বৃহস্পতিবার ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৪ ১৪৩২, ১৯ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

তারেকের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাৎ ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ‘অনড়’: আসিফ নজরুল ভোটের আগে-পরে ৭ দিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন’: বিএনপি প্রার্থী রেজা কিবরিয়াকে শোকজ অর্থ আত্মসাৎ: কক্সবাজারের সাবেক মেয়র আবছারের ৩ বছরের সাজা রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিরও ‘গণতন্ত্রায়ন দরকার’: খসরু সরকার একটি দলে ‘ঝুঁকেছে’, নির্বাচন ‘পাতানো হতে পারে’: জামায়াতের তাহের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশ, ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত গুনতে হতে পারে দুবাইয়ে ৩ ফ্ল্যাট একরামুজ্জামানের, সাত বছরে ঋণ বেড়েছে ২২ গুণ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় আইসিসির কাছ থেকে আল্টিমেটাম পাওয়ার খবর উড়িয়ে দিল বিসিবি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে, খবর ক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজের যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ কোটি ডলার মূল্যের তেল রপ্তানি করবে ভেনেজুয়েলা মার্কিন তাড়া খাওয়া তেল ট্যাংকার পাহারায় রাশিয়ার নৌবহর গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক বিকল্প ভাবছে ট্রাম্প কলম্বিয়ার গেরিলারা মার্কিন হামলার পর ভেনেজুয়েলা থেকে পালাচ্ছে

ইসলাম

ঐতিহাসিক রুমা কূপ যেখানে অবস্থিত

 প্রকাশিত: ১৭:৫৯, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

ঐতিহাসিক রুমা কূপ যেখানে অবস্থিত

আল্লাহর রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর মুসলমানরা তীব্র পানীয় জলের সংকটে পড়েন। সে সময় মদিনায় একটি মাত্র মিষ্টি পানির কূপ ছিল রুমার কূপ, যা এক ইহুদি ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল। মুসলমানরা সেই কূপ থেকে টাকা দিয়ে পানি কিনে পান করতেন। কিন্তু অনেক মুসলমানের পক্ষে পানি কেনার সামর্থ্য ছিল না।

এই পরিস্থিতি দেখে আল্লাহর রাসুল (সা.) কামনা করলেন, যদি কোনো মুসলমান এই কূপটি কিনে নিয়ে সবার জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দেন। তিনি এ উদ্দেশ্যে সাহাবিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে ব্যক্তি রুমার কূপটি ক্রয় করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। এই কথা শুনে উসমান ইবনে আফফান (রা.) আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আলী ইবনে আবি তালিব, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ, জুবাইর ইবনে আওয়াম ও সাদ (রা.)।

উসমান (রা.) তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে একে একে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আলী কি এখানে আছেন? তালহা কি এখানে আছেন?' এভাবে প্রত্যেকের কাছ থেকে জবাব গ্রহণ করলেন। এরপর তিনি আল্লাহর কসম দিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন এবং শপথ করালেন তাঁরা কি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মুখ থেকে এই কথা শুনেছেন যে রুমার কূপের ক্রেতা আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমাপ্রাপ্ত হবেন? তাঁরা সবাই এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিলেন। তখন উসমান (রা.) তাঁদের জানালেন, তিনি ইতোমধ্যেই রুমার কূপটি ক্রয় করেছেন এবং সেটিকে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছেন, যেন সবাই বিনামূল্যে মিষ্টি পানি পান করতে পারে। (তারিখুল মাদিনা, পৃষ্ঠা ১৫২)

আহনাফ ইবনে কায়েস (রা.) থেকে বর্ণিত, উসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেছেন ‘আমি তোমাদের সেই আল্লাহর কসম দিচ্ছি, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই তোমরা কি জানো না যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি রুমার কূপটি কিনবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন'? অতঃপর আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে গিয়ে বললাম, ‘আমি রুমার কূপটি কিনে নিয়েছি।'তিনি বলেন, ‘তাহলে এটিকে মুসলমানদের জন্য পানির উত্স হিসেবে উন্মুক্ত করে দাও; এর প্রতিদান তোমারই হবে।' উপস্থিত সাহাবিরা বললেন, ‘হ্যাঁ (আমরা এ কথা শুনেছি)।' (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩৬০৯)

প্রথমে উসমান ইবনে আফফান (রা.) ইহুদি মালিকের কাছ থেকে ১২ হাজার দিরহাম দিয়ে কূপটির অর্ধেক অংশ কিনে নেন। এরপর তিনি এমন ব্যবস্থা করেন যে একদিন তিনি কূপ থেকে পানি তুলতেন, আর পরের দিন ইহুদি মালিক পানি তুলত। কিন্তু উসমান (রা.) যেদিন কূপের দায়িত্বে থাকতেন, সেদিন মুসলমানরা এত বেশি পানি সংগ্রহ করতেন যে তা তাদের দুই দিনের জন্য যথষ্টে হয়ে যেত। ফলে ইহুদি মালিক আগের মতো আর কূপ থেকে লাভবান হতে পারল না। এ অবস্থা দেখে ইহুদি উসমান (রা.)-কে এসে বলল, তুমি আমার কূপের ব্যবসা নষ্ট করে দিয়েছ। অতএব বাকি অংশটুকুও তুমি কিনে নাও। তখন উসমান ইবনে আফফান (রা.) আরও আট হাজার দিরহাম দিয়ে কূপটির অবশষ্টি অংশও কিনে নেন এবং সম্পূর্ণ কূপটি সব মুসলমানের জন্য ওয়াকফ (সাধারণ দান) করে দেন যেন ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই বিনামূল্যে পানি পান করতে পারে।

বর্তমানে এই ঐতিহাসিক কূপটি মদিনা নগরীর আল-আজহারি এলাকায় অবস্থিত। এটি মদিনার উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক কৃষিভিত্তিক অঞ্চল, যা মসজিদে নববী থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আজও এই কূপ থেকে স্বচ্ছ ও সুপেয় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বহু শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এই কূপ তার গুরুত্ব ও উপকারিতা বজায় রেখেছে। বর্তমানে ঐতিহাসিক এই কূপটি সেৌদি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আছে। এই কূপটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৬০৩.৪ ঘনমিটার। এর ব্যাসার্ধ প্রায় চার মিটার এবং গভীরতা প্রায় বারো মিটার। কূপটি চারপাশে খামার ও বিভিন্ন ফলজ গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত, যা এলাকাটিকে আরও সবুজ ও উর্বর করে তুলেছে।