রোববার ১১ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৮ ১৪৩২, ২২ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

বগুড়ায় জাতীয় পার্টির কার্যালয় দখল ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জামায়াত জোটে এনসিপির প্রার্থী কত, দুয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষণা: নাহিদ পাবনা ১ ও ২ আসনে ভোট স্থগিতের নির্দেশ ‘নভেম্বর’ থেকেই এলপি গ্যাসের সংকট, ‘জানানো হয়নি’: হাসিন পারভেজ ৫ অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না: তারেক রহমান তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের মানুষ: ফখরুল আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন তাসনিম জারা প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ ‘মব’ দমন না হলে ভোট সুষ্ঠু হওয়ার ‘সম্ভাবনা নেই’: জাপা মহাসচিব আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সিরিয়ার হামলা ইউক্রেন ইস্যুতে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক নরসিংদী কারাগারের লুট হওয়া ২৭ অস্ত্র-গুলি লাপাত্তা, ভোট নিয়ে শঙ্কা কনকনে শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়, ফের দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান গোলমালকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে চাইছে: আয়াতুল্লাহ খামেনি

জাতীয়

‘নভেম্বর’ থেকেই এলপি গ্যাসের সংকট, ‘জানানো হয়নি’: হাসিন পারভেজ

 প্রকাশিত: ১৮:১৫, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

‘নভেম্বর’ থেকেই এলপি গ্যাসের সংকট, ‘জানানো হয়নি’: হাসিন পারভেজ

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপি গ্যাসের সংকটে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবের জন্য সরকারকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

এলপি গ্যাসের সরবরাহ সংকট নভেম্বর থেকে শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তা জানায়নি বলে দাবি করেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ।

শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলায়তনে দেশে চলমান এলপিজি অটোগ্যাস সংকটের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সেখানে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সিরাজুল মাওলা তাদের দাবি উপস্থাপন করেন।

দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে তারা বলছেন, পরিবহন খাত ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে এবং গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো এলপিজি অটোগ্যাস শিল্প ধ্বংসের মুখে।

কী কারণে সারা দেশে এলপি গ্যাসের সংকট হয়েছে বলে মনে করছেন? জবাবে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসিন পারভেজ বলেন, “সবকিছু আমাদের জানা… এখানে আমাদের টিকে থাকার প্রশ্ন।

“নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সংকটটা শুরু হয়েছে, আজকে ডিসেম্বর পুরাপুরি গেছে, জানুয়ারি মাঝামাঝি চলে আসছে, কিন্তু খুবই দু:খজনক।

 

“এটার কোনোর জবাব কিন্তু আমরা পাই নাই, কারণ এলপিজি বা জ্বালানিটা একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, কারণ চার ডাল লবণ ঘরে থাকলে আর কোনো জ্বালানি না থাকলে তো আপনি রান্না করে খাইতে পারবেন না।”

সংকটের কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “ব্যাপারটা এই যে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে বা যেটাই হইছে কমে গেছে, যেটা আছে আপনারা তো জানেন, এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন যারা এলপিজি ‘অপারেট’ করছে, যারা এলপিজি আমদানি করে, ‘বড় খেলোয়াড়’। ধরেন বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, ওমেরা, জি গ্যাস, তারপর আই গ্যাস ১৬-১৮টা মনে হয় অনুমোদিত কোম্পানি আছে। তার মধ্যে ১২ জন আমদানি করে।

“ওনাদের প্রতিনিধি এবং সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট যারা, এনার্জি কমিশন, ওনাদের কিন্তু একটা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে, কিছু একটা করে সারাদেশের মানুষকে এটা জানানো দরকার ছিল, যে পরিস্থিতি এরকম এবং এটা এতদিন চলতে পারে। মানুষ তো তাহলে পরে নিজেই নিজের রেশনিংটা করতে পারতো, তাই না?

