চুয়াডাঙ্গায় হিমশীতল বাতাসে কাহিল জনজীবন, তাপমাত্রা ৭.৫
মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বয়ে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ও হাড়কাঁপানো শীত বিপর্যস্ত জনজীবন। সেইসঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাস দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
এদিন সকাল ৬টায় একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এর আগে সোমবার এ জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানের তাপমাত্রা কমেছে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ জেলায় টানা তিন দিন দেখা নেই সূর্যের। মেঘলা আকাশ আর হিমশীতল বাতাসে শীতের তীব্রতা জানান দিচ্ছে দ্বিগুণ মাত্রায়। শীতকে উপেক্ষা করে দিনমজুর ও শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে শহরে আসছেন। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে অনেকেই কাজ পাচ্ছেন না। তাপমাত্রা সাত ডিগ্রিতে নেমে আসায় শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রাণ-প্রকৃতি।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, মাঝখানে একদিন বিরতির পর চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে টানা চার দিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। মঙ্গলবার এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। দুপুর ২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গার আকাশে সূর্য উঠেনি।
সকালের দিকে শহর ঘুরে দেখা গেছে, ভোরে চারদিকে ছিল হালকা কুয়াশা। সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করেছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। শীতের দাপটে মানুষের চলাচল সকালের দিকে ছিল বেশ কম। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে যাত্রী না পেয়ে অলস সময় পার করছেন ভ্যান ও রিকশা চালকরা।
তীব্র শীতের দাপটে মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে ভাটা পড়েছে। ফলে আয় রোজগারে টান ধরেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। এ ছাড়া শীতজনিত কারণে চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী বেড়ে গেছে।
এদিন সকালের দিকে শহরে হাঁটতে বের হওয়া পথচারী আজিজ হোসেন বলেন, “কয়েকদিন ধরে শীত বেশি পড়ছে। সারাদিনই থাকছে কুয়াশা। ঠান্ডা বাতাস শীতে কাবু করে তুলেছে।”
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, এ জেলার ওপর দিয়ে এখন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সামনের দিনে তাপমাত্রা আরও নিচে নামতে পারে। এতে শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।