শনিবার ০২ জুলাই ২০২২, আষাঢ় ১৭ ১৪২৯, ০২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

ইসলাম

শেখ সাদীর গুলিস্তা

 আপডেট: ২২:৩৪, ২২ মে ২০২২

শেখ সাদীর গুলিস্তা

পূর্বযুগের এক বাদশাহ জনৈক বুযুর্গকে করেন জিজ্ঞাসা, যার ছিলো অনেক পোষ্যমুখ, আর মনে ছিলো অনেক চিন্তাদুঃখ। জিজ্ঞাসা করেন, আপনার জীবনের প্রিয় সময়গুলো হে জনাব, কীভাবে কাটে দেবেন কি জবাব? তিনি বললেন, সারা রাত কাটে ইবাদত বন্দেগিতে, ভোর রাত কাটে রিযিকের দু‘আ-মুনাজাতে, আর সারাটা দিন যায় রুটি-রুযির ধান্ধায়। বাদশাহর অতি উচ্চ ছিলো চিন্তাধারা, তাই তিনি বুঝে নিলেন তার কথার ইশারা এবং তখনই জারি করলেন হুকুমনামা, দান করো তাকে নতুন জামা-পাজামা, আর জারি করে দাও প্রতি মাসের পর্যাপ্ত ভাতা, যাতে চিন্তুামুক্ত হয়ে সিজদায় পড়ে থাকে তাঁর মাথা। কবিতা- পরিবারের শেকলে বাঁধা তুমি সকাল-বিকাল/ঝেড়ে ফেলো নিশ্চিন্ত ইবাদতের খোশ খেয়াল/ রুটি-রুজির চিন্তা করে যার শান্তিহরণ/ঊর্ধ্বজগতে কেমন করে হবে তার বিচরণ?/ একই ঘোরে নিত্য যে ঘুরি, আর বলি হে মন/ আজ নিশিতে নির্জনে খোদারে করিব স্মরণ/ নিশিতে নামাযে দাঁড়িয়ে হায়, ভাবনা এসে যায়/ সন্তানেরা মোর কী খাবে ভোরে, কী হবে উপায়? শিক্ষা- যারা ইবাদত বন্দেগির স্বাদ পেতে চায়, তাদের কর্তব্য হলো সংসারের ঝামেলায় বেশীমাত্রায় নিজেকে লিপ্ত না করা।

নচেৎ দিনরাত পোষ্যপরিজনের চিন্তায় ডুবে থাকতে হবে, ইবাদতের অবসরই আর পাওয়া যাবে না, এমনকি রাজাবাদশা ও দুনিয়াদারদের কাছে হাত পাতারও যিল্লতি ভোগ করতে হতে পারে। *** এক দেশে ছিলেন এক দরবেশ, বুযুর্গিতে ছিলো নামডাক বেশ। একবার তিনি শহরের জীবন ত্যাগ করে চলে গেলন বনের ভিতরে। সেখানেই শুরু করলেন তার নতুন জীবন, দিন-রাত করেন ইবাদত সঁপে দিয়ে তুনমন। বনের ভিতরে তার জায়নামায থাকে পাতা, উদরের ক্ষুধা দূর করেন খেয়ে গাছের পাতা। ঘটনা শুনে দেশের বাদশাহ হন পেরেশান এবং সঙ্গে সঙ্গে দরবেশের খেদমতে ছুটে যান। বলেন তিনি করজোড়ে নিবেদন করে, হুযূর! দয়া করে ফিরে চলুন শহরে। যদি ভালো মনে করেন এবং কবুল করে আপনার যেহেন, তাহলে বলি- আপনার জন্য নির্ধারণ করবো একটি মনোরম প্রাসাদ; সেখানে নির্জনে ইবাদত করবেন মিটিয়ে মনের সাধ। এখানের চেয়ে উত্তম হবে ইবাদতের একাগ্রতা; তাতে কোন সন্দেহ নেই নিশ্চিত তা।

