দিনভর ভুগিয়ে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার
রাজধানীসহ দেশজুড়ে দিনভর ভোগান্তির পর তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দাবি পূরণের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার বিকালে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান ধর্মঘট তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বিইআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমাদের যেসব দাবি ছিল, সেগুলো তিনি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ কারণে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”
দেশজুড়ে অভিযান ও জরিমানার প্রেক্ষাপটে বুধবার রাতে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার থেকে তারা এ কর্মসূচি পালনের অংশ হিসেবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ রাখার কথা বলেছিল।
সমিতির তরফে রাতের ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রেতারা পুরোদমে বিক্রি বন্ধ করে দেন।
আগে থেকে চলতে থাকা সংকটের কারণে এমনিতেই এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল কম। কোথাও পাওয়া গেলেও দিতে হচ্ছিল অনেক বেশি দাম।
এর মধ্যে সকাল থেকে একেবারে বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে যাদের গ্যাস শেষ হয়ে গেয়েছিল তারা পড়েন বিপাকে। ডিলার পয়েন্টগুলো খোলেনি। রাজধানীর অনেক বাসিন্দার বাসায় চুলা না জ্বলায় দোকান থেকে খাবার কিনে আনতে হয়।
ধর্মঘটের এ সুযোগও কোনো কোনো এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের নিতে দেখা যায়। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম তারা রাখেন দুই হাজার টাকার বেশি।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের এমন কঠোর কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে সরকারও দিনের প্রথম ভাগে তৎপর হয়। এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আলোচনার জন্য সমিতির নেতাদের ডেকে পাঠায়।
আরেকদিকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিতে ভ্যাট ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতির সুপারিশ করে।
এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
সরবরাহ সংকট, কারসাজির অভিযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযানের মধ্যে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো ‘এলপি গ্যাস আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক চিঠিতে বলা হয়, দেশে এলপি গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে আমদানি করা হয়, যা শিল্পখাত ও গৃহস্থালি—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণত শীতকালে বিশ্ববাজারে ও দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ে।