। আপনি বিজ্ঞান বাক্স দেখেন, আমাদের টেক্সশপ দেখেন। সো লার্নিং জিনিষটা কিন্তু আমাকে একদম ভেতর থেকে ইয়ে করে,, মানে কি বলে,, পোক করে। তো এজন্য এন্টারপ্রিনিউর এর ওই জায়গাটা বের করা খুব ইম্পরট্যান্ট যে, কোন ইস্যুটা দিয়ে সে রিয়েলি মোটিভেটেড এবং সেই ইস্যুটাকে ঘিরে তার উচিত এমন একটা সলিউশন বিল্ড-আপ এর চেষ্টা করা যেটার একটা ভ্যালু আছে। আর এটার যদি এনাফ ভ্যালু থাকে তাহলে মানুষজন এটাকে গ্রহণ করার জন্য তারা ছুটে আসবে।


উপস্থাপিকা: এবার হচ্ছে গিয়ে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে একটু আলাপ করবো। সেটা হচ্ছে যে, আপনি একসময় নিজেকে নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দিতেন কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আপনার মধ্যে এক ধরনের বেশ বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তো নেটিজেনদের মধ্যে এই বিষয়টা নিয়ে বেশ আলোচনাও আছে। এই ট্রান্সফরমেশনটা নিয়ে আপনি কি বলবেন?


সোহাগ: আমার ট্রান্সফরমেশন হয়েছে আসলে ২ ধাপে। আমার এই এথেইজম যে জিনিসটা, নাস্তিকতার ভাবধারা বা ধ্যানধারণা গুলো এটা একচুয়ালি খুব আর্লি স্টেজে আমার মধ্যে ঢুকতে শুরু করে সেভেন - এইট এর দিকে। সেভেন - এইট এর দিকে আমার কিছু পড়ালেখা এবং ইটসেলফ বিভিন্ন কুয়েরি (কোশ্চেন) এবং সেই কোশ্চেন গুলোর প্রোপার আনসার না পাওয়া দেন আমি রিলিজিওন কেই ডিজবিলিভ শুরু করি বা পুরো জিনিসটাকেই আমার কাছে মনে হয় যে মেবি মেড আপ থিং। তো এভাবে আমার ইন্টারমিডিয়েট লাইফ পর্যন্ত এই জিনিসটা বেশ প্রবল ছিলো। মানে যখন আমি রেলিজিওনকে মানে ইয়ের জিনিস মনে করতাম আরকি,,,মেবি..কি বলে,,সলিড না জিনিসটা। ইন্টারে এসে আমার একটা ট্রান্সফরমেশন হয় সেটা হচ্ছে আমি এথেয়িস্ট থেকে অ্যাগোনিস্টিক হই। অ্যাগোনিস্টিক ভিউ টা হচ্ছে,,অয়েল আমি জাস্ট জানিনা মানে ধর্ম হতেও পারে এটা ট্রু আবার নাও হতে পারে। "আই জাস্ট ডোন্ট নো" হুয়াট ইভেন সামটাইমস অ্যাগোনিস্টিকরা এরকম হয় যে "আই ডোন্ট ইন্টারেস্টেড" যে, আমার ভাই আর ইন্টারেস্টেডও নাই জানার। তো এইটা ছিলো আমার ২০১২ পর্যন্ত। মানে ১২ বছর। ১২ বছর সো আমার বুয়েট লাইফ, আমার এন্টারপ্রিনিউরশীপ শুরুর লাইফ, তো টোটাল লাইফটা কিন্তু আমি অ্যাগোনিস্টিক ধ্যান-ধারণা নিয়ে চলেছি। তো ওই এথেয়িস্ট থেকে আমি অ্যাগোনিস্টিক কেন হয়েছিলাম সেটাও ছিল কিছু পড়ালেখা নিয়ে। সাইন্সের কিছু নতুন জিনিসের সাথে পরিচিত হওয়ার পর তখন গিয়ে আমার আরোগ্যান্টসট টা চলে যায়। যে, গড থাকলেও থাকতে পারে বাট আমরা প্রুফ করতে পারবো এই ক্যাপাসিটিটা আমাদের নাই। এই বিষয়টা আমার ভেতরে ঢুকলো। ২০১২ তে এসে দেন আমার রেলিজিয়াস এর দিকে টার্ন আসে সেটাও কিছু পড়ালেখা নিয়ে বাট ঐটা একটু লম্বা পড়ালেখা, লম্বা জার্নি। বাট এই দৃশ্যমান চেঞ্জ আসছে ২০১৫ তে। আমি হজ্জে যাই। হজ্জে যাওয়ার পর তখন দাড়ি- টারি রাখি আরকি। তো দৃশ্যমান চেঞ্জটা ২০১৫ আসে বাট চেঞ্জটা আসা শুরু করেছে ২০১২ তে একচুয়ালি।


উপস্থাপিকা: তো আপনার এই পরিবর্তনের কারণেই হয়তো অনেকে মানে,, বলেন যে, আপনার রাজনৈতিক পরিচয় আছে। তো আপনার কি কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে?


