রোববার ১১ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৭ ১৪৩২, ২২ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

বগুড়ায় জাতীয় পার্টির কার্যালয় দখল ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জামায়াত জোটে এনসিপির প্রার্থী কত, দুয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষণা: নাহিদ পাবনা ১ ও ২ আসনে ভোট স্থগিতের নির্দেশ ‘নভেম্বর’ থেকেই এলপি গ্যাসের সংকট, ‘জানানো হয়নি’: হাসিন পারভেজ ৫ অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না: তারেক রহমান তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের মানুষ: ফখরুল আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন তাসনিম জারা প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ ‘মব’ দমন না হলে ভোট সুষ্ঠু হওয়ার ‘সম্ভাবনা নেই’: জাপা মহাসচিব আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সিরিয়ার হামলা ইউক্রেন ইস্যুতে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক নরসিংদী কারাগারের লুট হওয়া ২৭ অস্ত্র-গুলি লাপাত্তা, ভোট নিয়ে শঙ্কা কনকনে শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়, ফের দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান গোলমালকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে চাইছে: আয়াতুল্লাহ খামেনি

ইসলাম

বিধবা ও অসহায়দের ভরণ-পোষণের অনন্য মর্যাদা

 প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

বিধবা ও অসহায়দের ভরণ-পোষণের অনন্য মর্যাদা

মানুষ স্বভাবগতভাবেই সহমর্মী ও কল্যাণপ্রত্যাশী। তবে সমাজের বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি অবহেলিত থেকে যায় সেই মানুষগুলো, যারা শক্তি, আশ্রয় ও উপার্জনের ভরসা হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে; বিধবা নারী ও অসহায় দরিদ্র শ্রেণি। পরিবার হারানোর বেদনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক উপেক্ষা তাদের জীবনকে করে তোলে নীরব সংগ্রামে পূর্ণ। ইসলাম এই দুর্বল মানুষদের কষ্টকে কেবল মানবিক অনুভূতির বিষয় হিসেবে দেখেনি; বরং একে ঈমানের গভীরতার মানদণ্ড হিসেবে স্থাপন করেছে। কোরআন ও সুন্নাহ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, সমাজের প্রান্তিক মানুষের দায়িত্ব গ্রহণ করা অনেক উচ্চ মর্যাদার ইবাদত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হলো সহিহ বুখারিতে বর্ণিত সফওয়ান ইবনে সুলাইম (রহ.) থেকে মারফু’ভাবে বর্ণিত হাদিসটি। সেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিধবা ও মিসকিনের ভরণ-পোষণের জন্য চেষ্টা করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মতো; অথবা সে ঐ ব্যক্তির মতো, যে দিনে রোজা রাখে এবং রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকে।’ (বুখারি, হাদিস: ৬০০৬)

এই হাদিসে গভীরভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো; রাসুল (সা.) সমাজসেবাকে ইবাদতের সর্বোচ্চ স্তরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। জিহাদ, সিয়াম ও কিয়াম; এসব আমল ইসলামে সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রতীক। অথচ তিনি বিধবা ও অসহায়দের দায়িত্ব বহনের বিষয়টিকে সেই উচ্চতায় উন্নীত করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কষ্ট লাঘব করা ইসলামে কোনো গৌণ কাজ নয়; বরং তা আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি শক্তিশালী পথ।

পবিত্র কোরআনেও এই শিক্ষার সুস্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে, কী ব্যয় করবে? বলো, যা কিছু ব্যয় করবে, তা হবে মা-বাবা, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২১৫)

আরেক আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা নেককারদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘তারা আল্লাহর ভালোবাসায় খাদ্য দান করে মিসকিন, এতিম ও বন্দিদের।’ (সুরা আল-ইনসান, আয়াত : ৮)

এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, ইসলামে সমাজের দুর্বল শ্রেণির ভরণ-পোষণ কোনো ঐচ্ছিক দান নয়; বরং সেগুলো ঈমানেরও দাবি ও নেক আমলের অপরিহার্য অংশ।

অতীত ও বর্তমান সর্বকালের মুসলিম স্কলাররাও এই বিষয়ে গভীর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ইবনে হাজর আল-আসকালানি (রহ.) তাঁর ফাতহুল বারি গ্রন্থে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন যে, ‘বিধবা ও মিসকিনের সেবাকে জিহাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, কারণ এতে রয়েছে অবিরাম চেষ্টা, ধৈর্য ও আত্মত্যাগ; যা নফসের বিরুদ্ধে এক প্রকার সংগ্রাম। তিনি বলেন, এই সেবাকর্মে নিয়ত বিশুদ্ধ হলে তা ধারাবাহিক ইবাদতে পরিণত হয়।’

ইসলামের ইতিহাসেও আমরা এর বাস্তব প্রয়োগ দেখতে পাই। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে বিধবা ও এতিমদের খোঁজখবর নিতেন, তাদের প্রয়োজন পূরণ করতেন। তাঁর সাহাবিরাও এই শিক্ষাকে জীবনের অংশে পরিণত করেছিলেন। উমর (রা.) রাতের আঁঁধারে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য বহন করতেন; যা কেবল শাসকের দায়িত্ববোধ নয়; বরং ঈমানি দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এই হাদিস আমাদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়; তা হচ্ছে- ইবাদত কেবল মসজিদকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়া এবং বিধবার চোখের অশ্রু মোছাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। যে সমাজে দুর্বল মানুষের দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে বহন করা হয়, সে সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এটাই তো ইসলামের কাঙ্ক্ষিত সামাজিক কাঠামো।

কাজেই বিধবা ও অসহায়দের ভরণ-পোষণের মর্যাদা কেবল সামাজিক নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; এটি ঈমানের বাস্তব পরীক্ষাও বটে। এই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই একজন মুসলিম প্রমাণ করতে পারে; তার ইবাদত জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রদর্শিত এই পথই আমাদের শেখায়; প্রকৃত ধার্মিকতা সেখানে; যেখানে মানুষের কষ্ট লাঘব হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।মহান আল্লাহ আমাদের অন্তরকে সহমর্মিতায় ভরিয়ে দেন এবং বিধবা ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করেন। আমিন।