সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, আশ্বিন ১১ ১৪২৯, ২৯ সফর ১৪৪৪

ফিচার

পদ্মা সেতু: উপকৃত হবে নড়াইলসহ ২১টি জেলা

 প্রকাশিত: ১৫:০১, ১১ জুন ২০২২

পদ্মা সেতু: উপকৃত হবে নড়াইলসহ ২১টি জেলা

নড়াইলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে আগামী ২৫ জুন। এদিন সকাল ১০টায় সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হলে নড়াইলসহ এ অঞ্চলের ২১টি জেলা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের খবরে খুশি এ জেলার মানুষ। 

স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে চাইলে নড়াইল বঙ্গবন্ধু হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাছুম জমাদ্দার বলেন, আমাদের ব্যবসায়িক কাজে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন ঢাকায় যেতে হয় দোকানের মালামাল কিনতে। ঢাকায় যাওয়া-আসা এবং মালামাল কিনে ফিরে আসতে কমপক্ষে দুইদিন সময় ব্যায় করতে হয়। পদ্মা সেতু চালু হলে আমরা সকালে ঢাকায় গিয়ে মালামাল কিনে নিয়ে বিকেলের মধ্যে এসে বেচা-কেনা করতে পারব। এতে করে আমাদের সময় এবং খরচ কমবে। তাতে আমাদের লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

নড়াইলের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র রুপগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পণ্যের ডিলার এসএম সামছুজ্জামান খোকন বাসসকে বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের সেতু। এ সেতু চালু হলে নড়াইলসহ এ এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি স্বাবলম্বী হবে। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, এখন কোম্পান্নিতে মালের অর্ডার দিলে মাল নিয়ে সকালে রওয়না দিলে মাল পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়। রাতে মাল নিয়ে আসলে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয় এবং মাল নামানোর জন্য রাতে শ্রমিকও পাওয়া যায় না। তাই সকাল পর্যন্ত অপেক্ষ করতে হয় এতে করে আমাদের খরচ বেড়ে যায়। আর পদ্মা সেতু চালু হলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে আমাদের পণ্য চলে আসবে দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করে ঢাকায় ফিরে যেতে পারবে। এতে করে আমাদের সময় এবং খরচ দুটোই কমবে। আমাদের লাভ হবে বেশি।

নড়াইল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসানুজ্জামান বলেন,পদ্মা সেতু চালু হলে নড়াইলের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। জেলায় ইতিমধ্যে বিসিক শিল্পনগরী এবং অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার প্রকল্প চলমান রয়েছে। 
ইতিমধ্যে দেশের বড় বড় কোম্পান্নিগুলো নড়াইলে জমি ক্রয় করে মিল কলকারখানা তৈরী করার প্িরক্রয়া শুরু হয়েছে। এতে করে আমাদের এ অঞ্চলের বেকার সমস্যার সমাধান করে, ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিপাবে। দেশের অন্যতম স্থবন্দর বেনাপোল থেকেও আমদানি-রপ্তানী বৃদ্ধি পাবে। নড়াইল একটি কৃষি প্রধান জেলা হওয়ায় এখানে উৎপাদিত কৃষি পণ্য সহজে আমরা ঢাকায় প্রেরন করতেত পারবো। এতে করে কৃষক তাদের নায্য পাওনা বুঝে পাবে।
স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের বক্তব্য: নড়াইল জুড়ালিয়া দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম বলেন, পদ্মা সেতু দেশবাসীর স্বপ্নের সেতু। বিশেষ করে নড়াইলসহ আমাদের এ অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান ও ভাগ্যের ব্যাপক পরিবর্তন হবে পদ্মা সেতু চালু হলে।

সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত আরা বলেন, নড়াইলসহ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া পুরণ হতে চলেছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হবে। রাজধানীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন হবে। স্বল্প সময়ে আমরা ঢাকায় যেতে পারব, কাজ-কর্ম সেরে বিকেলের মধ্যে আবার ফিরে আসতে পারব। এতে করেঅ ামাদের সময় অর্থ সাশ্রয় হবে।

নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান কায়েস বলেন, নড়াইলসহ দেশবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে আমরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবো। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন হবে। নড়াইলের ওপর দিয়ে যাবে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কটি। যেটা মিশবে বেনাপোল স্থল বন্দরে নড়াইলসহ ঢাকার সাথে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। নড়াইলে বিভিন্ন মিল কলকারখানা প্রতিষ্ঠিত হবে এতে করে জেলার মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, জীবন মান উন্নত হবে।

পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা বলেন, পদ্মা সেতু দেশবাসীর স্বপ্নের সেতু। নড়াইলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। বেকার সমস্যার সমাধান হবে। পাল্টে যাবে এ এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট পদক্ষেপের কারনেই আমরা ২১ জেলার মানুষ এই সুবর্ণ সুযোগ পেতে যাচ্ছি। এ জন্য নড়াইল পৌরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

নড়াইল সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক(সংযুক্ত) ডা. মো. আসাদ-্উজ-জামান মুন্সী বলেন,পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হলে নড়াইলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জেলার হাসপাতালগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ রোগীদের ঢাকায় প্রেরণ করা হয়ে থাকে। ঘাটে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরির অপেক্ষায় থেকে ফেরি পার হয়ে ঢাকায় যেতে-যেতে অনেক সময় ফেরিঘাটেই রোগী মৃত্যু বরণ করে থাকে। সেতু চালু হলে রোগীসহ যে কোন প্রয়োজনে ২ থেকে আড়াই ঘন্টার মধ্যে আমরা ঢাকায় পৌঁছাতে পারবো। এতে করে রোগীর প্রাণহানী কমবে। নড়াইলবাসী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য: জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল (জাসদ)-এর জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম খান  বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার যেমন উন্নত হবে, তেমনি এ এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নত হবে। জেলায় উৎপাদিত মাছ, ধান-পাটসহ কৃষি পণ্য সহজে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতে পারবে। এতে করে কৃষক তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে।

তিনি আরও বলেন, এখন যারা ঢাকায় থেকে অফিস করছে সেতু চালু হলে চাকরিজীবীরা সকালে গিয়ে অফিস করে সন্ধ্যার মধ্যে বাড়িতে চলে আসতে পারবে। এতে করে রাজধানীতে মানুষের চাপ কমবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতুর কারনে আজ আমরা আমরা গর্ববোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করে দেখিয়েছে আমরা পারি।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুর কারনে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবাহ জিডিপি বৃদ্ধি পাবে। রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিপাবে মানুষের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। এ অঞ্চলে শিল্পায়নের দ্বার উন্মোচন হবে এতে করে বেকার সমস্যার সমাধান হবে, সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। 

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন সিকদার বলেন, পদ্মা সেতু এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সেতু। এটি চালু হলে নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলার মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষার্থীদের সুবিধা হবে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেল সংযোগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান এই বিএনপি নেতা।

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমত আরা বলেন, নড়াইলসহ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের চাওয়া পুরণ হতে চলেছে। স্বপ্নে পদ্মা সেতু চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হবে। রাজধানীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন হবে। স্বল্প সময়ে আমরা ঢাকায় যেতে পারব, কাজ-কর্ম সেরে বিকেলের মধ্যে আবার ফিরে আসতে পারব। এতে করে আমাদের সময় অর্থ সাশ্রয় হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, পদ্মা সেতুর প্রকল্প নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক যখন এদেশীয় ষড়যন্ত্রের কারনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধু কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন প্রজ্ঞা রাজনীতিবীদের কারনেই এতবড় একটি প্রকল্প করার কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়েছিলো। এ জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানায়। দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সেই শুভক্ষণ। আমরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি সেই শুভক্ষণের জন্য।

