বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ মৃত্যু: ২ গেইটম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেন ও বাসের মধ্যে সংঘর্ষে ১২ মৃত্যুর ঘটনায় দুই গেইটম্যানকে আসামি করে মামলা করেছেন এক আহত।
আহত শেফালী আক্তার মামলাটি করেন বলে সোমবার লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীম উদ্দীন জানান।
মামলায় পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী শেফালী আক্তার এই দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল রানার খালা। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে। তিনি ওই বাসের যাত্রী ছিলেন।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, দণ্ডবিধির ‘দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু’, ৩০৪ ধারার ‘ক’ ধারায় মামলা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা ঈদ করতে চুয়াডাঙ্গায় দেশে বাড়ি আসেন। সেখান থেকে ঈদের দিন কুমিল্লার লাকসামে খালার বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
একই দুর্ঘটনায় আহত সোহেল রানার স্ত্রী ও মেয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আটজন।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে ছেঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেন।
নিহতরা হলেন- চাঁদপুর জেলার চাপাতলি এলাকার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহের মোক্তার বিশ্বাসের ছেলে জুহাদ বিশ্বাস (২৪), যশোরের চৌগাছার সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালী সোনাইমুড়ি বাবুল চৌধুরী (৫৫), মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫), নোয়াখালীর ফাজিলপুরের মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) ও লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সাঈদা (৯), যশোরের গাড়ি চালক পিন্টু ইসলামের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬), দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩)।