সবার প্রাণ খুলে কথা বলার অধিকার থাকবে: রিজভী
বর্তমান সরকারের সময়ে অন্যায্য সমালোচনা করেও কেউ হয়রানির শিকার হয়নি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
গণতন্ত্রের পথে দেশ এগোবে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “প্রত্যেকের তার প্রাণ খুলে কথা বলার অধিকার থাকবে, সমালোচনা করার অধিকার থাকবে।
“এখন পর্যন্ত আপনারা দেখেছেন, কেউ কারো কোনো তীব্র সমালোচনা এবং সেটা অন্যায় সমালোচনা হলেও কেউ কিন্তু কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় হয়রানির সম্মুখীন হয়নি।”
রোববার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী।
তিনি বলেন, “এখানেই এই গণতন্ত্রের জন্যই লড়াই হয়েছে ১৭ বছর—দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং এই গণতন্ত্রই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে।
“এর জন্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এরশাদের মত একজন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নয় বছর আপসহীন লড়াই করেছেন… আমরা সেই ঐতিহ্য ধারণ করা একটি রাজনৈতিক দল, ফ্যাসিবাদী লক্ষণ দূর করার একটি সাহসী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।”
‘নির্বিঘ্নে সবাই কথা বলছেন’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন, “এখন আমরা যে সমাজে বসবাস করছি… কমপক্ষে এটুক তো যে নির্ভয়ে কথা বলা যায় এবং কথা বললে পরে যে কেউ গুম হবে না—এই নিশ্চয়তা দেওয়া যায়। অবলীলায় কি পার্লামেন্টের ভেতরে, বাইরে, টকশোতে—নির্বিঘ্নে সবাই কথা বলছেন।
“মানুষের প্রাণ ভরে কথা বলা, সত্য উচ্চারণ করার যে পরিবেশ, সেটি তো গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত। সেই অঙ্গীকার পূরণে জনাব তারেক রহমান নিরন্তরভাবে কাজ করে গেছেন। এখনো প্রতিনিয়ত তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হচ্ছে। বিএনপির যে সরকার, সেই সরকারের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করা হচ্ছে।”
গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে যারা কুৎসা রটাচ্ছে, তারা ফ্যাসিবাদের তকমা নিয়ে চলছে বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, “যা সত্য, যা ন্যায় এবং ন্যায়সঙ্গত সমালোচনা করা প্রত্যেকেরই অধিকার আছে। কিন্তু মানে কুৎসা রটনা করা—এটা তো হচ্ছে শেখ হাসিনার কাজ, কুৎসা রটনা করা এটা হচ্ছে ফ্যাসিবাদের কাজ। তো ফ্যাসিবাদের লক্ষণগুলোকে ধারণ করে যদি কেউ কাজ করেন…যারা আজকে বর্তমান সরকারের নানাভাবে মিথ্যাচার করার চেষ্টা করছেন, তাদের উপরেই কিন্তু ফ্যাসিবাদের তকমা জুড়ে যাবে।
“যে অঙ্গীকার করেছিলেন তারেক রহমান, সেই অঙ্গীকার পূরণের জন্য আপনারা দেখেছেন যে হাতের কালি মুছতে না মুছতেই ফ্যামিলি কার্ড, খালখনন কর্মসূচিসহ অন্যান্য কাজগুলো করার চেষ্টা করা হয়েছে।
“যেগুলো তিনি আগেই অঙ্গীকার করেছেন, সেই কাজগুলো শুরু করেছেন। মানে একটি ভাত টিপলে যেমন গোটা হাড়ির ভাত টের পাওয়া যায় বা সকাল দেখলে পরে সারাদিন কেমন যাবে বোঝা যায়; তো এই সমস্ত কাজের মধ্যে দিয়েই বর্তমান সরকার তারা কীভাবে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবেন, তার আভাস কিন্তু আমরা পাই।”
‘খালেদা জিয়ার নিরন্তর সংগ্রাম’
বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, “সেই বন্দিত্বের অবসানের জন্য কি নিরন্তর সংগ্রাম আমরা করেছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। এই অকুতোভয় মহীয়সী নেত্রী তার জীবনের সমস্ত আয়েশ-আরাম-নিরাপত্তা কোনো কিছুকে তুচ্ছ না করে গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন নিরন্তরভাবে।
