জকসুর ভোট গ্রহণ চলছে
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন ভোটাররা। সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় ভোটারদের। দুই দশক পর প্রথমবারের মতো নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর আজ কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ভোর থেকেই শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে ১ নং গেটে অপেক্ষা করছেন। এ সময় প্রার্থীদের শিক্ষার্থীদের কাছে নিজ প্যানেলের জন্য ভোট চাইতে দেখা গেছে।
সকাল ৮টায় বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও পুলিং এজেন্টরা মূল ফটক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন।
এরপর ৮টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও বক্স পাঠানো হয়। এরপর সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ভোটারদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। ভোট গ্রহণ শুরু হয় সকাল ৯টা থেকে। চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বলেন, ভোটগ্রহণ শুরুর আগে সোমবার রাতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষে ডিজিটাল অপটিক্যাল মার্ক রিডার (ওএমআর) মেশিনের মাধ্যমে ভোটগণনা করা হবে।
জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কলেজটি ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর এটিই প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন।
অর্থাৎ ২০ বছর পর প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। জকসু নির্বাচনে মোট ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ভোটগ্রহণ বুথ থাকবে। ভোটগ্রহণ শেষে ছয়টি ডিজিটাল ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হবে।
এদিকে সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনের সই করা পৃথক তিনটি বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে মোট আটটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো: ভোট প্রদানের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীরা কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন। ভোট প্রদান শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করবেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই শুধুমাত্র দুই নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন।
কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আইডি কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভোট চলাকালীন ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াত করতে পারবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক গেট ও পোগোজ স্কুল গেট বন্ধ থাকবে। ক্যাম্পাসে বসবাসরত কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের ভোটগ্রহণ চলাকালীন ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। মেডিক্যাল টিম ভোটগ্রহণ শুরু থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ভেতর অবস্থান করবে। নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত নন, এমন সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে।
তিন দফা স্থগিতের পর আজ ৬ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন এর আগে দুই দফা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও ভোটগ্রহণ শুরুর ঠিক আগে ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আরেকটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে আজ ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।