মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ৩০ ১৪৩২, ২৪ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

আইসিসির চিঠি: মুস্তাফিজ থাকলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়বে, দাবি আসিফ নজরুলের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, আলোচনার জন্যও: ট্রাম্পকে ইরান ইসিতে তৃতীয় দিনে ৪১ জনের আপিল মঞ্জুর মুছাব্বির হত্যা: ‘শুটার’ জিনাতের ‘দোষ স্বীকার’, রিমান্ডে ৩ জন ‘অনৈতিক প্রস্তাবে’ রাজি না হওয়ায় বনশ্রীর স্কুলছাত্রীকে হত্যা: র‌্যাব মানিকগঞ্জ হাসপাতালে নারীকে ‘ধর্ষণ’, ২ আনসার সদস্য আটক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান-আনিসুলের বিচার শুরু আইনশৃঙ্খলার উন্নতি নেই, এটি সরকারের ব্যর্থতা: মির্জা ফখরুল ৫০ বছর পর চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছে নাসা, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ভাইরাল পোস্টে নিজেকে ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যা: সন্দেহভাজন মিলন র‌্যাবের হাতে ধরা চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতের ফজলুলের প্রার্থিতা ফিরল না আপিলেও হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল থেকে ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৫০০ ছাড়িয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত বিকল্প ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

জাতীয়

সীমান্তে আরাকান আর্মি, কী প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশে?

 প্রকাশিত: ১০:৫৩, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪

সীমান্তে আরাকান আর্মি, কী প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশে?

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান যুদ্ধে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি মংডু শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।  এতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২৭০ কিলোমিটার পুরোটাই এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে বলে মিয়ানমারের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদীর মিয়ানমারের অংশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আরাকান আর্মি। ওই নিষেধাজ্ঞার পর নাফ নদীতে নৌ চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়। এ ঘটনায় বাড়ানো হয়েছে বিজিবির টহল।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, যেহেতু সীমান্তের ওপার বিদ্রোহী আরাকান আর্মির দখলে নিয়েছে, সে কারণে আমরা সীমান্তে সতর্কতা বজায় রেখেছি যাতে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ না ঘটে।

প্রায় আট মাসেরও বেশ সময় ধরে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।  

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের চলমান এই যুদ্ধে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সহযোগী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি-এআরএ ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসাসহ কয়েকটি সংগঠনের অবস্থান ছিল জান্তা বাহিনীর পক্ষে।

এ কারণে সীমান্তবর্তী আরাকান রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ফলে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলেন, এর ফলে বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়টি আরও বেশি জটিল ও আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

মংডুর পাশাপাশি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার বুথিডং ও পালেতাওয়া দখলের নেওয়ার দাবি করেছে আরাকান আর্মি। যদিও রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে এখনো পর্যন্ত কিছুই জানায়নি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

চলতি বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে টানা যুদ্ধ চলছে। তীব্র যুদ্ধের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) কয়েকশ সদস্য। পরে তাদের মিয়ানমারে ফেরতও পাঠানো হয়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এহসান উদ্দিন বলেন, সীমান্তে অযাচিত যাতায়াত বন্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি আমরা। সেজন্য সচেতন করতে মাইকিংও করা হচ্ছে।  

তিনি বলেন, নাফ নদীতে মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে যেন কোনোক্রমেই কোনো নৌকা না যায় সেজন্য আমরা সতর্কতা জারি রেখেছি। কেউ যেন সীমানা ক্রস করে এদিকে না আসে সেদিকে আমরা নজর রাখছি।

এক্ষেত্রে ছোট ছোট নৌকাগুলোকে নাফ নদীতে বাংলাদেশ অংশে সর্তকতার সঙ্গে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও বড় ট্রলার, বড় জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলেও জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তের নাফ নদীতে টহল তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নাফ নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং বাংলাদেশের জলসীমায় বিদ্যমান দ্বীপের আধিপত্য বিস্তারের জন্য নৌ টহলও জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে আরাকান আর্মির হামলার মুখে কয়েকটি রোহিঙ্গা সংগঠনের নেতারা অস্ত্রসহ বাংলাদেশে আশ্রয়ের পর তাদের আটক করে পুলিশ। কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এমন অবস্থায় নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে।

কক্সবাজারের টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রথম কাজ হলো বাংলাদেশ বর্ডার যাতে কেউ ক্রস না করে। কোনো অবস্থাতেই যাতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ না ঘটে সেদিক বিবেচনায় টহল জোরদার করেছি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও রোহিঙ্গা নিয়ে সংকট কয়েকটি কারণে দীর্ঘায়িত হতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলেন, প্রথমত আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে রোহিঙ্গারা জান্তা বাহিনীর পক্ষ নেওয়ায় এই সংকট আরও বাড়ল।

দ্বিতীয়ত যে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে পরাজিত হয়ে পালিয়েছে, তাদের সদস্যদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জোর শঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বড় যে সংকট সেটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগ, বলেন তিনি।

এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, রাখাইন এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। এ কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভরসা করতে হবে নেপিডোর ওপর। কূটনৈতিক সম্পর্কের বাইরে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হলো।

এই বিশ্লেষক মনে করছেন, একদিকে বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এমন অবস্থায় প্রতিবেশী মিয়ানমারেও সীমান্তে যে অস্থিরতা তৈরি হলো তাতে সে দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে।

বিবিসি বাংলা অবলম্বনে