বৃহস্পতিবার ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৫ ১৪৩২, ১৯ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম বেঁধে দেবে সরকার গাজীপুরে এনসিপি নেতাকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে, অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি রংপুরে শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্ন ‘ফাঁসচক্রের দুই সদস্য’ গ্রেপ্তার প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা: ৮ আসামি দুই দিনের রিমান্ডে দিনভর ভুগিয়ে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার বন্ডাই বিচে বন্দুক হামলা : রয়েল কমিশন গঠনের ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার সোমালিয়ায় খাদ্য সহায়তা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র তীব্র তাপপ্রবাহে অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ‘কর্তন নিষিদ্ধ’ গাছ কাটলে এক লাখ টাকা জরিমানা, অধ্যাদেশ জারি সাগরে গভীর নিম্নচাপ, অব্যাহত থাকবে শৈত্যপ্রবাহ দিপু হত্যা: লাশ পোড়ানোয় ‘নেতৃত্ব’ দেওয়া যুবক গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জে ইজিবাইক চালককে হত্যায় ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড মুছাব্বির হত্যায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা পাতানো নির্বাচন হবে না: সিইসি গ্রিনল্যান্ড কেনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসলাম

মেয়ের ঘরে নবীজির আগমন যেভাবে ঈমানি শিক্ষা দেয়

 প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

মেয়ের ঘরে নবীজির আগমন যেভাবে ঈমানি শিক্ষা দেয়

মহানবী (সা.) পারিবারিক জীবনও ছিলেন মানবতার জন্য এক উজ্জ্বল আদর্শ। বিশেষ করে কন্যা ফাতিমা (রা.)-এর প্রতি তাঁর ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আত্মিক প্রশিক্ষণ ইসলামের পারিবারিক দর্শনকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। আলী (রা.) ও ফাতিমা (রা.)-এর সংসারে নবীজি (সা.)-এর আগমনের ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক সাক্ষাত্ নয়; বরং এটি ইসলামে পিতৃত্বের মর্যাদা, কন্যার সম্মান, দাম্পত্য সহমর্মিতা এবং দুনিয়াবি স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে আত্মিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য দলিল। গৃহস্থালির কঠোর পরিশ্রমে ক্লান্ত ফাতিমা (রা.) খাদেম কামনা করলেও নবী (সা.) তাঁকে এমন এক জিকির শিক্ষা দেন, যা যুগে যুগে মুমিনদের জন্য শক্তি, প্রশান্তি ও বরকতের উত্স হয়ে আছে— যা ‘তাসবিহে ফাতিমা’ নামে সুপরিচিত।

১. কন্যার প্রতি নবীজির গভীর মমতাদায়িত্ববোধ

কন্যা সন্তানের প্রতি পিতার দায়িত্ব ও ভালোবাসা ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। জাহেলি যুগে কন্যাসন্তানকে ঘৃণা করা হতো; এমনকি জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো নৃশংস প্রথাও প্রচলিত ছিল। এই প্রেক্ষাপটে রাসুলুল্লাহ (সা.) কন্যার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন বাস্তব আচরণের মাধ্যমে। ফাতিমা (রা.)-এর কষ্টের সংবাদ শুনে নবী (সা.) নিজে তাঁর ঘরে উপস্থিত হন—যা প্রমাণ করে, কন্যার দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা পিতার নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। কন্যার প্রতি নবী (সা.)—এর অনুরাগের প্রমাণ মেলে এই হাদিস থেকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ফাতিমা আমারই একটি অংশ; যে তাকে কষ্ট দিল, সে আমাকে কষ্ট দিল।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৭১৪) 

২. মেয়ের ঘরে পিতার আগমন ইসলামে সম্মানজনক

মেয়ের সংসারে পিতার আগমন ইসলামে কোনো অসম্মান বা অশোভন বিষয় নয়; বরং তা রহমত ও বরকতের কারণ। নবী (সা.) নিজেই এই সামাজিক ধারণার সংস্কার করেছেন। তিনি ফাতিমা (রা.) ও আলী (রা.)-এর ঘরে শয্যারত অবস্থায় প্রবেশ করে তাঁদের মাঝখানে বসেন। এতে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা ও পিতৃত্বসুলভ স্নেহের সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটে। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, ... অতঃপর নবী (সা.) আমাদের কাছে আসলেন। এমন সময় আমরা আমাদের শয্যাগ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর আমরা উঠতে লাগলাম। নবী (সা.) বললেন, ‘তোমরা তোমাদের যথাস্থানে থাকো।’ অতঃপর তিনি আমাদের দুজনের মাঝে বসলেন। এমনকি আমি তার পায়ের শীতলতা আমার বুকের মধ্যে অনুভব করলাম। (মুসলিম, হাদিস : ২৭২৭)

৩. দুনিয়াবি সুবিধার চেয়ে আত্মিক শক্তির শিক্ষা 

ইসলাম মানুষের বাহ্যিক স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে আত্মিক শক্তি ও আল্লাহর স্মরণকে অগ্রাধিকার দেয়। ফাতিমা (রা.) কঠোর পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে খাদেম কামনা করলেও নবী (সা.) তাঁকে খাদেম না দিয়ে জিকির শিক্ষা দেন। কারণ জিকির অন্তরের শক্তি বৃদ্ধি করে এবং দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের কল্যাণ সাধন করে। আলী (রা.) বলেন, ... নবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা যা চেয়েছিলে আমি কি তার চেয়েও উত্তম জিনিস শিক্ষা দেব না? তোমরা যখন ঘুমানোর উদ্দেশে বিছানায় যাবে তখন ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’, ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ এবং ৩৩বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়ে নিবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪৩৭)

৪. ‘তাসবিহে ফাতিমা’— শারীরিকমানসিক প্রশান্তির আমল

৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার—এই জিকির ‘তাসবিহে ফাতিমা’ নামে পরিচিত। এটি মানুষের ক্লান্তি দূর করে, অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং কাজে শক্তি যোগায়। আসলে জিকির কেবল ইবাদত নয়; বরং জীবন পরিচালনার শক্তিশালী মাধ্যম। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, ... নবী (সা.) উল্লিখিত হাদিসের শেষে বলেন, এটা (তাসবিহগুলো) ‘খাদেম অপেক্ষা অনেক উত্তম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪৩৭) 

৫. স্বামীস্ত্রীর পারস্পরিক সহমর্মিতা

আলী (রা.) স্ত্রীর কষ্ট উপলব্ধি করে খাদেম চাওয়ার পরামর্শ দেন এবং নবী (সা.)-এর সামনে স্ত্রীর কষ্ট নিজে তুলে ধরেন। এটি ইসলামে স্বামী—স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও সহানুভূতির অনন্য দৃষ্টান্ত। একদা আলী (রা.) ইবনু আবাদকে বলেন, আমি আমার স্ত্রী ও রাসুলুল্লাহ (সা.)—এর কন্যা ফাতিমার ঘটনা কি তোমাকে বর্ণনা করবো না? তিনি ছিলেন তাঁর কাছে তাঁর পরিবারের সর্বাধিক প্রিয় এবং তাকে আমি বিয়ে করেছি। যাঁতা ঘুরাতে ঘুরাতে তার হাতে এবং পানির মশক বহন করায় তার কাঁধে দাগ পড়ে যায়। ঘর ঝাড়ু দেয়ায় ও রান্না ঘর পরিষ্কার করায় তার কাপড়ে ময়লা লেগে যায়; এতে ফাতিমার খুব কষ্ট হয়। আমরা শুনতে পেলাম যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট যুদ্ধবন্দী এসেছে। তাই আমি তাকে বললাম, তুমি যদি তোমার পিতার নিকট গিয়ে একটি খাদেম চেয়ে আনতে তাহলে তোমার জন্য যথেষ্ট হতো। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৬৩)

পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম কেবল ইবাদতের ধর্ম নয়; বরং পরিবার, শ্রম, ক্লান্তি, ভালোবাসা ও আত্মিক প্রশান্তির এক পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। মেয়ের ঘরে নবীজির (সা.) আগমন আমাদের শেখায়—পরিবারে ঈমানি শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া পিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দায়িত্ব।