“তারপরে আপনারা সবাই জানেন তাকে মিথ্যা মামলায় এই মহীয়সী নারীকে একটি ভগ্ন-স্তূপ হয়ে যাওয়া একটি কারাগারের মধ্যে বন্দি করে রাখা হয়েছে।”
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলতে থাকেন, “এরপরে তারই সুযোগ্য পুত্র, জ্যেষ্ঠ পুত্র সেই সময়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, এখন বিএনপির চেয়ারম্যান এবং দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব নিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্রের সংগ্রামের পতাকাকে তিনি বিজয়ের পথে নিয়ে এসেছেন।
“বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী চেতনা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গণতান্ত্রিক চেতনা—এটাকে বুকে ধারণ করেই জাতীয়তাবাদ শক্তি… তারা সকল অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন, আয়নাঘরের মধ্যে বসবাস করেছে, বছরের পর বছর ধরেও কেউ পিছুপা হননি গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে।”
‘ফ্যাসিবাদ কায়েমের ইতিহাস বিএনপির নেই’
রিজভী বলেন, ‘‘বিরোধী রাজনীতির পক্ষ থেকে বলেছেন এক ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, আরেক ফ্যাসিবাদ কায়েম হয় কি না, সেটা দেখতে হবে। ফ্যাসিবাদ কায়েমের ইতিহাস তো বিএনপির নেই। বরং ফ্যাসিবাদ থেকে উত্তরণের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিএনপির।
“আপনারা জানেন, যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল এদেশে ১৯৭৫ সালে, যে ষড়যন্ত্র চক্রান্ত, রক্তাক্ত অধ্যায়—সেইখান থেকে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্র উত্তরণের এবং চক্রান্তকে প্রতিহত করার মধ্য দিয়ে এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করার মধ্যে দিয়ে সেদিন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে ইমারত তৈরি করেছিলেন; গণতন্ত্রের সেই ইমারতেই উপর ভিত্তি করেই বিএনপি তার রাজনৈতিক আদর্শ এবং রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।”
সেই ইমারত ভাঙ্গা হয়েছে বারবার মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন, “কখনো সামরিক আইন দিয়ে কখনো নব্য বাকশালী প্রচেষ্টা দিয়ে জোর করে ১৭ বছর ক্ষমতা থাকার মধ্যে দিয়ে এগুলো করা হয়েছে। কিন্তু কোনোটার সাথেই আপস করেনি বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক রহমান, সেটা আপনারা সবাই জানেন।”
তিনি বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন, সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এই দেশ ক্রমাগতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁ, সামাজিক নানা ইয়ে থাকতে পারে। কিন্তু একদিনে তো সেটা নিরসন করা সম্ভব নয়।
“…সামাজিক অন্যায়-অবিচার যেগুলো রয়েছে, সেটা দূরীভূত করে সামাজিক ন্যায়বিচার করার যে অঙ্গীকার, সেই পথে তো ক্রমাগতভাবে বিএনপির সরকার এগিয়ে যাচ্ছেন। নতুন গণতন্ত্রের যে পথচলাকে সেটাকে দ্রুত করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।”
রিজভী বলেন, “অবান্তর কথা বলে মিথ্যা কলঙ্ক আরোপ করে মিথ্যাচার করে জনমনে বিভ্রান্ত তৈরি করলে এতে কোনো লাভ হয় না। আমরা গত নির্বাচনেও সেটা দেখেছি। কত ধরনের মিথ্যাচার করা হয়েছে, কত কলঙ্ক আরোপ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
‘‘জনগণ হচ্ছে সবচাইতে বড় বিচারক। তারা কিন্তু তাদের বিচার করেছে। তাই আমরা বলব কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু মিথ্যা কথা বলার স্বাধীনতা এটা বোধহয় জনগণ পছন্দ করে না “
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম ও স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত সপু আলী উপস্থিত ছিলেন।