তাছাড়া লোকেরা ধন্য হবে আপনার নূরানি ছোহবতে এবং মগ্ন হবে আপনার অনুসরণে বন্দেগিতে। দরবেশের মোটেই পছন্দ হলো না বাদশাহর প্রস্তাব, কারণ তাতে পরে হতে পারে মনস্তাপ। তাই তিনি তার নিবেদন নাকচ করে দিলেন এবং অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তখন বাদশাহর সঙ্গী এক উযির দেখালেন যুক্তি, ঠিক নয় তাকে ফিরিয়ে দেয়া যিনি করেন এত ভক্তি। অন্তত বাদশাহর মনরক্ষার খাতিরে দু’তিন দিন এসে থাকুন শহরে। নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন প্রাসাদের পরিবেশ। সেখানে ইবাদতে না হয় যদি মনোনিবেশ, আর সাধারণ মানুষের সঙ্গ, যদি করে আপনার ধ্যান ভঙ্গ, থাকবে তো আপনার অধিকার সবকিছু ছেড়ে চলে আসার। কথিত আছে, দরবেশ শহরে এলেন দুদিনের জন্য। শহরবাসী সকলে তার আগমনে হলো যেন ধন্য। শাহী উদ্যানে এক প্রাসাদ তার জন্য করা হলো খালি। রোয সকালে তার খেদমতে তাজা ফুল হাযির করে মালী। সে বাগানের সৌন্দর্যের কথা আর বলো না; আসলে দুনিয়াতে ছিলো তা জান্নাতের নমুনা।

কবিতা- লাল গোলাব যেন প্রিয়তমার গণ্ডদেশ/ ঝুলে থাকা ‘সাম্‌বাল’ যেন তার কৃষ্ণ কেশ/ ‘শীত-সকালে’ ফুলগুলো তরুতাজা দেখতে এমন/ এখনো মায়ের কোলে দুধ না খাওয়া শিশু যেমন/ ডালে ডালে ঐ যে দেখো তুমি শত শত ‘আনারকলি’/ সবুজ গাছে ঝুলে আছে যেন লাল অঙ্গারগুলি। দরবেশের সেবায় বাদশাহ পাঠালেন একদাসী, এমন ছিলো যার সৌন্দর্যরাশি- চাঁদের টুকরো এক, ভাঙ্গে যেন সুফীর ধ্যান/ অপ্সরি, ময়ূরি, তারে হেরি হারায় সবে জ্ঞান/ গুলবাগে চুল খুলে সবুজ ঘাসে করে পায়চারি/ তসবি হাতে রাখতে নারে কেহ ধৈর্য ধরি। দাসীর পরে বাদশা পাঠালেন সুদর্শন এক দাস, যেন এক নাশ, সঙ্গে তার সর্বনাশ। কবিতা- পেয়ালা হাতে সবার মাঝে ঘোরে সে সাকী/ দেয় না কিছু দেখায় শুধু যুলুম এ কী!/ দেখে দেখে আশ না মেটে, শুধু নেশা ধরে/ ফোরাতের তীরে যেন পিপাসায় মরে। দরবেশ তার জায়নামায রেখে একপাশে, মজে থাকে ফলের স্বাদে, ফুলের সুবাসে এবং পানাহারে ভোগবিলাসে। কখনো সুদর্শন দাস, কখনো সুন্দরী দাসী, উপহার দেয় কটাক্ষ আর মধুর হাসি। মুগ্ধ দরবেশ তা করে অবলোকন, তার মন যেন করে ওঠে কেমন! এ কারনেই তো জ্ঞানিগণ বলেন অবিরত, রূপসীর কেশ হলো বুদ্ধির শিকল, জ্ঞানীর জ্ঞান করে দেয় বিকল। কবিতা- তব চরণে করিনু উৎসর্গ ইহ-পরকাল/ আমি মূর্খ পাখী, তুমি যে মনোহর এক জাল।

