গাজীপুরে এনসিপি নেতাকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই
গাজীপুর নগরে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির এক নেতাকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোগরখাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বাসন থানার ওসি হারুনুর রশিদ জানান।
হাবিব চৌধুরী এনসিপির গাজীপুর মহানগর কমিটির সদস্য। তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ব্রাহ্মণ বাউগা গ্রামের ফটিক চানের ছেলে। বর্তমানে তিনি বাসন থানার মোগরখাল (৭১ গলি) এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ জানায়, এনসিপি নেতা হাবিব তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল বিক্রি করার জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেন। সকালে মোগরখাল এলাকায় দুইজন মোটরসাইকেলটি দেখতে আসেন। ঘণ্টাব্যাপী তারা মোটরসাইকেলটি পর্যবেক্ষণ করেন।
এক পর্যায়ে তাদের একজন মোটরসাইকেলটি চালু করেন এক অন্যজন হাবিবের কাছে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি ছোড়েন। হাবিব মোটরসাইকেলের পেছনে দৌড় দিল তাকে লক্ষ্য করে ফের গুলি ছোড়া হয়। তবে গুলি তার শরীরে লাগেনি।
হাবিব চৌধুরী বলেন, “মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করেন। টেস্ট করার কথা বলে, একজন মোটরসাইকেলে উঠে পড়েন এবং অপরজন আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাই। তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে।”
ঘটনাটিকে পরিকল্পিত দাবি করে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও গাজীপুর-২ আসনে দলটির প্রার্থী আলী নাছের খান বলেন, “ট্র্যাপ সাজিয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হাবিব চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করা হয়। গুলি লাগলে তিনিও হাদির মতো শহীদ হতেন।
“শহীদ হাদিকে যেভাবে গুলি করা হয়েছিল, ঠিক হাবিবকেও একইভাবে গুলি করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তারা কেউই নিরাপদ নয়। রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের হত্যাযজ্ঞ করে তুলছে।”
এ ঘটনায় জড়িতদের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান আলী নাছের খান।
বাসন থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে। এ ছাড়া লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুলির খবর পেয়ে মহানগর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দলটি একটি গুলির খোসা পাওয়ার দাবি করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।