মঙ্গলবার ২৪ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ৯ ১৪৩২, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৭

ব্রেকিং

পিছু হটলেন ট্রাম্প, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিত ইরানকে সাহায্য করতে সোনা-রূপা নগদ অর্থ দিচ্ছে কাশ্মীরিরা ‘জাল ভোট’ নিয়ে ‘বিএনপি-জামায়াত’ সংঘর্ষে ৪০ বাড়ি ভাঙচুর, মুহুর্মুহু বোমা মার্চের মধ্যে ‘দখলদারদের’ ফুটপাত-সড়ক ছাড়তে বলল পুলিশ তেল সংকটে বগুড়ায় ৭২ পেট্রোল পাম্প বন্ধ, ভোগান্তি চরমে ইরানজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণ: আহভাজে হাসপাতালে হামলা, মৃতের সংখ্যা বাড়ছে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ মৃত্যু: ২ গেইটম্যানের বিরুদ্ধে মামলা ‘ব্যাংক বন্ধ থাকায়’ তেল সংকট, বলছেন পাম্প মালিকরা এক দশক পর পাবনায় ‘চরমপন্থিদের’ পোস্টার, আতঙ্ক ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ইসরায়েলের দুই শহরে ইরানি হামলার পর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ইরান: মাসুদ পেজেশকিয়ান লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সেতু উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল দক্ষিণ কোরিয়ায় কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪ পিএসএল খেলতে পাকিস্তান গেলেন চার বাংলাদেশি ক্রিকেটার

অর্থনীতি

ইসলামী অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য ও মূলনীতি

মুফতি বেলাল রহমানী

 আপডেট: ০৮:০৫, ৭ মার্চ ২০২৩

ইসলামী অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য ও মূলনীতি

ইসলামী অর্থনীতি বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় একটি অর্থব্যবস্থা। মুসলিম দেশ ছাড়াও বহু অমুসলিম দেশ এই ব্যবস্থাকে গ্রহণ করেছে। মুসলিম দেশের পাশাপাশি পৃথিবীর অনেক অমুসলিম দেশেও ইসলামী ব্যাংকিং চালু আছে। এ অর্থনীতির রয়েছে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা।

ইসলামী অর্থনীতি কোরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন ও সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৫)

ইসলামী অর্থনীতিতে আসমান ও জমিনের সব সম্পদে সবার সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৯)

ইসলামী অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত কল্যাণের যত্ন করা হয়। তাই প্রতিবেশীকে শুফার অধিকারসহ বিভিন্ন হক প্রদান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আত্মীয়-স্বজনকে তার প্রাপ্য দেবে।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ২৬)

ইসলামী অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত কল্যাণের ওপর দলের ও সমাজের কল্যাণ প্রাধান্য আছে। তবে তা হতে হবে ন্যায় ও নীতির ভিত্তিতে। তাই জনসাধারণ চলাচলের জন্য রাস্তার জমিও ছাড় দিতে হয় এবং মানুষের চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনে গুদামজাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।‘ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিন যাবৎ খাবার গুদামজাত করবে সে আল্লাহর জিম্মা থেকে পবিত্র। আল্লাহও তার জিম্মাদারি থেকে মুক্ত।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ৪৮৮০)

ইসলামী অর্থনীতিতে সব ক্ষেত্রে সুদ হারাম করা হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের বকেয়া যা আছে তা ছেড়ে দাও—যদি তোমরা মুমিন হও।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৯)

ইসলামী অর্থনীতিতে প্রত্যেকের সর্বনিম্ন জীবিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই কেউ অক্ষম হলে তার দায়িত্ব ছেলে বা মা-বাবা বা স্বামী বা আত্মীয়-স্বজনকে গ্রহণ করতে হয়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘ধনীদের ধন-সম্পদে আছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের হক।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৯)

ইসলামী অর্থনীতি সৎ চরিত্র দ্বারা বেষ্টিত। তাই একে অন্যকে ধোঁকা, প্রতারণা ও ক্ষতিসাধনের অনুমতি নেই। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের ওপর হাতিয়ার উঠাবে সে আমার দলের নয়। আর যে প্রতারণা করবে সে আমার দলের নয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০১)

ইসলামী অর্থনীতিতে অপব্যয় বৈধ নয়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘...অপব্যয় ও অমিতচার করবে না। কেননা আল্লাহ অপব্যয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)

ইসলামী অর্থনীতির উৎস হলো কোরআন, সুন্নাহ, আহকামে ফিকহিয়্যা ও শরয়ি মূলনীতি। (আল ইকতিসাদুল ইসলামী, ওজারাতুল আওকাফ আস সাউদিয়্যা, পৃষ্ঠা ৪)

ইসলামী অর্থনীতির স্তম্ভ তিনটি। এক. ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত মালিকানার স্বীকৃতি। দুই. ইসলামী শরিয়াহর আলোকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। তিন. ভারসাম্যতার মাধ্যমে সামাজিক ইনসাফ। (দারুল ইফতা মিসরিয়্যা, ফতাওয়া দারিল ইফতা মিসরিয়্যা, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৩০৮)

ইসলামী অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানা স্বীকৃত। যেমন—মালে গনিমত, খুমুস, ফাই ইত্যাদি।

সারকথা হলো, ইসলামী অর্থনীতির সঙ্গে বিশ্বাস ও শরিয়তের বিধানের সম্পর্ক আছে। তবে ইসলামে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত এবং নির্দিষ্ট সীমারেখায় স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। ফলে ইসলামী অর্থনীতিতে মূলনীতিগুলো খেয়াল করতে হয়।

অনলাইন নিউজ ২৪