বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ১৮ ১৪৩২, ১২ রজব ১৪৪৭

ইসলাম

জানাজায় জনসমাগম বেশি হওয়ার ফজিলত

 প্রকাশিত: ১৬:৩৭, ১ জানুয়ারি ২০২৬

জানাজায় জনসমাগম বেশি হওয়ার ফজিলত

জানাজা আরবি শব্দ। এর অর্থ : মাইয়্যেত, খাটিয়ার ওপর রক্ষিত লাশ। ইসলামের পরিভাষায়, কোনো মৃত মুসলমানের দাফন সম্পন্ন করার আগে লাখ খাটিয়ায় রেখে বিশেষ আনুষ্ঠানিক ইবাদতের নাম জানাজার নামাজ।

পবিত্র কোরআনে জানাজা ও কাফন-দাফন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ কোনো আলোচনা নেই। কিন্তু অসংখ্য হাদিসে জানাজা সম্পর্কে বিবরণ আছে। সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে রচিত ফিকাহ গ্রন্থগুলোতে এর বিস্তারিত বিবরণ আছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত ব্যক্তির গোসল, জানাজা ও কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা ফরজে কেফায়া।

জানাজায় মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী উপস্থিত হয়ে থাকেন। অনেকের জানাজায় লোকসমাগম স্বাভাবিক থাকে। আবার কারো কারো জানাজায় লাখো মুসলি্লর ঢল নেমে আসে। কৃত্রিমভাবে লোক জড়ো না করে সানন্দে-সাগ্রহে মানুষ যদি মৃত ব্যক্তির জানাজায় হাজির হন, তাহলে এই লোকসমাগম বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। এ বিষয়ে কয়েকটি সহিহ হাদিসে বর্ণনা আছে। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, কুদায়দ' অথবা Èউসকান' নামক স্থানে তার একটি পুত্র সন্তান মারা গেল। তিনি আমাকে বললেন, হে কুরায়ব! দেখ কিছু লোক একত্রিত হয়েছে কিনা? আমি বের হয়ে দেখলাম কিছু একত্রিত হয়েছে। আমি তাকে খবর দিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বলো তাদের সংখ্যা কি ৪০ হবে? বললাম, হঁ্যা। তিনি বলেন, তাহলে লাশ বের করে নাও। আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কোনো মুসলিম মারা গেলে, তার জানাজায় যদি এমন ৪০ জন দঁাড়িয়ে যায় যারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না, তাহলে মহান আল্লাহর তার অনুকূলে তাদের প্রার্থনা কবুল করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২০৮৮) 

অন্য হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন : কোনো মৃত ব্যক্তির ওপর যখন একদল মুসলিম যাদের ১০০ হবে জানাজার সালাত আদায় করে এবং সবাই তার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে, তবে তার জন্য এ সুপারিশ কবুল করা হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২০৮৭)

নবীযুগে একবার একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকেরা প্রশংসা করল। নবী (সা.) বলেন, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে। (আরেকবার) একটা জানাজা বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কিন্তু লোকেরা তার দুর্নাম করল। নবী (সা.) তার সম্পর্কে ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে (তিনবার) বললেন। তখন উমর (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার ওপর আমার মা-বাপ উত্সর্গ হোক! একটা জানাজা অতিক্রম করলে তার প্রতি ভালো মন্তব্য করা হলে আপনি ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে বললেন! আর একটা জানাজা অতিক্রমকালে তার প্রতি খারাপ মন্তব্য করা হলে আপনি ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে-বললেন! রাসুলুল্লাহ (সা.) জবাবে বলেন, তোমরা যার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করেছ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর তোমরা যার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করেছ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তোমরা জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২০৮৯)

এসব হাদিস থেকে বুঝা যায়, জানাজায় লোকসংখ্যা বেশি হলে মৃতের পক্ষে আল্লাহর দরবারে সুপারিশ জোরদার হয়। (তালখিসু আহকামিল জানায়েজ, পৃষ্ঠা ৪৯)

তবে জানাজায় লোক বেশি করার জন্য কৃত্রিমভাবে লোক জড়ো করা, অতিরিক্ত প্রচার করা নিষদ্ধি। হুজাইফা (রা.) বলেন, আমার মৃতু্য হলে এই বিষয়ে তোমরা কোনো ঘোষণা দেবে না। আমার ভয় হয় যে এটা মৃতু্যর সংবাদ প্রচার বলে ধরা হবে। আমি মৃতু্য সংবাদ (কৃত্রিমভাবে) প্রচার করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে নিষেধ করতে শুনেছি। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৯৮৬)