কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির ঘরে, জনজীবন স্থবির
দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে সকাল ও সন্ধ্যায় কনকনে শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। টানা তিন দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অবস্থান করছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার (ভোর ৬টা) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।
তিনি জানান, এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মঙ্গলবার ছিল ৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় পুরো জেলা ঢেকে থাকে। শীতের কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
শীতের প্রভাবে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি ও জ্বরের উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ।
খোলা পরিবেশে হিমেল বাতাসে রাত কাটানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
শীত মোকাবিলায় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন সরকার জানান, জেলার নয়টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে শীতের কারণে গ্রামবাংলায় লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে ধুনকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। পাশাপাশি গরম কাপড়ের দোকানেও বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়।