বুধবার ৩০ নভেম্বর ২০২২, অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯, ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আন্তর্জাতিক

মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা, এবার সাইবার হামলার মুখে ভারত

 আপডেট: ১৪:৫০, ১৩ জুন ২০২২

মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা, এবার সাইবার হামলার মুখে ভারত

মহানবী (সাঃ) কে অবমাননার ঘটনায় এবার ভারত পড়েছে সাইবার হামলার মুখে। তাদের সরকারি ও বেসরকারি
ওয়েবসাইট হ্যাকারদের খপ্পরে পড়েছে। অন্তত ৭০টি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট হ্যাক হয়েছে বলে খবর দিয়েছে টাইমস অব
ইন্ডিয়া। 

মালয়েশিয়ার হ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ ড্রাগনফোর্স এই কাজ করেছে বলে তারা জানায়। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে 
হ্যাকাররা। তারা ইসরাইলে ভারতীয় দূতাবাস, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন ম্যানেজমেন্ট ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব অ্যাগ্রিকালচার রিসার্চের মতো সাইটও হ্যাক করে নিয়েছে। 

হ্যাক হয়ে যাওয়া ৭০ ওয়েবসাইটের মধ্যে আছে দিল্লি পাবলিক স্কুলও। দেশের আরো কয়েকটি কলেজের সাইটও দখলে
নেওয়া হয়েছে। শুধু মহারাষ্ট্রের ৫০ এর বেশি ওয়েবসাইটের নকশা হ্যাক করে বদলে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

অডিও ক্লিপ ও টেক্সটের মাধ্যমে একটি কমন ম্যাসেজ দিয়েছে হ্যাকার গ্রুপটি- ‘‘তোমার জন্য তোমার ধর্ম এবং আমার
জন্য আমার ধর্ম।’’

এই বার্তায় তারা সারা বিশ্বের সব হ্যাকারদের বিশেষ করে মুসলমান হ্যাকারদের, মানবাধিকার সংস্থা ও  অ্যাক্টিভিস্টদের ভারতের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করার ডাক দেয়। 

টাইমস অব ইন্ডিয়া ওয়েব্যাক মেশিনে বিশ্লেষেণ করে দেখেছে, ভারতীয় সরকারি ও বেসরকারি সাইটগুলো হ্যাক করা হয় ৮ থেকে ১২ জুনের মধ্যে। ১৩,০০০ সদস্যের ওই হ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ ভারতের একটি বড় ব্যাংকের নিরাপত্তা ভাঙার চেষ্টা করেছে বলেও দেখা যাচ্ছে। 

নুপুর শর্মা চলমান ঘটনার কেন্দ্রে। তিনি ছিলেন ভারতের ক্ষমাতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্র। দিল্লির এই নেতা গত মাসের শেষ দিকে একটি টেলিভিশন সংবাদ বিতর্কে মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা করে বক্তব্য দেন। তার মন্তব্যের সূত্র ধরে টু্ইটারে দিল্লির বিজেপি নেতা নাভিন জিন্দাল মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে কটুক্তি করেন। পরে তিনি টুইট মুছে ফেলেন। 

কিন্তু বিশেষ করে ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র নুপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে প্রথমে ভারতেই বিক্ষোভ শুরু হয়। কানপুরে গত শুক্রবার (৩ জুন) জুমার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ মুসলমানদের সঙ্গে আরেক গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পর ৪ জুন থেকে মূলত মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারদের ডেকে নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। সেই সঙ্গে অনেক দেশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ভারতকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। কিছু দেশ ভারতকে এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলে। আরব বিশ্বে ভারতীয় পণ্য বয়কট করার ট্রেন্ড শুরু হয়ে যায়। আর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ তো চলমান। 

মুসলিম বিশ্বের কাছ থেকে খুব চাপে পড়ার পর বিজেপি গত ৫ জুন নুপুর শর্মাকে সাময়ীক বরখাস্ত করে। আর নাভিন  জিন্দালকে বহিষ্কার করা হয়। এই ঘটনায় দুজনই প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর দিল্লিতে তাদের  বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। 

কিন্তু মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় থামেনি। ওই দুজনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দিনে দিনে আরো জোরালো হচ্ছে। ভারতীয় সরকারের মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক এখন খুব ঝামেলাপূর্ণ একটি অবস্থায় পড়ে গেছে। নিজেদের দেশেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে এখন চাপে তারা। 

মন্তব্য করুন: