বুধবার ০৪ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২০ ১৪৩২, ১৫ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

দুইজন উপদেষ্টা এবং আটজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন মুন্সীগঞ্জে চোর সন্দেহে ‘গণপিটুনি’, হাসপাতালে ২ জনের মৃত্যু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ, সাশ্রয়ে জোর জ্বালানিমন্ত্রীর ভূমধ্যসাগরে পরমাণু রণতরী ‘চার্লস দ্য গল’ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধে ব্যবসায়ীদের বিশেষ ঋণ সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব ভিসা ও গ্রিন কার্ডের প্রসেসিং ফি বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র আটকা পড়া প্রবাসীদের জন্য দুবাইয়ে ইউএস-বাংলার দুটি বিশেষ ফ্লাইট ইরানে হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা খামেনির ছেলে: ইসরায়েলি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম আইআরজিসিকে গুঁড়িয়ে দিতে ২০০০ লক্ষ্যস্থলে আঘাত হানা হয়েছে: ইউএস সেন্টকম দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক

শিক্ষা

দেশের ৬১ জেলার ১৪০৮টি কেন্দ্রে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

 প্রকাশিত: ১১:৫২, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

দেশের ৬১ জেলার ১৪০৮টি কেন্দ্রে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কর্মসূচির কারণে স্থগিত হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর লিখিত পরীক্ষা আগামীকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

তিন পার্বত্য জেলা ব্যতীত দেশের ৬১টি জেলার ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 

লিখিত পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করতে দেশের জেলা প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. মোখলেছুর রহমান বাসস’কে জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর লিখিত পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কঠোর মনিটরিং করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, পাশাপাশি আমাদের মনিটরিং টিম ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের প্রশ্নফাঁস রোধসহ বিভিন্ন ধরনের গুজব, জালিয়াতি এড়াতে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  

পরীক্ষা পদ্ধতি ও মান বণ্টন :
গত ৬ জানুয়ারি ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’ সংক্রান্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এবারের লিখিত পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার পূর্ণমান ৯০ এবং সময় বরাদ্দ থাকবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। পরীক্ষায় নেতিবাচক নম্বর পদ্ধতি কার্যকর থাকবে; প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। জালিয়াতি  রোধে এবারও চার সেট প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে, যা চারটি ভিন্ন রঙের কাগজে মুদ্রিত থাকবে। সেট ভেদে একই প্রশ্ন এবং উত্তর বিভিন্ন ক্রমিকে বিন্যস্ত থাকবে।

কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা:
পরীক্ষা সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের জন্য মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে জেলা পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কর্মকর্তাগণ পরীক্ষার আগের দিন (আজ) সংশ্লিষ্ট জেলায় উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করবেন।

প্রশ্নপত্র ও ওএমআর সুরক্ষা :
প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রতিটি প্রশ্নপত্রের ট্রাংক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গ্রহণ করে ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করবেন। ট্রাংকগুলোতে দু’টি সিলগালাযুক্ত তালা, শিশার সিল এবং আড়াআড়িভাবে দু’টি বিশেষ বেল্ট দিয়ে লক করা থাকবে। এছাড়া ওএমআর শিট, হাজিরা শিট এবং আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি পৃথক ট্রাংকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করবেন।

কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও তল্লাশি :
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা পুলিশ ফোর্সসহ ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে পৌঁছাবেন। পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীগণ মোবাইল ফোনসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করতে পারবেন না। এটি নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রের মূল ফটকে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে এবং ব্যানারের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা :
পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রসচিব এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কেউ কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কক্ষ পরিদর্শক বা পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি মনিটরিং কর্মকর্তারাও পরীক্ষা চলাকালীন প্রয়োজন ব্যতীত স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) এ. কে. মোহাম্মদ সামছুল আহসান নিশ্চিত করেন যে, রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২ জানুয়ারির নির্ধারিত পরীক্ষাটি পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি পুননির্ধারণ করা হয়েছে।