স্বপ্নে পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলে নড়াইলসহ দক্ষিন-পঞ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। এর ফলে এ জেলায় মিল কলকারখানা প্রতিষ্ঠিত হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্ঠিত হবে বেকারত্ব কমবে। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সুস্বাস্থ্য ও দির্ঘায়ু কামনা করেন এই সাধারণ সম্পাদক।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সড়ক ও যোগাযোগ উন্নয়নে কাজ করছে। এর মধ্যে নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের জন্য অত্যান্ত গর্বের। আর এমন একটি সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়েছে একমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্যই। তার সততা নিষ্ঠার কারনেই এতবড় একটি প্রকল্প সফল ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য নড়াইলবাসীর পক্ষ থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায়।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে নড়াইলসহ এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের ব্যাপক পরিবর্তন হবে। বিশেষ করে যোগাযোগ ও অর্থনৈতকভাবে আমরা আরও বেশি শক্তিশালী হতে পারব। জননেত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: যাত্রী রোখসানা খানম বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের সেতু এটি চালু হলে আমরা অল্প সময়ের মধ্যে নড়াইল থেকে ঢাকায় গিয়ে কাজ শেষ করে বাড়িতে চলে আসতে পারবো। এতে করে আমাদের অর্থ এবং সময় বাঁচবে।

নড়াইল শহরের আলাদাতপুর এলাকার কাজী মাহাবুবুর রহমান সুমন ঢাকায় চাকরি করেন, তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এতে করে আমরা বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে অফিস করতে পারবো। এতে করে আমাদের খরচ বাঁচবে, কারণ বেতনের অর্ধেক চলে যায় বাসাভাড়ার কারনে। বাড়ি থেকে অফিস করতে পারলে বাসাভাড়াসহ অনেক দিক থেকে খরচ বাঁচবে।

হানিফ পরিবহনের বাস চালক মনিরুল ইসলাম শাহীন জানান, পদ্মা সেতু চালু হলে ফেরিঘাটে যাত্রীসহ আমাদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এতে করে চালক-যাত্রীরা স্বল্প সময়ের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে কাজ শেষ করে বাড়ি চলে আসতে পারবে।

জেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহম্মেদ খান বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। পদ্মা সেতু এই এলাকার মানুষের স্বপ্নের সেতু। এ সেতু চালু হলে নড়াইল, যশোর, বেনাপোল স্থলবন্দর ও খুলনা থেকে ঢাকায় যাতায়াতকারী পরিবহন মাগুরা-ফরিদপুর হয়ে যাতায়াতের পরিবর্তে কালনা হয়ে পদ্মা সেতু হয়ে যাতায়াত করতে পারবে। এতে বেনাপোল-ঢাকা ও যশোর-ঢাকার দূরত্ব ১১৩ কিলোমিটার, খুলনা-ঢাকার দূরত্ব ১২১ কিলোমিটার এবং নড়াইল-ঢাকার দূরত্ব ১৮১ কিলোমিটার কমবে। একই ভাবে ঢাকার সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর ওয়াপাড়া, বেনাপোল স্থলবন্দর ও মোংলা বন্দর, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্য জেলার দূরত্বও কমে যাবে। এতে করে আমরা স্বল্প সময়ের মধ্যে ঢাকায় যেতে পারবো। ফেরি ঘাটে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট করতে হবে না।

জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী জহিরুল হক জহির বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে নড়াইলসহ এ এলাকার মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে। যে কোন জেলার উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা হল প্রধান। যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিকমত না থাকায় এ অঞ্চল দির্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর আমাদের জেলায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। আর এ উন্নয়নে পরিপুর্ণতা পাচ্ছে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।

জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সরদার আলমগীর হোসেন আলম  বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু বঙ্গবন্ধু কন্যা সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল। নড়াইলসহ এ আঞ্চলের মানুষদের উপহার দিয়েছেন। পদ্মা সেতু চালু হলে নড়াইল থেকে ঢাকার দূরত্ব হবে মাত্র ১২৭ কিলোমিটার। সড়কে কোন কোন প্রকার যানযট ছাড়ায় স্বল্প সময়ে ঢাকায় যাওয়া যাবে। এতে করে আমাদের সময় শ্রম বাঁচবে। নড়াইল থেকে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। পাশাপাশি মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে। এ অঞ্চলে মিলকলকারখানা তৈরী হবে বেকার সমস্যার সমাধান হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করেন মালিক সমিতির এই সভাপতি।

মন্তব্য করুন: