বিক্ষোভে উত্তাল ইরান
ইরানজুড়ে বিক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গত মাসে তেহরানে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ ইতোমধ্যে দেশটির ৩১ প্রদেশের সবকটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। চলমান বিক্ষোভে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই এক রাতে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠেন। এর জবাবে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে।
টাইমস ম্যাগাজিন শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, শুধুমাত্র তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে কমপক্ষে ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।
সাময়িকীটি বলেছে, যদি এসব মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়, তাহলে ধারণা করা যায়-বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কতাকেও উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে খামেনি সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাতের তীব্র আন্দোলনের পর শুক্রবার রাতেও তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন।
ওই চিকিৎসক টাইমস ম্যাগাজিনকে আরও জানান, শুক্রবার হাসপাতালগুলো থেকে এসব মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়। এতে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন। নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ।
তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স ও টাইমস ম্যাগাজিনসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।
এদিকে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লক জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টা ধরে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভ দমনে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের প্রমাণ আড়াল করতেই ‘সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বন্ধ’ করে রাখা হয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশটিতে বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।
দুবাই বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই ও ইরানের মধ্যকার অন্তত ১৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভের মুখে পিছু না হটার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করছে।