মোটকথা, দীর্ঘ ইবাদতের যা কিছু অর্জন গেলো সব রসাতলে, পুণ্যের সাধনা করলেন বর্জন ভোগের পদতলে। কবিতা- জগতের যত পীর-সাধু, জ্ঞানী, কবি/ ঘোচায় ঘোর আঁধার, হয়ে সত্যের রবি/ দুনিয়ার লোভে যায় যবে যায় অধঃপাতে/ যেন মাছি উড়ে গিয়ে পড়ে যায় মধুতে। এভাবে সুখে-ভোগে দরবেশের দিন কাটে গুলবাগে, বাদশাহর মনে ফের দরবেশের যেয়ারাতের সাধ জাগে। গিয়ে দেখেন, তিনি তখন অন্য মানুষ, ঘীয়ে মাখনে বিলকুল নাদুশনুদুশ! হেলান দিয়ে আছেন মখমলের তাকিয়ায়। রূপসী দাসী মাথার উপর ময়ূরপাখা দোলায়। দরবেশের খোশহাল দেখে বাদশাহ হলেন খোশ; বাড়িয়ে দিলেন মাসোহারা ও খোরপোশ। দরবেশের সঙ্গে বাদশাহর হলো অনেক কথা, অবশেষে বললেন তিনি নত করে মাথা, দু’টি শ্রেণীকে আমি মনে প্রাণে ভালোবাসি, আর কেউ তাদের বাসে না ভালো এত বেশী। এক হলো যারা আলিম, বিদ্যানুরাগী, আর হলো যারা যাহিদ, সংসারত্যাগী। এক উযির অতি বিচক্ষণ, বাদশাহর সঙ্গে থাকেন সর্বক্ষণ, বললেন তিনি ধীরে ধীরে বাদশাহকে সম্বোধন করে, জাহাঁপানা, দাবী হলো ভালোবাসার, উভয়ের সঙ্গে করবেন সদাচার। আলিম যারা তাদের দান করুন বেশুমার, যেন ইলমের প্রতি হয় অনুরাগ সবার। আর যারা যাহিদ সংসার ত্যাগী, দান দ্বারা ঠিক নয় তাদের করা দুনিয়াভোগী। শিক্ষা- দুনিয়ার মোহজাল এবং শয়তানের ধোকা সম্পর্কে সাবধান থাকা উচিত। 

একটি ঘটনা লোকে করে বর্ণনা; দূরের এক দেশ, সেখানে ছিলেন এক দরবেশ। যেমন জ্ঞানী তেমন গুণী। তার ছিলো কালো কুৎসিত এক কন্যা, দেখলে সবার ধরে যায় ঘেন্না। কন্যা ধীরে ধীরে বড় হলো এবং দেখতে দেখতে বিয়ের বয়স হলো। কিন্তু যেমন তেমন বরও জোটে না মেয়ের কপালে, সবাই যে রূপের পূজারী একালে এবং সেকালে! একে ওকে যতই বলা হয় যৌতুকের কথা, গোমড়া মুখে চলে যায় দুলিয়ে মাথা। বেটে, মোটা, সেও বলে ‘এ মেয়ে নয় পসন্দ, যৌতুকে চালাতে চাও অচল পণ্য, আমি কি অন্ধ! যতই সাজুক বদসূরত দুলহান, শোভে না তার গায়ে রেশমি ‘পিরহান’।’ অবশেষে দরবেশের দুয়ারে দাঁড়ালো এসে সত্যি এক অন্ধ। নাচার বাবা তারই হাতে তুলে দিলেন মেয়ে, চোখ করে বন্ধ।

বহু দূরে লঙ্কা দেশে ছিলেন মস্ত এক বৈদ্য, শোনা গেলো, এদেশে তিনি এসেছেন সদ্য। তার দেশ যেমন লঙ্কা, তেমনি বাজলো তার ডঙ্কা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে চিকিৎসার খ্যাতি, অন্ধজনে ফিরে পায় আলো দ্রুত অতি। সবাই এসে পিতাকে বলে, শোন আমাদের পরামর্শ, জামাতার চিকিৎসা করো, কন্যার জীবনে আসে যেন হর্ষ। পিতা বলে, তোমাদের কথা ঠিক, কিন্তু ভয় লাগে ভেবে সবদিক, অন্ধ ফিরে পাবে আলো, ধরা যাক; তখন যদি কন্যাকে আমার দিয়ে দেয় তালাক! জ্ঞানীগণ বলেছেন কথা অতি দামী, কালো মেয়েকে এনে দাও অন্ধ স্বামী।

