রোববার ২২ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ৮ ১৪৩২, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৭

ব্রেকিং

দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক ঈদের ছুটিতে ফাঁকা সড়কে মৃত্যুর মিছিল ‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’—হাদি হত্যার বিষয়ে ফয়সাল ইরান যুদ্ধে বিশ্বনেতাদেরও যোগ দেওয়ার আহ্বান নেতানিয়াহুর যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতিতে ‘চাপ বাড়ছে’: মন্ত্রী আমির খসরু সবার প্রাণ খুলে কথা বলার অধিকার থাকবে: রিজভী কাতারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৬ কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২: দুই গেটম্যান বরখাস্ত, তদন্তে তিন কমিটি ফেনীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩ একাত্তরের হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা বলা হোক, প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে হরমুজ অবরোধ খুলতে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘নিশ্চিহ্ন করার’ হুমকি ট্রাম্পের সুদানের হাসপাতালে হামলায় ১৩ শিশুসহ নিহত ৬৪

জাতীয়

‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’—হাদি হত্যার বিষয়ে ফয়সাল

 প্রকাশিত: ১৯:০৫, ২২ মার্চ ২০২৬

‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’—হাদি হত্যার বিষয়ে ফয়সাল

বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে প্রধান আসামি ও সন্দেহভাজন ‘শুটার’ ফয়সাল করিম মাসুদ বলেছেন, ‘আমি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’

রোববার (২২ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল এই কথা বলেন।

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে এদিন আদালতে তোলা হলে বিচারক ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় জেল হেফাজতে নেওয়ার আদেশ দেন।

এই সময়কালে তাকে জেলে গিয়ে জেরা করতে পারবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। আবার তাদের ২ এপ্রিল আদালতে তোলা হবে।

তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ অ্যাক্ট ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মামলার অর্থ হলো—সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করা, কাউকে সাহায্য করা বা প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা করা।

মূলত, এই ধরনের মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী কমপক্ষে পাঁচ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হয়ে থাকে।

আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা ফয়সালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। কোথাও দেখাতে পারবেন না আমি হাদিকে সরাসরি গুলি করেছি।

রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’

ফয়সাল আরও বলেন, ‘আমি ওই সময় বাংলাদেশে ছিলাম। অবশ্যই আমাকে সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে। কিন্তু আমাকে গুলি করতে দেখা যায়নি।’ 

তবে বাংলাদেশ থেকে কী কারণে ফয়সাল ভারতে চলে এসেছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে উত্তর দেননি তিনি।

এছাড়া গত জানুয়ারিতে তার নিজের করা ভিডিওর বিষয়ে সাংবাদিকরা ফয়সালের কাছে জানতে চান- ‘তুমি (ফয়সাল) দুবাইয়ের ভিডিও বানিয়ে বলেছিলে যে—তুমি দুবাইয়ে আছো’। এমন প্রশ্ন করা হলেও ফয়সাল কোনো কথা বলেননি।

গত ৭ মার্চ রাতে ফয়সাল এবং তার সহযোগী আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ। ৮ মার্চ তাদের স্থানীয় আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন বিচারক।

১৪ দিনের রিমান্ড শেষ রোববার (১৭ মার্চ) কলকাতার বিধাননগর আদালতে তোলা হয়েছিল ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে। তার আগে তাদের শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে, শনিবার (২১ মার্চ) ওসমান হাদি হত্যা মামলায় বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত দেন আদালত। ফিলিপ প্রধান আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে ভারতে পালাতে সহায়তা করেন বলে বাংলাদেশের পুলিশের দাবি। জেল হেফাজতে থাকাকালে তাকে কারাগারে গিয়ে জেরা করতে পারবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। তাকে আবার ৩ এপ্রিল আদালতে তোলা হবে।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ওসমান হাদি পরে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গড়ে তুলে আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আলোচনায় আসেন। বিভিন্ন টেলিভিশনের টক শোতেও নিয়মিত আমন্ত্রণ পেতে থাকেন তিনি। তার যুক্তিতর্কের অনেক ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। 

গুলিবিদ্ধ হওয়ার মাসখানেক আগে হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ওসমান হাদি। তিনি গত নভেম্বরে নিজের ফেসবুক পেজে বলেছিলেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে ফোনকল করে এবং মেসেজ পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ ক্যাডাররা তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে।

১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারে যাওয়া ওসমান হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসী। রিকশায় থাকা হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তাকে প্রথমে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

প্রথমে এ ঘটনায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হয়, যা পরে হত্যা মামলায় রূপ নেয়। এতে প্রধান আসামি করা হয় সন্দেহভাজন শুটার ফয়সালকে। এছাড়া আসামি করা হয় ফয়সালের সহযোগী আলমগীর, তার স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবী এবং তাকে ভারতে পালাতে সহায়তা করা ফিলিপ সাংমাসহ অন্য সহযোগীদের।

গত জানুয়ারিতে হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলায় চার্জশিট দেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ৬ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির তৎকালীন প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা ১৭ জনের নামে চার্জশিট দিয়েছি। এদের মধ্যে আছেন হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ, তাদের পালাতে সহায়তা করা মানবপাচারকারী ফিলিফ, হত্যার নির্দেশদাতা যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। এর পর যদি আর কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে।

এর মধ্যে ১ জানুয়ারি ফয়সাল করিমের দুটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওর মাধ্যমে ফয়সাল দাবি করেন, বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। হাদি হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা নেই। এমনকি তিনি কিছু ফ্লাইট ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত কিছু নথিও প্রকাশ করেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ভারতে পাওয়া যাওয়ায় হত্যাকাণ্ড ও সন্দেহভাজন শুটার ফয়সালকে নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।