রোববার ১১ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৭ ১৪৩২, ২২ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

বগুড়ায় জাতীয় পার্টির কার্যালয় দখল ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জামায়াত জোটে এনসিপির প্রার্থী কত, দুয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষণা: নাহিদ পাবনা ১ ও ২ আসনে ভোট স্থগিতের নির্দেশ ‘নভেম্বর’ থেকেই এলপি গ্যাসের সংকট, ‘জানানো হয়নি’: হাসিন পারভেজ ৫ অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না: তারেক রহমান তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের মানুষ: ফখরুল আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন তাসনিম জারা প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ ‘মব’ দমন না হলে ভোট সুষ্ঠু হওয়ার ‘সম্ভাবনা নেই’: জাপা মহাসচিব আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সিরিয়ার হামলা ইউক্রেন ইস্যুতে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক নরসিংদী কারাগারের লুট হওয়া ২৭ অস্ত্র-গুলি লাপাত্তা, ভোট নিয়ে শঙ্কা কনকনে শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়, ফের দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান গোলমালকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে চাইছে: আয়াতুল্লাহ খামেনি

ইসলাম

রজবে রমজানের পদধ্বনি

 প্রকাশিত: ১১:৫৯, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

রজবে রমজানের পদধ্বনি

রজব এমন এক মাস-যে মাসে আমরা মাহে রমজানের পদধ্বনি শুনতে পাই। ইতোমধ্যে রজবের অর্ধাংশ পেরিয়ে গেছে এবং মুমিনের বহুল প্রতীক্ষিত রমজান মাসের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। তবে মৌলিকভাবে রজব মাসও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। যদিও রজব মাসের গুরুত্ব, তাৎপর্য সম্পর্কে আমরা খুব বেশি অবগত নই। কোরআন চারটি মাসকে সম্মানিত বলেছে। রজব তার একটি। আর কোরআন যাকে সম্মানের বিশেষণে ভূষিত করে, অবধারিতভাবে তার মুকুটে মর্যাদার পালক যুক্ত হয়ে যায়। সম্মানিত মাস সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয় আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন হতে আল্লাহর বিধানে আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি; তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান (তওবা)।

এই আয়াত থেকে আমরা সম্মানিত মাসের সংখ্যা জানতে পারলাম। কিন্তু সম্মানিত মাসের নাম আমরা জানতে পারি হাদিস থেকে। রসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যেদিন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন, সময় সেদিন যেভাবে ছিল তা আজও তেমনি আছে। বারো মাসে এক বছর। তার মধ্যে চার মাস পবিত্র। যার তিন মাস ধারাবাহিক, যথা : জিলকদ, জিলহজ ও মোহররম আর মুযার গোত্রের রজব যা জমাদিউস সানি ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী (বোখারি)। রজব মাস যেহেতু সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই মাসে আমাদের কিছু করণীয়ও আছে। রজব মাসের করণীয় সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, সম্মানিত মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে; বলো, এতে যুদ্ধ করা ভীষণ অন্যায়। কিন্তু আল্লাহর পথে বাধা দেওয়া, আল্লাহকে অস্বীকার করা, মসজিদুল হারামে বাধা দেওয়া আর এর বাসিন্দাকে তা হতে বহিষ্কার করা আল্লাহর কাছে তার তুলনায় অধিক অন্যায়; ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর অন্যায় (বাকারা)। এই আয়াত থেকে আমরা জানলাম-সম্মানিত মাসের যুদ্ধবিগ্রহ করা ভীষণ অন্যায়। কথা হলো, আমরা তো সাধারণ মানুষ, যুদ্ধের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা নেই, তাহলে এই মাসে আমাদের কি কোনো করণীয় নেই? হ্যাঁ, যুদ্ধ হয়তো আমাদের করতে হয় না। কিন্তু যুদ্ধের কাছাকাছি অনেক কাজ আমরা করি। যেমন : মারামারি, ঝগড়াবিবাদ। এগুলো আমাদের সমাজের খুব পরিচিত মন্দ কাজ। এগুলো সব সময়ই নিষিদ্ধ। বিশেষত সম্মানিত মাসের সম্মানে এই ধরনের মন্দ কাজ থেকে আমাদের সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

সুরা তওবার যে আয়াতে আল্লাহ চারটি সম্মানিত মাসের কথা বলেছেন, সেখানে তিনি এ-ও বলেছেন, ‘সুতরাং এ মাসগুলোর ভিতর তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।’ এর মাধ্যমে রজব মাসের আরেকটি করণীয় সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। সেটা হলো, এ মাসে নিজেদের ওপর জুলুম করা যাবে না। জুলুম মানে শুধু অবিচার নয়, জুলুম মানে পাপাচারও। তাই রজব মাসে সব ধরনের পাপাচার থেকে বিরত থাকতে হবে। এই মাসে আপনি যদি পাপ করেন, তবে আপনার গুনাহের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এই মাসের পাপাচারের ব্যাপারে আমাদের বেশি সতর্ক হতে হবে।

এ ছাড়া যে নেক কাজগুলো আমরা সারা বছর করি, সম্মানিত মাস হিসেবে রজবে সেগুলোর প্রতি আমাদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আমরা সারা বছরই পড়ি। এই মাসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করার চেষ্টা করতে হবে। অন্যান্য নফল আমল, যেমন নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, নফল রোজা, সাপ্তাহিক সুন্নত রোজা, আইয়ামে বীজের রোজা, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির এগুলোর প্রতি আমাদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে।

রজব মাসকে ঘিরে অনেক অঞ্চলে ইসলামের নামে নানা ধরনের কুসংস্কার চালু আছে। যেমন রজব মাসে বিয়ে করা, মৃত্যুবরণ করা, চুল-নখ কাটা অশুভ। এগুলোর সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো নেহাতই কুসংস্কার। আবার রজব মাসের বিশেষ নামাজ, বিশেষ রোজার প্রচলন আছে কোনো কোনো অঞ্চলে। এগুলোরও কোনো ভিত্তি নেই। আমরা সারা বছর যে আমলগুলো করি, রজব মাসেও সেগুলো বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে করব। কিন্তু রজব মাসের জন্য বিশেষ কোনো নামাজ বা রোজার নির্দেশনা যেহেতু ইসলামে নেই, তাই এগুলো থেকে আমরা বিরত থাকব। রজব মাসের বিশেষ একটি দোয়ার কথা এসেছে, যদিও এর সূত্র দুর্বল, তারপরও এর অর্থ খুবই চমৎকার। সেটা হলো, হে আল্লাহ, আমাদের রজব-শাবানে বরকত দান করুন আর আমাদের রমজানে পৌঁছে দিন। এই দোয়ার ভিতর মুমিনের রমজান পাওয়ার ব্যাকুলতা দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। তাই, রমজান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় রজব ও শাবান মাসে আমরা এই দোয়া করতে পারি। বিশেষ করে রমজানকে সার্থক করে তোলার প্রস্তুতি রজব থেকেই শুরু হওয়া উচিত। কেননা ইসলামের সোনালি যুগের মনীসীদের অনেকে রমজান শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতেন। তাই আসুন, এই পবিত্র মাসে আমরা ইবাদতের মাত্রা বাড়িয়ে দিই এবং এখন থেকেই কাঙ্ক্ষিত রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি।