সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দরিদ্রের প্রয়োজন মেটাতে হবে: ড. আব্দুল মঈন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শ্রমিকের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সম্পদ সৃষ্টি। সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমেই দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। এর জন্য সঠিক ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য।’
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স ফর ওয়ার্কার্স রাইট আয়োজিত ন্যাশনাল কনভেনশন অন লেবার মেনিফেস্টো শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়টি ৫৪ বছর আগে থেকেই আমাদের সংবিধানে লিখিত আকারে আছে। তাহলে এ বিষয়ে কেন আজ আবার নতুন করে দাবি তুলতে হচ্ছে? আজকে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে আমরা যে দাবি-দাওয়ার কথা বলছি, সেটি অর্জনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্পদ সংগ্রহ।’
শ্রমিকরাই দেশ গড়ার কারিগর উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘১৮৮৬ সালে যেদিন শ্রমিকরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। আজকে শ্রমিকের অধিকার নিয়ে আপনারা যে দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন। সে সময়ও দাবি দাওয়া ছিল শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজ করবে। সেদিন থেকে শুরু করে আজকে প্রায় ১৫০ বছরেরও অধিক সময় পার হয়ে গেছে, তবুও তারা তাদের এই দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘আজকে অধিকাংশ সময়ই শ্রমিকরা যে দাবি-দাওয়ার কথা বলে, সেগুলো ঠিক সেই ১৮৮৬ সালেও ছিল। অথচ প্রায় দেড়শ বছরেও শ্রমিকদের অনেক দাবি আজও পূরণ করা হয়নি। আজ কেন শ্রমিকের সেই অধিকারগুলো আদায় হয়নি। কাদের কারণে হয়নি? শ্রমিকরা যদি দেশ গড়ার কারিগর হয়ে থাকে, তাদের দাবি-দাওয়া দেশ পূরণ করবে না? দেশের নেতৃত্ব কেন পূরণ করবে না?’, প্রশ্ন রাখেন তিনি।
মঈন খান বলেন, ‘আমরা উদার নীতির রাজনীতি করি। আমি পরিকল্পনামন্ত্রী থাকা অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে বলেছেন, শুধু প্রাইভেট সেক্টরে উন্নয়ন নয়, উন্নয়নটাকে গ্রামীণ জনপদ অর্থাৎ গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে দিতে হবে। গ্রামের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
উন্নত দেশের চেয়ে আমাদের দেশে চ্যালেঞ্জগুলো অনেক বড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জগুলো শুধু রাজনৈতিক দলগুলো মোকাবিলা করলে হবে না। সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, জনতা যদি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর সঠিকভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারে। সঠিকভাবে যদি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করা যায়, তাহলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হতে পারে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম পৃথিবীতে চলমান রয়েছে, আমাদের সেটি চালিয়ে নিতে হবে। কেননা শ্রমিকের অধিকার ছিনিয়ে না নিলে কখনো অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না।’
শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্স (বিলস) আয়োজিত এ সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলি আকন্দ, বাংলাদেশ জাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হক প্রধান, গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরিফুর রহমানসহ সংগঠনটির দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।