এডিপির আকার কমল ১৩%, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বড় কোপ
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত প্রকল্প না পাওয়ায় এবং সরকারের ধীরে চলা নীতিতে বাস্তবায়ন গতি মন্থর হওয়ায় চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বড় অঙ্কের কাটছাঁট করা হয়েছে।
অর্থবছরের অর্ধেকের মাথায় এসে টাকার অঙ্কে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত জুনে তার একমাত্র বাজেট দেয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া উন্নয়ন নীতিতে কাটছাঁট করে চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি নির্ধারণ করা হয়। জানুয়ারিতে এসে কাটছাঁটের পর সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়াল ২ লাখ কোটি টাকায়।
সবচেয়ে বড় কোপ পড়েছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বরাদ্দে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ কমেছে ৭৩ শতাংশ; আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় কমেছে ৫৫ শতাংশ।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
পরে ব্রিফিংয়ে এসে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, "এমনিতেই মূল এডিপি যেটা ছিল, সেটাকেই কম ধরা হয়েছিল। অনেক বছরের মধ্যে মূল এডিপি তার আগের বছরের চেয়ে কম ছিল ২০২৩-২৪ সালে। সেখানেও বাস্তবায়ন হার কম ছিল বলে আমরা এ বছরের মূল এডিপি ধরেছিলাম ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।”
তিনি বলেন, "এখন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে যে চাহিদা এসেছে, সেই চাহিদা পূরণ করার পরও কিছু বাকি রয়ে গেছে, তাই না? আসলে রাজনৈতিক সরকারের আমলে যেমন অসংখ্য প্রকল্পের ভিড় থাকে, আমাদের সময়ে প্রকল্প বরং চেয়ে চেয়ে আনতে হয়। প্রকল্পের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
“সেক্ষেত্রে আমরা প্রকল্পগুলো, যেগুলো একদমই গ্রহণযোগ্য না, সেগুলো বাদ দিয়ে বাকি প্রকল্পগুলো সব গ্রহণ করার পরও কিছু থোক বরাদ্দ রয়ে গেছে এবং সেগুলো মিলিয়ে আমাদের এখন যে... ২ লাখ আরএডিপি ২ লাখ কোটি টাকায়।"