সোমবার ২৩ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ৯ ১৪৩২, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৭

ব্রেকিং

পিছু হটলেন ট্রাম্প, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিত ইরানকে সাহায্য করতে সোনা-রূপা নগদ অর্থ দিচ্ছে কাশ্মীরিরা ‘জাল ভোট’ নিয়ে ‘বিএনপি-জামায়াত’ সংঘর্ষে ৪০ বাড়ি ভাঙচুর, মুহুর্মুহু বোমা মার্চের মধ্যে ‘দখলদারদের’ ফুটপাত-সড়ক ছাড়তে বলল পুলিশ তেল সংকটে বগুড়ায় ৭২ পেট্রোল পাম্প বন্ধ, ভোগান্তি চরমে ইরানজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণ: আহভাজে হাসপাতালে হামলা, মৃতের সংখ্যা বাড়ছে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ মৃত্যু: ২ গেইটম্যানের বিরুদ্ধে মামলা ‘ব্যাংক বন্ধ থাকায়’ তেল সংকট, বলছেন পাম্প মালিকরা এক দশক পর পাবনায় ‘চরমপন্থিদের’ পোস্টার, আতঙ্ক ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ইসরায়েলের দুই শহরে ইরানি হামলার পর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ইরান: মাসুদ পেজেশকিয়ান লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সেতু উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল দক্ষিণ কোরিয়ায় কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪ পিএসএল খেলতে পাকিস্তান গেলেন চার বাংলাদেশি ক্রিকেটার

রাজনীতি

‘জাল ভোট’ নিয়ে ‘বিএনপি-জামায়াত’ সংঘর্ষে ৪০ বাড়ি ভাঙচুর, মুহুর্মুহু বোমা

 প্রকাশিত: ১৯:১১, ২৩ মার্চ ২০২৬

‘জাল ভোট’ নিয়ে ‘বিএনপি-জামায়াত’ সংঘর্ষে ৪০ বাড়ি ভাঙচুর, মুহুর্মুহু বোমা

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘জাল ভোট’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ‘বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর’ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অন্তত ৪০টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় মুহুর্মুহু হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে লুট করা হয় সোনার অলঙ্কার, টাকা-পয়সা ও গবাদি পশু।

সোমবার সকালে উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের তালতলা কুরবির চর কালাই ভূঁইয়ার কান্দি এবং দরবেশ খাঁর কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে নড়িয়া থানার ওসি মো. বাহার মিয়া জানান।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজ বেগম, হাবিবা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তালতলা দাখিল মাদ্র্রাসা কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থক জাহাঙ্গীর হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার জাল ভোট দেন বলে অভিযোগ ওঠে। তখন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক রুবেল কাজী ও সোহেল কাজী এর প্রতিবাদ করেন এবং বাধা দেন। তখন বিএনপির সমর্থকরা সোহেল কাজী ও রুবেল কাজীকে মারধর করেন।

রোববার এলাকার হাফিজ ভূঁইয়ার ছেলে সাব্বির ভূঁইয়া মোটরসাইকেল নিয়ে তালতলা এলাকার মৃধার মোড়ে যান। তখন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক নাসির সিকদারের ছেলে নাইম সিকদারের লোকজন তাকে মারধর এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ নিয়ে রাত থেকেই উত্তেজনা চলছিল এলাকায়। সকালে নাসির সিকদার ও খলিল শেখের নেতৃত্বে শত শত লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে হামলা চালায়। এতে মফিজ ভূঁইয়ার তিনটি, হাফিজ ভূঁইয়ার তিনটি, কালাম ভূঁইয়ার তিনটি, প্রবাসী জলিল বেপারী, আব্দুর রাজ্জাক বেপারী, আব্দুর রশিদ বেপারী, শামসুল হক রাঢ়ী, সুলতান রাঢ়ী, হালিম রাঢ়ী, সফু মোল্লা, জব্বর মোল্লা, সাইদুর মোল্লা, জামলা রাঢ়ীসহ প্রায় ৪০টি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।

এ সময় হামলাকারীরা কালাম ভূঁইয়ার খামার থেকে চারটি গরু, জলিল বেপারীর স্ত্রীর ১৫ ভরি সোনার অলঙ্কার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

হাফিজ ভূঁইয়ার মেয়ে রেশমা বেগম বলেন, “সকালে অতর্কিতভাবে নাসির সিকদার, খলিল শেখ, রুবেল কাজী, সোহেল কাজীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও বোমা নিয়ে আমাদের বাড়িঘরে হামলা করে। আমার চাচা কালাম ভূঁইয়ার চারটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে। বোমা মেরে আমাদেরকে চরম আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দেয়।

ভুক্তভোগী আল ইসলাম মোল্লার স্ত্রী লাকী বেগম বলেন, “নাসির সিকদার, রুবেল কাজীর লোকজন আমাদের বাড়িঘরে হামলা করেছে। উল্টো পুলিশ আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।”

রাজনগর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য হাসিনা বেগম বলেন, “নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাঢ়ীরা মারছে কাজীদের; আর কাজীরা মারছে রাঢ়ীদের। এ নিয়ে আজকে উভয় পক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।”

এ ব্যাপারে মফিজ ভূঁইয়া বলেন, “জামায়াত সমর্থকরা নির্বাচনের মারামারির জের ধরে আমাদের বাড়িঘরে হাতবোমার বিস্ফোরণে ঘটিয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। সোনার অলঙ্কার, নগদ টাকাসহ আমাদের পাঁচটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে।”

একই অভিযোগ করেন জলিল বেপারীর স্ত্রী সারিকা বেগম। তিনি ঘটনার জন্য এলাকার জামায়াত সমর্থকদের দায়ী করেন।

এ ব্যাপারে জানতে নাছির সিকদার, সোহেল কাজীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রয়েল মাঝি বলেন, “ঘটনার সূত্রপাত জাল ভোটকে কেন্দ্র করেই। বিএনপি ও জামায়াতের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়েছে। তবে এখন এতে এলাকার লোকজন পক্ষ বুঝে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে ঘটনাটি বড় ও ব্যাপক হয়েছে।”

জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এম মকবুল হোসাইন বলেন, “সেখানে আমাদের শক্তিশালী সংগঠন নেই, অনেক কর্মীও নেই। ফলে সেখানে বিএনপির সঙ্গে মারামারি করার বিষয় নেই। বিএনপির লোকজন নিজেরা নিজেরাই মারামারি করে আমাদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

নড়িয়া থানার ওসি মো. বাহার মিয়া বলেন, “তালতলা বাজার ও মৃধাবাড়ী এলাকায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়। বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”