বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪, বৈশাখ ১১ ১৪৩১, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫

ইসলাম

ইবাদতে স্বাদ ও মুহাব্বত লাভের ৪টি উপায়

মুফতি জাওয়াদ তাহের

 প্রকাশিত: ১৪:৩৬, ২৬ জুলাই ২০২৩

ইবাদতে স্বাদ ও মুহাব্বত লাভের ৪টি উপায়

و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার অন্যতম একটি নিয়ামত হচ্ছে, ইবাদতেই স্বাদ অনুভব করা। আমাদের অনেকেরই অনেক সময় এমন হয় যে, নামাজ, রোজা ইত্যাদি ভালো কাজ সবই করা হচ্ছে। কিন্তু ইবাদতে কোনো স্বাদ অনুভব হয় না।

ইবাদতে স্বাদ ও মুহাব্বত লাভের উপায়

এক.

যেসব কারণে ইবাদতে স্বাদ অনুভব হয় এর মধ্যে একটি হচ্ছে, ইবাদতের জন্য সাধনা করা। এর জন্য এমনভাবে পরিশ্রম করা যে, একসময় মন ইবাদতেই শান্তি খুঁজে পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! সবর অবলম্বন করো, মুকাবিলার সময় অবিচলতা প্রদর্শন করো এবং সীমান্ত রক্ষায় স্থিত থাক। আর আল্লাহকে ভয় করে চল, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। (সুরা : আল-ইমরান, আয়াত : ২০০)

দুই.

সব ধরনের পাপাচার থেকে বিরত থাকা। পাপের একটি নগদ শাস্তি হচ্ছে ইবাদতের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়া। পাপের কারণে বান্দা এবং আল্লাহর মাঝে এক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে যায়। ফলে অন্তর কঠোর হয়ে যায়। সেজন্য সে আর ইবাদতের স্বাদ অনুভব করে না। বিশেষ করে দৃষ্টিকে সংযত রাখা। অসুস্থ শরীর যেভাবে খাবারের স্বাদ অনুভব করে না তেমনি পাপাসক্ত ব্যক্তি ইবাদতের স্বাদ অনুভব করে না। কারণ তার শরীর অসুস্থ হয়ে আছে।

ইরশাদ হয়েছে, কোনো মুসলিম যখন প্রথমবার কোনো নারীর সৌন্দর্যের প্রতি দৃষ্টি পড়ার পর, দৃষ্টি অবনত করে, আল্লাহ তাআলা তাকে ইবাদতে বিশেষ স্বাদ আস্বাদন করান। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৭৮৪)

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘তুমি যদি আমলের স্বাদ অনুভব না কোরো, তাহলে তুমি নিজের আমলকেই দোষারোপ কোরো।’ (মাদারিজুস সালিকিন : ২/৯০)

সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, আমি একটি পাপের কারণে দীর্ঘ পাঁচ মাস রাতের ইবাদত থেকে বঞ্চিত হয়েছি। কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করল, কী সেই পাপ? তিনি বললেন, আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম সে কাঁদছে। তখন আমি মনে মনে বললাম এই ব্যাক্তি লোক দেখানোর জন্য কাঁদছে। ( ইহয়াউল উলুম : ১/৩৫৬)

তিন.

অহেতুক জিনিসকে বর্জন করে চলা। অহেতুক কথাবার্তা অতিরিক্ত পানাহার, এসব বিষয় ইবাদতের মাঝে প্রভাব সৃষ্টি করে। আল্লাহ বলেন, হে আদমের সন্তান-সন্ততিগণ! ... খাও ও পান করো, কিন্তু অপব্যয় করো না। আল্লাহ অপব্যয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সুরা : আল-আরাফ,আয়াত : ৩১)

মারুফ কারখি (রহ.) বলেন, ‘অহেতুক কথাবার্তা বলার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কাছ থেকে দ‚রে সরে যায়।’ (জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম, ৩১৭)

চার.

মনে মনে এ কথার দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তাআলার ইবাদত, নামাজ, রোজা, হজ, সদকা ইত্যাদি আল্লাহ সন্তুষ্টি পাওয়ার মাধ্যম। এবং এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ভালোবাসবেন। আর বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবে। আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, সে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে, যে রব হিসেবে আল্লাহকে, দ্বিন হিসেবে ইসলামকে এবং রাসুল হিসেবে মুহাম্মাদ (সা.)-কে সন্তষ্টচিত্তে স্বীকার করেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৭)

মুসলিম বাংলা

মন্তব্য করুন: