কানাডার একটি প্রদেশে মাদকমুক্তকরণ কর্মসূচি বন্ধের সিদ্ধান্ত
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বুধবার জানিয়েছে, তারা একটি বিতর্কিত মাদক অপরাধমুক্তকরণ কর্মসূচির মেয়াদ আর বাড়াবে না। কর্তৃপক্ষ জানায়, এই উদ্যোগে প্রত্যাশিত ফল আসেনি এবং এতে আরো বেশি সংখ্যক মাদক ব্যবহারকারীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যও পূরণ হয়নি।
টরন্টো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
২০২৩ সালে কানাডার ফেডারেল সরকারের অনুমোদনে পশ্চিম উপকূলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া তিন বছরের একটি পরীক্ষামূলক অপরাধমুক্তকরণ কর্মসূচি চালু করে। এতে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ওপিওইড, কোকেন, মেথামফেটামিনসহ অন্যান্য কঠিন মাদক রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।
ভয়াবহ ওপিওইড সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সংকটটি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বড় শহরগুলোয়, বিশেষ করে ভ্যাঙ্কুভারে, মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
ওই পরিকল্পনায়, প্রদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৫ গ্রাম পর্যন্ত কঠিন মাদক থাকলে তারা গ্রেফতার বা অভিযোগমুক্ত থাকবে। এর বদলে, পুলিশের হাতে অল্প পরিমাণ মাদকসহ ধরা পড়া ব্যক্তিদের আসক্তি নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার তথ্য দেওয়ার কথা থাকে।
তবে বুধবার কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোসি ওসবোর্ন সাংবাদিকদের জানান, কর্মসূচির মেয়াদ বাড়াতে অটোয়ার কাছে প্রদেশটি নতুন করে কোনো অনুমতি চাইবে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট যাঁরা মাদকাসক্তিতে ভুগছেন, তাঁদের সামনে এসে সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি সহজ করে দেওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু পরীক্ষামূলক উদ্যোগ ছিল। ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কী কার্যকর হচ্ছে তা বোঝার সুযোগ রাখা হয়েছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু এই প্রকল্প থেকে আমরা যে ফল আশা করেছিলাম, তা পাওয়া যায়নি।’
ওসবোর্ন বলেন, প্রদেশটি এখনও মাদকাসক্তিকে একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবেই দেখে, অপরাধবিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধানের বিষয় হিসেবে নয়। ব্যবহারকারীদের চিকিৎসাসেবায় যুক্ত করতে নতুন পথ খোঁজা হবে বলেও জানান তিনি।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এই অপরাধমুক্তকরণ কর্মসূচি ছিল কানাডায় প্রথম। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ওরেগনে অনুরূপ একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।