সোমবার ২৩ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ৯ ১৪৩২, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সেতু উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল

 প্রকাশিত: ১১:৫০, ২৩ মার্চ ২০২৬

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সেতু উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে লিটানি নদীর একটি প্রধান সেতু ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। হিজবুল্লাহ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যোদ্ধা ও অস্ত্র নিয়ে যেতে সেতুটি ব্যবহার করতো বলে অভিযোগ ইসরায়েলের।

রোববার স্থানীয় সময় সকালে ও সন্ধ্যায় দুইবার সেতুটিতে হামলা চালানোর পর ইসরায়েল সতর্ক করে বলেছে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘তাদের লড়াই মাত্র শুরু হলো’।

টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, লিটানি নদীর কাসমিয়া সেতুতে এই হামলার ঘটনায় বৈরুত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে বলেছে, “এই পদক্ষেপ উত্তেজনার তীব্রতার বিপজ্জনক বৃদ্ধি।”

লেবাননে, ইসরায়েলকে তার সামরিক অভিযানের বিস্তৃতি ঘটানো থেকে বিরত রাখতে, বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে বৈরুত।

রয়টার্স জানিয়েছে, লিটানি নদীর সবগুলো পারাপারের পথ ধ্বংস করার জন্য ইসরায়েল তাদের সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। নদীটির সবগুলো সেতু ধ্বংস হলে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তের কাছে থাকা ঘরবাড়ি ধ্বংস করারও নির্দেশ দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন সাধারণত সামরিক বাহিনীগুলোকে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাতে নিষেধ করে। লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান, বিশেষ করে লেবাননিদের তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

কাসমিয়া সেতুতে হামলা চালানোর পর ইসরায়েল লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের স্থল অভিযান বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জমির বলেছেন, “সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান মাত্র শুরু হলো। এটি একটি দীর্ঘ অভিযান। আমরা এখন নির্দিষ্ট স্থল অভিযান নিয়ে অগ্রসর হওয়ার ও সংগঠিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, তাদের সামরিক বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতায়’ ব্যবহার হওয়া লিটানি নদীর ওপরের সব সেতু ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিজবুল্লাহ যেন তাদের যোদ্ধা ও অস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলে না নিতে পারে তার জন্য এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইতোমধ্যেই গত ১০ দিনে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তিনটি সেতু ধ্বংস করেছে ইসরায়েল।

কাটজ আরও জানিয়েছেন, সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলি বসতিগুলোর প্রতি হুমকি দূর করতে সামরিক বাহিনীকে লেবাননের সীমান্ত গ্রামগুলোর ঘরবাড়ি ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গাজার বেইত হানুন ও রাফায়ও একই কাজ করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে সীমান্তের কাছে ঘরবাড়ি ও ভবন ধ্বংস করে বাফার জোন গড়ে তুলেছিল তারা। এখন লেবাননেও একই কাজ করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট যোশেফ আউন কাসমিয়া সেতুসহ লেবাননজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামোগুলোতে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২ মার্চ ইসরায়েলে আক্রমণ চালানোর মধ্য দিয়ে এতে জড়িয়ে পড়ে লেবাননের ইরানি মিত্র হিজবুল্লাহ।