ব্রেকিং:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন.

সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৮ ১৪২৬  

সর্বশেষ:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ওয়েজবোর্ডের বিষয়টিকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি
১৫৯

বেগুন চাষে স্বাবলম্বী

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০১৯  

সবজি উৎপাদনে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে পটিয়ার। বিশেষ করে এখানকার বেগুন বেশ জনপ্রিয়। দেশজুড়ে চাহিদা থাকায় কৃষকরা মৌসুমের আগেই বেগুন চাষ করেন। ন্যায্য দাম পাওয়ায় এর চাষাবাদে দিন দিন অধিক আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয়রা।

পটিয়ার পূর্বাঞ্চলের কেলিশহর, হাইদগাঁও, কচুয়াই, ভাটিখাইন, খরনা, ছনহরা, বড়লিয়া, হাবিলাসদ্বীপ ও ধলঘাট এলাকায় প্রতিবছর বেগুন উৎপাদন হয়ে থাকে। এর মধ্যে অধিকাংশ কৃষকের লক্ষ্য থাকে উৎপাদিত সবজির কাঙ্ক্ষিত মূল্য পেতে মৌসুমের আগেই বেগুন বাজারে আনা।

এমন একজন সফল চাষি পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য এবং কেলিশহর আর্বান কো অপারেটিভ সোসাইটির পরিচালক খায়ের আহমদ। তিনি শখ করে প্রতিবছর তাঁর পৈতৃক জমিতে ও পাহাড়ে বেগুন চাষ করেন। এ বছরও তিনি মৌসুমের আগেই বেগুন চাষ করে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়ায় বেশ খুশি।

তিনি বলেন, ‘পটিয়ার কেলিশহরের মাটি সবজি উৎপাদনের জন্য খুবই উপযোগী। আমরা যুগে যুগে অন্যান্য পেশার পাশাপাশি শখ করে এখানে বেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ করে থাকি। এবার আমি মৌসুমের আগেই প্রায় ২ একর জমিতে বেগুন চাষ করি। এতে আমার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বেগুন ফল পেতে শুরু করায় এ মৌসুমে আমি সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মতো আয় করতে সক্ষম হই।’

তাঁর মতো এখানকার মোরশেদ, রাজ্জাক, আলম, প্রদীপ, আশীষসহ অনেকে এবার মৌসুমের আগেই বেগুনের চাষ করে বেশ দাম পেয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় অধিকাংশ মানুষ বেগুনসহ বিভিন্ন চাষাবাদের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তাঁরা আশাবাদী, এবারের মতো আগামীবারও মৌসুমের আগেই বেগুন চাষ করবেন। সব চাষি কিভাবে আগে বেগুনের চাষ করবেন এবং ফল পাবেন সেই চিন্তায় এখন মগ্ন রয়েছেন।

খায়ের আহমদ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় যে পরিমাণ সবজি চাষ হচ্ছে এর অধিকাংশই যথাসময়ে বাজারে পৌঁছাতে না পারায় নষ্ট হয়ে যায়। যা প্রক্রিয়াজাত করে রাখার জন্য এখানে হিমাগার স্থাপন করলে আমরা বর্তমান দরের চেয়ে আরো বেশি দরে সবজি বিক্রয় করতে পারব। কারণ আমরা শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে যে পরিমাণ সবজি উৎপাদন করি তার উপযুক্ত মূল্য অনেক সময় পাই না। আমরা পচে যাওয়ার ভয়ে বাজারে পাইকারি ক্রেতাদের কাছে অনেক সময় কম দামে তা বিক্রয় করে দেই। যদি হিমাগার থাকে তাহলে আমরা দেখে শুনে তা বিক্রয় করতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে কেলিশহর আর্বান সমবায় সমিতি লি.। কোনো কৃষক টাকার অভাবে চাষাবাদ করতে না পারলে আমাদের সমিতি স্বল্প লাভে তাদেরকে ঋণ দিয়ে থাকে। এর ফল যুগ যুগ ধরে ভোগ করছে এ এলাকার কৃষকরা।’

কেলিশহর আর্বান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক অবসরাপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘কৃষিকে ঘিরেই এর উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে এ সমিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এ সমিতি সব সময় অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়। আমরা লাভ নয়, সেবার মানসিকতায় সমিতির মাধ্যমে কৃষকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

জানা যায়, পটিয়ার কেলিশহর, হাইদগাঁও, খরনা, কচুয়াইয়ের পাহাড়ের পাদদেশ সংলগ্ন কৃষকরা বেশিরভাগ জমিতে বেগুন চাষ করে থাকেন। পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত বেগুন খেতে সুস্বাদু। পাহাড়ের সমতল জমিতে বেগুনের ভালো ফলন হয় বলে বেগুন চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বেগুন চাষে খরচ কম ও স্বল্প সময়ে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরাও এতে দিনদিন আগ্রহী হচ্ছেন। উপজেলার সবচেয়ে বেশি বেগুন চাষ হয় পটিয়ার কেলিশহর, খরনা, হাইদগাঁও, কচুয়াইয়ের পাহাড়ি সংলগ্ন জমিতে। অল্প পুঁজিতে বেগুন চাষ করে পাহাড়ি এলাকার অনেক কৃষক আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন। বেগুন বিক্রি করে সাংসারিক খরচ মিটিয়ে বাড়তি টাকা সঞ্চয়ও করেছেন অনেকেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বেগুনসহ সকল সবজির ভালো ফলন পেতে সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর ফলে অনেকেই এক ফসলি জমিতে তিন ফসলি সবজিচাষ করে লাভবান হচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হরমোন পদ্ধতিতে বেগুন চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে থাকি। যার ফলে তারা পোকা ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পারে।’ তিনি পটিয়ায় ব্যাপক বেগুন চাষের সফলতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামীতেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে কৃষকদেরকে সবজিচাষ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কৃষকরদের যেকোনো ধরনের পরামর্শ দিতে আমরা মুখিয়ে আছি।’


অনলাইন নিউজ পোর্টাল
অনলাইন নিউজ পোর্টাল
এই বিভাগের আরো খবর