বুধবার ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২৪ ১৪৩২, ১৮ রজব ১৪৪৭

ব্রেকিং

তারেকের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাৎ ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ‘অনড়’: আসিফ নজরুল ভোটের আগে-পরে ৭ দিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন’: বিএনপি প্রার্থী রেজা কিবরিয়াকে শোকজ অর্থ আত্মসাৎ: কক্সবাজারের সাবেক মেয়র আবছারের ৩ বছরের সাজা রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিরও ‘গণতন্ত্রায়ন দরকার’: খসরু সরকার একটি দলে ‘ঝুঁকেছে’, নির্বাচন ‘পাতানো হতে পারে’: জামায়াতের তাহের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশ, ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত গুনতে হতে পারে দুবাইয়ে ৩ ফ্ল্যাট একরামুজ্জামানের, সাত বছরে ঋণ বেড়েছে ২২ গুণ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় আইসিসির কাছ থেকে আল্টিমেটাম পাওয়ার খবর উড়িয়ে দিল বিসিবি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে, খবর ক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজের যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ কোটি ডলার মূল্যের তেল রপ্তানি করবে ভেনেজুয়েলা মার্কিন তাড়া খাওয়া তেল ট্যাংকার পাহারায় রাশিয়ার নৌবহর গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক বিকল্প ভাবছে ট্রাম্প কলম্বিয়ার গেরিলারা মার্কিন হামলার পর ভেনেজুয়েলা থেকে পালাচ্ছে

আন্তর্জাতিক

মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত, তবু সেনাবাহিনী অনুগত: নির্বাসিত কর্মকর্তারা

 প্রকাশিত: ১৩:৪৪, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত, তবু সেনাবাহিনী অনুগত: নির্বাসিত কর্মকর্তারা

নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলেও ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী এখনো পূর্বের শাসনব্যবস্থার প্রতি অনুগত রয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাসিত সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

কলম্বিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

গত সপ্তাহের শেষে কলম্বিয়া-ভেনেজুয়েলা সীমান্ত থেকে উইলিয়ামস ক্যানসিনো তার সাবেক বস ও প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হতে দেখেছেন। দীর্ঘ ২৫ বছরের দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক মন্দা ও একদলীয় শাসনের পর তিনি আশা করেছিলেন, এর মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত হবে। 
সোমবার ক্যানসিনো এএফপিকে বলেন, ‘পরিস্থিতি সত্যিই পরিবর্তন করতে হলে নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। কারণ, বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তারা এখনও আগের শাসকগোষ্ঠীর প্রতি পুরোপুরি অনুগত।’

ক্যানসিনো ২০১৯ সালে পালিয়ে যাওয়ার আগে ভেনেজুয়েলার পুলিশ ও বিশেষ অ্যাকশন ফোর্সে কর্মকর্তা ছিলেন। এই বাহিনীকে প্রায়ই ভিন্নমত দমনে ব্যবহার করা হয়।

বিতর্কিত নির্বাচন ও গণবিক্ষোভের মুখেও এই বাহিনীই মাদুরো সরকারকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছিল। সরকার কর্তৃক ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়া আরও কয়েকজন সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও একই মত দেন। 

তারা জানান, সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এলেও ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখনো পুরোনো চক্রের হাতেই রয়ে গেছে।

বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনোর হাতে এখনো অনেক ক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই দুই নেতাই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড।

ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী এবং মাদুরোর ছেলেও অন্তর্বর্তীকালীন নেত্রী ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। রদ্রিগেজ মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সাবেক কর্নেল এএফপি-কে বলেন, ‘বর্তমানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব একটি স্বৈরাচারী শাসনেরই অংশ।’ মাদুরো না থাকায় এখন এই শীর্ষ নেতাদেরও পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ক্লেবার্থ দেলগাদোও বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে পরিবর্তনের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, রদ্রিগেজের অনুগত কমান্ডাররা পদে থাকলে ভেনেজুয়েলায় পরিবর্তন সম্ভব নয়।

সাবেক সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে থাকা অনেক নির্বাসিত কর্মকর্তা জানান, তারা দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লক্ষ্য হলো বর্তমান সামরিক নেতৃত্বের জায়গা নেওয়া।

দেলগাদো বলেন, ‘আমরা সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছি নতুন সরকারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য। তবে সেই সরকার অবশ্যই নির্বাচনের মাধ্যমে আসতে হবে।’ কিন্তু এখনো তেমন কোনো ইঙ্গিত নেই।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এই মুহূর্তে নির্বাচন ভেনেজুয়েলার জন্য অগ্রাধিকার নয়। 

অন্যদিকে, শান্তিতে নোবেলজয়ী এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কেরিনা মাচাদোর দেশ পরিচালনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সাবেক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ শক্তির মাধ্যমে পরিবর্তনের কথা বললেও ক্যানসিনো শান্তি চান। 

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সংঘাত বা গৃহযুদ্ধ চাই না। আমরা আমাদের ভাইদের মুখোমুখি দাঁড়াতে চাই না।’