শিক্ষা- যে কোন কাজ করার আগে চিন্তা করা উচিত, যাতে পরবর্তীতে হিতে বিপরীত না হয়।

***

একবার দেশের বাদশাহর দরবারে, দরবেশদের জামাত এলো এক দরকারে। বাদশাহ প্রথমে পুছলেন তাদের পরিচয়, তারপর করলেন কুশল বিনিময়। তিনি তাদের পাশে বসালেন করে আদর-সমাদর, যেন অন্তরে তাদের প্রতি অনেক কদর। বাদশাহ অনেক কিছু করলেন, করলেন না শুধু ভক্তি, যদিও মুখে প্রকাশ করেননি বিরক্তি। তবে যাদের আছে অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞা, তারা বুঝতে পারে কোনটি কদর, কোনটি করুণা ও অবজ্ঞা! কিন্তু সবাই সবকিছু বুঝতে পারে না এবং আচরণের গভীরে যেতে পারে না। তাই জামা‘আতের সকলে খুশী হলো এবং বাদশাহকে দু‘আ দিলো। সেই জামাতে একজন দরবেশ ছিলেন অতি বিচক্ষণ, বাদশাহর আচরণ-রহস্য তিনি বুঝলেন বিলক্ষণ। তাই ভরা দরবারে সংযত স্বরে বললেন, শুনুন জাহাপনা, এই দুনিয়া হয়ে যাবে ফানা। এখানে ক্ষণিক জীবনে, দিন-রাত যাপনে আমরা সুখী; আপনি দুঃখী। লোকে-লশকরে, ধনে-ভান্ডারে আমরা তুচ্ছ, আপনি অতি উচ্চ। কিন্তু জীবনের শেষক্ষণে, মরণে কাফনে দাফনে এবং কবরের শয়নে উভয়ে সমান। কারণ উপরে মুছে যায় সব নিশান, ভিতরে শুধু মাটির বিছান। আর কিয়ামতে! জানি না কে ওঠবে কী হালতে। তবে ইনশাআল্লাহ আমাদের হিসাব হবে হালকা, যেন শুকনো পাতা, বা পেয়াজের ‘ছিলকা’। কবিতা-

জানি বাদশাহ তুমি বিশ্বজয়ী অশেষ প্রতাপ/ আমি ফকির, টুকরো রুটির তরে করি বিলাপ/ মহলে-কুটিরে যেদিন মরণ করিব বরণ/ অচিন ঘরে সঙ্গে যাবে শুধু শুভ্র কাফন/ রিক্ত হাতে যাবেই যখন তখত-তাজ ছাড়ি/ বাদশাহি নয়, উত্তম ফকিরি, বলতে পারি।

শিক্ষা- তুমি গরীব হতে পারো, কিন্তু আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদা ভুলে যাওয়া উচিত নয় এবং দুনিয়াদারদের সামনে নিজেকে ছোট করা উচিত নয়।

***

তরীকতের মূল কথা- 

জামায় তালি, ছেঁড়া জুতা আর নেড়ে মাথা, এটা নয় দরবেশির আসল কথা। এটা তো বাইরের খোলস এবং শুকনো নিরস। দরবেশির আসল রহস্য তোমাকে বলবো অবশ্য। যখন দিল হবে যিন্দা এবং নফস হবে মুরদা তখনই তুমি হবে আসল আশিক, জীবনে তোমার হবে ছুবহে ছাদিক। কবিতা-

ফকিরি নয় তো মুখের দাবী, কথার বড়াই/ একটু আঘাতে ফুঁসে ওঠে শুরু করে লড়াই/ পর্বতচূড়া হতে গড়ায় পাথরের চাঁই/ দাঁড়িয়ে থাকে ফকির দিলে যে তার ভয় নাই/ জানে সে খোদার হুকুম ছাড়া পাতা নাহি নড়ে/ কোন শক্তি নাই মারিবে, আল্লাহ রাখে যারে।