সোহাগ: না। এবসোলিউটলি না। পরিচয় যেটা আছে সেটা আওয়ামী পরিচয় বলতে পারেন। কারণ আমার ফ্যামিলি ঘোর আওয়ামীলীগের। আমার আব্বা,, মানে আই জাস্ট একটা ছোট্ট এক্সাম্পল বললে বুঝতে পারবেন। উনি এখন আমাদের থানা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা।


উপস্থাপিকা: কিন্তু ধরুন যে, বলা হয়ে থাকে যে, আপনি জামায়াতে ইসলামের রাজনীতি বা এইরকম ইসলামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কিনা? এরকম ব্যাপার বলা হয়ে থাকে।


সোহাগ: এটা হচ্ছে জাস্ট একটা প্রোপাগান্ডা। এটা একটা প্রোপাগান্ডা এবং এই প্রোপাগান্ডাকে আমাকে যে এনসার করতে হবে এটা আমি আসলে লম্বা সময় কোনোদিন ফিল'ই করি নাই। বিকজ আমার আওয়ামী ব্যাকগ্রাউন্ড এতটুকু স্ট্রং, এই প্রোপাগাণ্ডাটা আসলে শুরু হয়েছিলো একটা ঘটনা থেকে। তো ঘটনার দিকে আমি যাচ্ছি না। আ....মানে আচ্ছা ঘটনাটা বলি সেটা হচ্ছে অভিজিৎ রায়ের বই সরানোকে নিয়ে আসলে ঘটনার সূত্রপাত। তখন আমার উপর একটা হুমকি ছিল তখন উল্টা অভিযোগ ছিল। আমি নাস্তিক, নাস্তিকদেরকে প্রমোট করি সো আমাকে হত্যা করতে হবে। সো দীপন দা ওনাকে মেরে ফেলা হলো সূর্যসেনের টুটুল ভাইকে হিট করা হলো। তো ওই লিস্টে কিন্তু আমি ছিলাম। ওই লিস্টে আমি ছিলাম। এবং ওই সময় কিন্তু আমি অভিজিৎ দা 'র বই সরায়ে দেই। বাট আমার কিন্তু উনার সাথে পার্সোনাল রিলেশনশীপ ছিলো। এবং বিশেষ করে দীপন দা 'র সাথে আমার অসম্ভব ভালো রিলেশনশীপ ছিলো। আমি দীপন দা 'কে বললাম দীপন দা আমি বই সরায়ে দিচ্ছি ভাই। মানে আমার এতো সাহস নাই। কারণ একেতো আমাকে কতলের ওখানে ই দিচ্ছে আর দ্বিতীয়ত রকমারি 'কে হামলা করার জন্য। যে রকমারির যাকে পাবে তাকেই হামলা করবে। সো আমার প্রতিষ্ঠানের লোকজন আমার সন্তানের মতো। সো আমার এতো সাহস নাই যে আমি এই বই রেখে দিবো। এরপর থেকে যেটা হলো যে, তখন মানে অভিজিৎ দা 'র যারা অনুসারী তারা ঐদিন ভোরবেলা প্রথম আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা শুরু হলো রকমারি জামায়াত শিবিরের প্রতিষ্ঠান। বর্জন করুন। দ্যাট ইজ দ্যা ফার্স্ট ডে। এই ক্যাম্পেইটা স্টার্ট হয় এবং যেটা এখন পর্যন্ত চলছে।


উপস্থাপিকা: সর্বশেষ, মানে আমরা এই ইন্টারভিউ এর একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। জানতে চাইবো আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?


সোহাগ: আ...ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তো হচ্ছে যে, আমরা যে স্বপ্নগুলো নিয়ে আমাদের এই কোম্পানি গুলো রান করছি তো সেই স্বপ্ন গুলোকেই ক্রমাগত সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিশেষ করে আমাদের সবচেয়ে কোর যেটা 'এডুকেশন' এডুকেটিং পিপল তো এই জায়গাটা ক্রমাগত কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব বিভিন্ন রকম রং এলিমেন্টস ইন দ্যা কালচার সবকিছু মিলিয়ে বাচ্চারা এখন আরও পড়তে চায় না। শিখতে চায় না। সো পড়ালেখাটাকে কিভাবে আরও বেশি পড়ালেখা বলতে কিতাবী পড়ালেখা না বরং লার্নিং প্রসেসটাকে কিভাবে আরও এনজয়এবল করানো যায়। কিভাবে আরও বেশি কাস্টমাইজ করা যায়। তো আমরা এডুকেশন ঐ নতুন যে ধারাটা ঐটা আমাদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন যে, আমরা চাই যে, মানুষের লার্নিং প্রসেসে আমরা একটা বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে যাতে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করতে পারি।


উপস্থাপিকা: মাহমুদুল হাসান সোহাগ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। বিবিসির এই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য।


সোহাগ: আপনাকে অনেক বেশি ধন্যবাদ কন্ট্রোভার্সিয়াল কোশ্চেন করার জন্য বিকজ এই ধরণের কথা বলতে আমি একটু শাই ফিল করি। কারণ নিজের প্রচারণা ঢাক-ঢোল পিটানো জিনিসটাতো  একটু কেমন কেমন লাগে। তো যাইহোক কোশ্চেন গুলো সামনে আসছে। আই ফিল গুড এবাউট ইট।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল

মন্তব্য করুন: