যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, আলোচনার জন্যও: ট্রাম্পকে ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দেশে যে অস্থিরতা চলছে তাকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ বলা যায় না, এটি ‘সন্ত্রাসী যুদ্ধ’।
বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে হুমকি দিয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, “আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, আলোচনার জন্যও।”
দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভকে ‘সহিংস ও রক্তক্ষয়ী বানানোই হয়েছে’ ট্রাম্পকে হস্তক্ষেপ করার অজুহাত দেওয়ার জন্য, সোমবার বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব বলেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
আরাগচি বলেছেন, সপ্তাহান্তে সহিংসতা চরম আকার ধারণ করলেও ‘পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’।
রোববার থেকে ইরানজুড়ে বিক্ষোভের মাত্রা ও তীব্রতা কমে এসেছে বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের ক্রিটিকাল থ্রেটস প্রজেক্ট।
দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ, স্টারলিংক স্যাটেলাইটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপের কারণে এমনটা হতে পারে বলে ধারণা করছে মার্কিন এ থিংক ট্যাঙ্ক।
সোমবারের ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে সরকারের পক্ষে বড় বড় সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। তেহরানে সমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতির খবর নিশ্চিত করেছেন আল জাজিরার প্রতিবেদক।
দেশজুড়ে এসব সমাবেশে অংশ নিতে ইরানি কর্মকর্তারা জনগণের প্রতি রোববার থেকেই আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। রক্তক্ষয়ী সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করে এ ‘জাতীয় প্রতিরোধ শোভাযাত্রায়’ অংশ নিতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজিশকিয়ানও অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
আরাগচি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত গোষ্ঠীগুলো’ সরকারি ভবন, থানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিশানা বানিয়েছিল।
“যা হচ্ছে তা বিক্ষোভ নয়, এটি দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী যুদ্ধ। বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর আদেশ দেওয়া সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত গোষ্ঠীগুলোর পাঠানো অডিও বার্তার রেকর্ডিং ইরানি কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে,” বলেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ফিরিয়ে দেবে। এ লক্ষ্যে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকার কাজ করছে।
বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও সরকারি প্রতিষ্ঠানেও ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু হবে, আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আরাগচি বলেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে এমন ফুটেজ ইরানের কাছে আছে। কর্তৃপক্ষ খুব শিগগির আটককৃতদের জবানবন্দিও প্রকাশ করবে।
কর্তৃপক্ষ রাস্তার ঘটনাগুলোর ওপর ‘নিবিড় নজর’ রাখছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি গোষ্ঠীগুলো ইরানের বিক্ষোভে ‘উসকানি ও মদদ’ দিয়েছে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলো দায়ীদের ‘খুঁজে বের করবে’, বলেছেন তিনি।
ট্রাম্পের ‘হম্বিতম্বি ও হুমকির’ জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ‘অহংকারীদের পতন অনিবার্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্পের নাম না নিয়ে ফারসি ভাষায় তিনি লিখেছেন, “অহংকার ও ঔদ্ধত্য নিয়ে পুরো বিশ্বকে বিচার করতে বসা লোকটার জানা থাকা উচিত, ফারাও, নমরুদ, রেজা শাহ, মোহাম্মদ রেজা শাহ এবং তাদের মতো অত্যাচারী ও অহংকারী শাসকরা অহংকারের চূড়ায় থাকা অবস্থাতেই পতিত হয়েছেন, তার পতনও অনিবার্য।”
এদিকে ট্রাম্পের ‘সামরিক পদক্ষেপের’ হুমকির প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা যে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপের বিরোধী।