***

তরীকতের মূল কথা-

দরবেশের জীবন হবে এমন। মুখে যিকির, দেমাগে ফিকির। দিলে ছবর, যবানে শোকর। অল্পে তুষ্ট, তাকদীরে নয় রুষ্ট। আত্মত্যাগ ও মানবসেবা, এবং ইবাদত-বন্দেগি নিশি-দিবা। তাওহীদ ও একত্বে অটল বিশ্বাস, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহ-ভরসায় কাটে শ্বাস-প্রশ্বাস। উপরের প্রতিটি গুণে যে গুণান্বিত, সেই আসল দরবেশি সাজে সজ্জিত, যদিও গায়ে রেশমি জামা এবং মাথায় দামী আমামা। আর যে ভবঘুরে, নাই নামায-রোযা, আছে শুধু খাহেশাত ও প্রবৃত্তির পূজা। সকাল-সন্ধ্যা যে ভোগ-বিলাসে বিভোর, আর গাফলতের ঘুমে রাত করে ভোর। যা পায় তাই খায়, হালাল-হারাম বাছে না, যা মুখে আসে তাই বকে, ভালো-মন্দ ভাবে না, সে তো ফাসিক-ফাজির, যদিও সুরতে মস্ত ফকির। গায়ে যদিও ফকিরি লেবাস এবং কুটিরে করে বসবাস। কবিতা-

ভিতরে নাই তোমার খোদাভীতি, ধর্মভয়/ গায়ে আলখেল্লা, তুমি কপট সুনিশ্চয়/ দুয়ারে তোমার ঝুলিতেছে পর্দার বাহার/ ঘরের ভিতরে নাই একটা চাটাই তোমার/ বাইরের সাজ ত্যাগিয়া ধর ভিতরের সাজ/ হতে চাও যদি দু’জাহানে বাদশাহ বেতাজ।

***

একদিন দেখি ফুলদানিতে তাজা ফুলের তোড়া, কিছু শুকনো পাতায় মোড়া। অবাক মেনে বলি আপন মনে, তাজা ফুলের পাশে শুকনো পাতা কেন আসে! নিজের মাঝে তুচ্ছ পাতা কী গুণ ধরে, যাতে ফুলের সাজে ফুলের সঙ্গ পেতে পারে! শুকনো পাতা কাঁদে আর বলে, আমি না হয় তুচ্ছ, তুমি কেন অবুঝ হলে? জ্ঞানীদের নীতিকথা ভুলে গেলে? ভদ্র যারা সঙ্গীকে ভুলে না তারা? মানি, ফুলের সৌন্দর্য-সুবাস নেই আমার অঙ্গে, তবু কি ছিলাম না আমি বাগানে ফুলের সঙ্গে?

তাই তো! তাই তো! শুকনো পাতার কথা সত্য তো! মহান দয়াময়ের বান্দা আমিও তো! তাঁরই নিরন্তর দানে ও দয়ায় প্রতিপালিত! কোন গুণ ও যোগ্যতা আমার আছে বা নেই, পাবো তাঁর দয়া ও করুণার ছায়া, আশা এই। জানি, আমল-বন্দেগির নেই পাথেয়-পূজি, তাই তো তাঁর দয়া ও করুণার আশ্রয় খুঁজি! অভাগা বান্দার যখন কোন আশা-ভরসা থাকে না, দয়াময়ের দয়াই তখন তার শেষ ঠিকানা! মালিক যখন আযাদ করেন, বুড়ো নাচার গোলাম বেছে নেন। মানুষের সমাজে যুগ যুগের এই তো রীতি, তুমিও যেন তাই করো দয়াময়, এই মিনতি। বুড়ো সা‘দীকে হে মহান বিশ্বপালক, করো মাফ এবং গোনাহ থেকে করে দাও পাক-ছাফ। হে পাপী, ছাড়ো পাপ, চলো তাঁর সন্তুষ্টির পথে, আনুগত্যের সম্পর্ক করো শুধু খোদার সাথে। বড় দুর্ভাগা যে ছেড়ে যায় এ দুয়ার, আর কোন দুয়ার পাবে না সে আশ্রয় নেয়ার।

শিক্ষা- নিজের তুচ্ছতা এবং গোনাহের আধিক্যের কারণে হতাশ ও নিরাশ হওয়া উচিত নয়। কারণ দয়া ও করুণাই হলো আল্লাহ তা‘আলার শান।

মন্তব্য করুন: