বৃহস্পতিবার ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৪ ১৪৩২, ১৯ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

তারেকের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাৎ ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ‘অনড়’: আসিফ নজরুল ভোটের আগে-পরে ৭ দিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন’: বিএনপি প্রার্থী রেজা কিবরিয়াকে শোকজ অর্থ আত্মসাৎ: কক্সবাজারের সাবেক মেয়র আবছারের ৩ বছরের সাজা রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিরও ‘গণতন্ত্রায়ন দরকার’: খসরু সরকার একটি দলে ‘ঝুঁকেছে’, নির্বাচন ‘পাতানো হতে পারে’: জামায়াতের তাহের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশ, ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত গুনতে হতে পারে দুবাইয়ে ৩ ফ্ল্যাট একরামুজ্জামানের, সাত বছরে ঋণ বেড়েছে ২২ গুণ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় আইসিসির কাছ থেকে আল্টিমেটাম পাওয়ার খবর উড়িয়ে দিল বিসিবি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে, খবর ক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজের যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ কোটি ডলার মূল্যের তেল রপ্তানি করবে ভেনেজুয়েলা মার্কিন তাড়া খাওয়া তেল ট্যাংকার পাহারায় রাশিয়ার নৌবহর গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক বিকল্প ভাবছে ট্রাম্প কলম্বিয়ার গেরিলারা মার্কিন হামলার পর ভেনেজুয়েলা থেকে পালাচ্ছে

জাতীয়

এলপিজির ঘাটতি নেই, কারসাজি আছে: উপদেষ্টা

 প্রকাশিত: ১৫:১৪, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

এলপিজির ঘাটতি নেই, কারসাজি আছে: উপদেষ্টা

গৃহস্থালীর রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) 'ঘাটতি নেই' দাবি করে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন,'কারসাজির' কারণে সংকট দেখ দিলেও আস্তে আস্তে দাম কমে আসবে বলে তিনি মনে করছেন।

তার ভাষ্য, “এলপিজি তো আমদানি করে বোতলজাত করা হয়। সেই আমদানি গত মাসের তুলনায় এ মাসে বেশি। সুতরাং সেই দিক থেকে এই ধরনের কোনো ঘাটতি হওয়ার কথা না।"

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন জ্বালানি উপদেষ্টা।

তিনি বলেন সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবসার ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের হাতে। সরকারি কোম্পানি ইস্টার্ন রিফাইনারি মাত্র ২ শতাংশ উৎপাদন করে।

যেসব বেসরকারি কোম্পানি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাত করে, তাদের ওপর মন্ত্রণালয়ের খুব বেশি ‘নিয়ন্ত্রণ নেই’ মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, সেজন্য তিনি প্রথমে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এবং জ্বালানি সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জ্বালানি সচিব এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেই উঠে আসে যে গত মাসের তুলনায় এ মাসে বেশি এলপিজি আমদানি হয়েছে।

“সুতরাং এখানে ইয়ের কোনো কারণ নেই—মানে এই দাম যে অস্বাভাবিক ইয়ে হয়েছে এটা একটা কারসাজির মাধ্যমে করা হয়েছে এবং সরকার এজন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এবং পুলিশের মাধ্যমে।”

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জ্বালানি বিভাগ থেকে একটি প্রতিনিধি দলকে চট্টগ্রামে পাঠানোর কথা তুলে ধরে ফাওজুল কবির খান বলেন, “আমরা ঢাকাতেও এটা ইয়ে করব। তো আমরা আশা করতেছি যে এইটা যে একটা সাময়িক যে ইয়ে হয়েছিল, এটা আস্তে আস্তে কমবে।"

বিইআরসি জানুয়ারি মাসের জন্য এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা করেছে। কিন্তু কমিশনের ঠিক করে দেওয়া দামে বাজারে এলপিজি পাওয়া যায় না।

সরবরাহ সংকটের কথা বলে গত এক মাস ধরেই প্রতি সিলিন্ডারে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি রাখছেন বিক্রেতারা।

এলপিজির বাজারে কারা কারসাজি করছে–এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, "কারসাজি করছে এইটা হচ্ছে, ওই যারা কি বলে যে যারা খুচরা বিক্রেতা কিংবা যারা ইয়ে করে আরকি—হোলসেলার এবং রিটেইলার যারা তারা।"

বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কাজ করছে তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় জরিমানা করা হচ্ছে।

"দাম স্বাভাবিক হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা আশা করতেছি এটা স্বাভাবিক হবে এবং আমরা এই পরিস্থিতিটাকে মনিটর করতেছি যেটা আমাদের জ্বালানি সচিব বললেন যে আমরা চট্টগ্রামে লোক পাঠাইছি।

"আমরা বিভিন্ন জায়গায় লোক পাঠাব এবং আমরা এটা যাতে স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসে এজন্য আমরা সরকার সবকিছু করবে।"

উপদেষ্টা বলেন, এখন ঘাটতি না থাকলেও পরবর্তীতে সংকট তৈরি হতে পারে, তাই সরকার এখনই সুরাহা করার চেষ্টা করছে।

"তবে আরেকটা জিনিস আছে এখানে, যেটা আপনাদের হয়তো জানা দরকার। সেটা হচ্ছে যে ওই যে কিছু নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু জাহাজের উপরে একটা নিষেধাজ্ঞা আছে সেজন্য কিছু জাহাজীকরণে সমস্যা আছে।

"তো সেগুলো আমরা দেখতেছি যে জাহাজীকরণের সমস্যাটা যাতে ইয়ে না হয় কিন্তু বর্তমানে কিংবা এই মাসে এটার হওয়ার কোনো প্রতিক্রিয়া নাই। কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য আমরা এই জাহাজীকরণের যে সমস্যা আছে সেটাকেও আমরা দেখার চেষ্টা করতেছি।"

এদিন ক্রয় কমিটির বৈঠকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া রমজান মাস সামনে রেখে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল এবং ১০ হাজার টন মসুর ডাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।

এর বাইরে ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার এবং কোভিডের টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।