“যে আমি একটু গ্যাসটা কম ব্যবহার করি, সেটা না করে আপনি... দেখেন যেটা হচ্ছে। সেটা হচ্ছে যে, দোষ আরোপ করার একটা রাজনীতির মতো একটা ব্যাপার। বলে দিচ্ছে যে, ছোট ছোট খুচরা বিক্রেতাদের ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব জরিমানা করে দিচ্ছেন।”

হাসিন পারভেজ বলেন, “সরকারের উচিত ছিল এবং এখনো সময় আছে, যদি সরকার ধারণা করে যে এটা আরো কিছুদিন চলবে তাহলে পরে সবাইকে জানানো।”

তিনি বলেন, “সরকারের বলা উচিৎ যে এটা আমাদের কিছুদিন রেশনিং করে ব্যবহার করতে হবে…। যদি আমাদের ‘সাপ্লাই চেইন ইন্টারাপশন’ হয়, কেন হইছে সেটা যদি নাও বলতে পারে, সেটা যদি নাম ব্যবহার করতে না পারে বলুক, এটা যে চলবে আরো কিছু দিন এটা জানলে তো মানুষ বিকল্প চিন্তা করবে। কেউ ইলেকট্রিক চুলা কিনবে, কেউ ইন্ডাকশন কুকার কিনবে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল মাওলা বলেন, “অনেকের কাছ থেকে যেটা বুঝতে পারছি যে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোথায়ও সমস্যা হয়েছে। এখানে সমস্যা হল, অনেকের, গ্যাস পাম্পের সরবরাহের চুক্তি একেকজনের একেক কোম্পানির সাথে। যখন ওই কোম্পানির গ্যাস না থাকে তখন স্বাভাবিকভাবে অন্য কোম্পানি তাকে গ্যাস দিতে চায় না। এইটা আমাদের দেশে একটা সংস্কৃতি আছে।

“দেখা যাচ্ছে যে সাধারণত আমি যদি গ্যাস দিতে না পারি একটা আমার ডিলারকে নিয়ম হল তাকে একটা ‘ক্লিয়ারেন্স’ দিয়ে দেওয়া। ঠিক আছে? আমার কাছে গ্যাস নাই। তুমি অন্যর কাছ থেকে গ্যাস নিয়ে নাও। আমি তোমাকে একটা লিখিত ‘ক্লিয়ারেন্স’ দিলাম। সাধারণত দেখা যাচ্ছে যে ‘ক্লিয়ারেন্স’ চাইলে তা দেওয়া হয় না। এই ‘ক্লিয়ারেন্স’ না পাইলে অন্যরা গ্যাস দিচ্ছে না। এটা একটা জটিলতা আছে। এটা খুবই নমনীয় হওয়া দরকার।”

 

সংগঠনের আরেক নেতা সাজ্জাদুল করিম কাবুল দাবি করেন কেউ গ্যাস মজুদ করেনি।

“কারো কি স্টোরে পড়ে আছে গ্যাস? গ্যাস কিন্তু কারো স্টোরে পড়ে নাই। সবাই বিক্রি করতেছে।”

 

গাড়ির জ্বালানি অকটেন থেকে গ্যাসে রূপান্তরের বিষয়টি তুলে ধরে সিরাজুল মাওলা বলেন, গ্যাস সংকটের সমাধান হওয়া খুব জরুরি। না হলে সরকারের ওপরে বাড়তি জ্বালানির চাপ পড়ে যাবে। এ চাপ সরকার নিতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকট না কাটলে অকটেনের ওপরে চাপ পড়বে এবং অকটেন ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।

সংবাদ সস্মেলনে উপস্থাপন করা এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবিগুলো হল-

>> এলপিজি সরবরাহ কোম্পানি অপারেটর এবং এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) কে ‘যেভাবেই হোক’ এলপিজি অটোগ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী এলপি গ্যাস সরবরা করা।

>> নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি ও অন্যান্য সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন এলপি গ্যাস আমদানি সংক্রান্ত কোন জটিলতা থাকলে তা সমাধান করেন এবং অপারেটরের মাধ্যমে অটোগ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী সরবাহ নিশ্চিত করে।

>> ভবিষ্যতে যাতে এলপি গ্যাসের সরবরাহ ব্যাঘাত না হয় সে ব্যপারে যাবতীয় পদক্ষেপ নেয়। প্রয়োজনে সরকার যেন বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাস আমদানির ব্যবস্থা করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সাঈদা আক্তার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসাইন, যুগ্ন অর্থ সম্পাদক মো. মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান।