সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৯ ১৪৩২, ২৩ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান-আনিসুলের বিচার শুরু গুলি বের করা যায়নি, টেকনাফের হুজাইফার অবস্থার উন্নতি নেই আইনশৃঙ্খলার উন্নতি নেই, এটি সরকারের ব্যর্থতা: মির্জা ফখরুল ৫০ বছর পর চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছে নাসা, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ভাইরাল পোস্টে নিজেকে ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যা: সন্দেহভাজন মিলন র‌্যাবের হাতে ধরা চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতের ফজলুলের প্রার্থিতা ফিরল না আপিলেও হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরানের ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৫০০ ছাড়িয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত বিকল্প ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতার সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

রাজনীতি

পেশার চেয়ে রাঙ্গাঁর ‘অন্যান্য উৎসে’ আয় পাঁচ গুণ বেশি

 প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

পেশার চেয়ে রাঙ্গাঁর ‘অন্যান্য উৎসে’ আয় পাঁচ গুণ বেশি

পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করলেও জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাঁর আয়ের বড় অংশ আসে ‘অনির্দিষ্ট’ বা ‘অন্যান্য উৎস’ থেকে।

তার নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসা থেকে আয়ের চেয়ে তার অন্যান্য উৎসের আয় পাঁচ গুণেরও বেশি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনে লাঙ্গল প্রতীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় এসব তথ্য জানিয়েছেন সাবেক এ সংসদ সদস্য।

রাঙ্গাঁ রংপুর-১ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এবার প্রথমবারের মতো লালমনিরহাট-১ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রাঙ্গাঁর হলফনামা বলছে, ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫২ টাকা। আর ‘অন্যান্য উৎস’ থেকে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা।

কৃষিখাত থেকে তিনি পান তিন লাখ ৭১ হাজার ৫৫০ টাকা। বাসাবাড়ি ভাড়া বাবদ পান ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার ২২৪ টাকা। আর শেয়ার ও আমানত থেকে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৩ টাকা।

রাঙ্গাঁর পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়ের ক্ষেত্রেও ‘অন্যান্য উৎস’ থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আয়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে। তার ছেলের বার্ষিক আয় কৃষি থেকে ১ লাখ এক হাজার ৬০১ টাকা এবং ব্যবসা থেকে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ২০০ টাকা।

ছেলের স্ত্রীর কৃষি থেকে আয় ৯১ হাজার ৪০০ টাকা ও ব্যবসা থেকে চার লাখ ৪৯ হাজার ৬৬৬ টাকা।

মেয়ের কৃষি থেকে আয় দেখানো হয়েছে দুই লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৯৬ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া পরিবারের নির্ভরশীলদের ‘অন্যান্য উৎস’ থেকে মোট আয় দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যার উৎসও হলফনামায় নির্দিষ্ট করা হয়নি।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও রংপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন রাঙ্গাঁ।

২০০১ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে নির্বাচিত হবার পর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৯ সালে রাঙ্গাঁ বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন। তিনি ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে ২০২২ সালে ১৪ সেপ্টম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

অস্থাবর সম্পদ

রাঙ্গাঁর নিজের হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার তিন টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ টাকা এবং সঞ্চয়পত্রে রয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ২৮২ টাকা।

নির্ভরশীলদের মধ্যে ছেলের হাতে নগদ ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৪১ টাকা, ছেলের স্ত্রীর হাতে ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪৭৯ টাকা এবং মেয়ের হাতে রয়েছে ২৭ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯৭ টাকা।

ব্যাংকে জমার ক্ষেত্রে ছেলের নামে রয়েছে ২০ লাখ ২৫ হাজার ৩০০ টাকা, ছেলের স্ত্রীর নামে ২৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৫ টাকা এবং মেয়ের নামে ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা।

যানবাহনের হিসাবে রাঙ্গাঁ নিজের নামে দুটি কার ও একটি বাসের মালিক বলে হলফনামায় বলেছেন। তার ছেলের নামে রয়েছে চারটি বাস ও কার এবং মেয়ের নামে রয়েছে দুটি বাস ও কার।

স্বর্ণালঙ্কারের হিসাবে রাঙ্গাঁর নিজের রয়েছে ৩৮ তোলা স্বর্ণ, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৬ হাজার টাকা। তার ছেলের রয়েছে ২০ তোলা, ছেলের স্ত্রীর ২০ তোলা এবং মেয়ের ১০ তোলা স্বর্ণ।

আসবাবপত্রসহ অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৮৬ লাখ ৩৯ হাজার ১৮১ টাকা। এসব সম্পদের বর্তমান মূল্যও একই রাখা হয়েছে। নির্ভরশীলদের ক্ষেত্রেও একই রাখা হয়েছে।

স্থাবর সম্পদ

স্থাবর সম্পদের মধ্যে রাঙ্গাঁর নিজের নামে রয়েছে ৫৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৬১ টাকায় ক্রয় করা কৃষিজমি এবং সাত কোটি ৭৬ লাখ ৪২ হাজার ৭৫ টাকায় ক্রয় করা অকৃষি জমি।

পরিবারের তিনজন নির্ভরশীলের নামে ২ কোটি ৩১ লাখ ৫৪ হাজার ৩০৮ টাকায় ক্রয় করা কৃষিজ ও অকৃষিজ জমির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্যেও কোনো পরিবর্তন দেখানো হয়নি।

মামলা

হলফনামা অনুযায়ী তিনবারের সংসদ সদস্য ও একবারের প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মোট ১২টি মামলা চলমান রয়েছে।