ব্রেকিং:
লিবীয় উপকূলে নৌকাডুবি, ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা ১৮ বছর পর ইরাকে ‘যুদ্ধ সমাপ্তির’ ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাজধানীতে আটক-জরিমানায় চলছে কঠোর লকডাউন

বৃহস্পতিবার   ২৯ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

সর্বশেষ:
বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪১ লাখ ৮২ হাজার ছাড়াল দেশে টিকার আওতায় এসেছ প্রায় এক কোটি ২১ লাখ মানুষ ঈদের আগে দেশে ১৫৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা
২১

হজ্জের পর হাজীদের সাধারণ কিছু ত্রুটি বর্জনীয়

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২১  

হজ্জ্বের পরপর, একজন মুসলমানের জীবনের এক নতুন পর্যায় শুরু হয়। আল্লাহর কাছে তার হজ্জ্ব কবুল হওয়ার প্রেক্ষিতে পাপমুক্ত নতুন এক জীবনে সে পথ চলা শুরু করে। 

আপনি যদি এবছর হজ্জ্ব করার সৌভাগ্য লাভ করেন, তবে হজ্জ্বের পরবর্তী আপনার নতুন এই জীবনে সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। বিশেষত হজ্জ্বের পর হাজীরা তাদের সচেতনতা না থাকার কারনেই সাধারন কিছু ত্রুটি করেন, যা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এখানে কিছু সাধারন ত্রুটি সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

 ১. গুনাহ করা
কোন কোন ব্যক্তি ধারনা করেন, হজ্জ্ব করার পূর্বে তারা যতখুশি গুনাহ করতে পারেন। হজ্জ্ব করার পর তাদের সকল অপরাধকে তারা আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারবেন।

আমাদের মনে রাখা উচিত, হজ্জ্ব কবুল হওয়ার বিষয়টি একমাত্র আল্লাহর উপরই নির্ভর করছে। হজ্জ্ব কবুল হওয়ার প্রেক্ষিতে একজন মানুষের অতীত গুনাহসমূহ মাফ হতে পারে। 

হজ্জ্বের পর আবার গুনাহে লিপ্ত হওয়ার বিষয়টি হজ্জ্ব কবুল না হওয়ার একটি চিহ্ন। আপনার হজ্জ্ব যদি আপনার জীবনে প্রভাব না ফেলে এবং আপনি যদি আগের মতই গুনাহে লিপ্ত হন, তবে আপনার এই হজ্জ্বের মাধ্যমে নিশ্চিত করে আশা করা যায়না, আপনার অতীতের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।

সকল স্থানে, সকল সময়ে, সকল অবস্থাতেই আল্লাহ আমাদের ইলাহ। বিশেষ কোন স্থানে, বিশেষ সময়ে ও বিশেষ অবস্থাতে আমরা শুধু পাপ থেকে দূরে থাকবো এবং অন্য সময়, স্থান ও অবস্থায় আমাদের গুনাহ করার অবাধ স্বাধীনতা আছে, এরূপ চিন্তার কোন অবকাশ নেই।

এই বিষয় সম্পর্কে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

২. ইহরাম পরে ঘরে ফেরা
হজ্জ্ব শেষে ঘরে ফেরার সময় কেউ কেউ ইহরাম পরেই ঘরে ফেরেন। এ আচরণ সম্পূর্ণভাবে উদ্ভট ও অযাচিত আচরন। ১০ই জিলহজ্জ্ব হজ্জ্বের সকল কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরপরই হাজীদের ইহরাম খুলে ফেলতে হয়। 

হজ্জ্ব শেষেও ইহরাম পরিধান করে থাকা বরং হজ্জ্বের নিয়মের বিরোধী। পাশাপাশি এরমধ্যে লোকদেখানো ও লোকের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সূক্ষ্মভাবে লুকিয়ে থাকতে পারে।

৩. ‘হাজী’ সম্বোধনে জোরাজুরি করা
হজ্জ্ব থেকে ফেরার পর কোন কোন হাজী তাকে ‘হাজী’ হিসেবে ডাকার জন্য মানুষের কাছে জোরাজুরি করেন। হজ্জ্বের মূল উদ্দেশ্যের সাথে বিবেচনা করলে এটি দৃষ্টিকটু একটি বিষয়।

হজ্জ্ব করে আসা ব্যক্তিকে অন্যকোন লোক যদি হাজী বলে, তাতে কোন প্রকার সমস্যা নেই। কিন্তু হজ্জ্ব করে আসা ব্যক্তি যদি অন্যদের তাকে হাজী বলে ডাকার জন্য জোর করে, তবে একদিকে যেমন এটি অন্যলোকদের জন্য বিব্রতকর, অন্যদিকে হজ্জ্ব করে আসা ব্যক্তির জন্য হজ্জ্ব করাটা শুধু লোক দেখানো একটি বিষয় হয়ে দাাঁড়ায় মাত্র।

৪. রুক্ষ্ম আচরণ করা
হজ্জ্ব করে আসার পর যদি একজন ব্যক্তির রুক্ষ্ম ও মন্দ আচরণ পরিবর্তন না হয়, তবে তার এই হজ্জ্ব করা সম্পূর্ণভাবে বৃথা। একইসাথে এটি তাদের হজ্জ্বের আল্লাহর কাছে কবুল না হওয়ার একটি প্রমান।

 ৫. রাসূলের নামে শপথ করা
হজ্জ্ব করার জন্য যাওয়া অনেক হাজীই হজ্জ্বের আগে-পরে মদীনায় রাসূল (সা.) এর রওজা জিয়ারত করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হজ্জ্ব থেকে আসার পর কোন বিষয়ে তার মতামতের যথার্থতা প্রকাশ করতে শপথ করেন, “সেই রাসূলের শপথ, যার রওজা আমি জিয়ারত করেছি”। 

এই ধরনের শপথ দ্বীনের মূল বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক এবং এটি সূক্ষ্মভাবে শিরকের প্রসার করে। যদি কখনো শপথ করার প্রয়োজন হয়, তবে একমাত্র আল্লাহর নামেই শপথ করার জন্য শরীয়তে অনুমতি দেওয়া আছে। অন্যথায় শপথ না করে চুপচাপ থাকাই শরীয়তের নির্দেশনা।

আল্লাহ আমাদের এসকল বিষয় সম্পর্কে সচেতন হওয়ার তৌফিক দিন।


এই বিভাগের আরো খবর