মুন্সীগঞ্জে চোর সন্দেহে ‘গণপিটুনি’, হাসপাতালে ২ জনের মৃত্যু
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে লৌহজং থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে সাতঘড়িয়া এলাকায় চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়ে পিটুনির শিকার হয় তারা।
নিহতরা হলেন- সাগর (৩২) ও সানারুল (৩৪)। তারা লৌহজংয়ের গোয়ালী মান্দ্রা এলাকার বেদে সম্প্রদায়ের বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী বলছে, মঙ্গলবার রাতে সাগর ও সানারুল সাতঘড়িয়ার একটি ক্লিনিকে বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে চোরাই তারসহ ধরা পরে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের ধরে পিটুনি দেয়। এক পর্যায়ে দুজনই এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে চুরির কথা স্বীকার করে।
পরে বুধবার সকালে দুজনকে উদ্ধার করে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানে চিবকৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
সাতঘড়িয়া এলাকার সুরুজ মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকার লোকজন চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ ছিলেন। বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভাতেও উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এলাকাবাসী কোনো প্রতিকার পাচ্ছিল না।
“চোরেরা একের পর এক বাড়িতে চুরি চালিয়ে যাচ্ছিল। এক ঘর থেকে অন্য ঘরে নেওয়া বৈদ্যুতিক সংযোগের তার, পানির মোটরের তার, এমনকি বাথরুমের ফিটিংস-হাতে যা পাচ্ছিল, তাই চুরি করে নিয়ে যেত।”
তিনি বলেন, “গরু ছাগলও চুরির ঘটনা ঘটে। আর এসব চুরির মাল বিক্রি করতো উপজেলার বৃহৎ ‘মাদকের আখড়া’ বলে পরিচিত গোয়ালী মান্দ্রা পল্লীতে। মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করেই এখানে চোরাই মালামাল ক্রয়বিক্রয় কেন্দ্র চালু হয়।
“চোরের অত্যাচারে অতিষ্ট জনগণ কোনো কূল কিনারা পাচ্ছিলনা। তাই ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়।”
ওসি মনিরুল বলছেন, “গণপিটুনির শিকার ওই দুই চোর মারা গেছে। তবে এ ব্যাপারের হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”