শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ১৫ ১৪৩২, ১০ রমজান ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তানের একাধিক শহরে হামলা পাকিস্তানের

 প্রকাশিত: ১১:১৫, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আফগানিস্তানের একাধিক শহরে হামলা পাকিস্তানের

আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া শহরে হামলার কথা জানিয়েছে আফগানিস্তান।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসলামাবাদ জানিয়েছিল, সীমান্তে আফগান তালেবানের অভিযানের পর দুজন সেনা নিহত হয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, ভোরের শুরুতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৫০ মিনিট নাগাদ শহরজুড়ে জেট বিমানের শব্দসহ বিস্ফোরণ শোনা যায়। রাত প্রায় সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির শব্দ শোনা গেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, তার দেশের বাহিনী ‘যেকোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নস্যাৎ করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।”

পাকিস্তান সরকারের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, “প্রিয় মাতৃভূমির প্রতিরক্ষায় কোনো আপস হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব উপযুক্তভাবে দেওয়া হবে।”

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদির ভাষ্য, তাদের হামলায় এ পর্যন্ত আফগান তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস এবং আরও নয়টি দখল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৮০টির বেশি ট্যাংক, আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে।

অন্যদিকে তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার রাতে ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট এবং দুটি ঘাঁটি দখল করেছে। মোট ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর ভারী ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে, তবে এসব সংখ্যা যাচাই করা কঠিন।

এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা এম আসিফ কঠোর ভাষার এক্স পোস্টে আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন।

খাজা লিখেছেন, “পাকিস্তান সরাসরি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

“আমাদের ধৈর্যের বাধ ভেঙে পড়েছে। এখন আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে উন্মুক্ত যুদ্ধ।”

গত অক্টোবরে একাধিক প্রাণক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই পক্ষ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতেও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

গত সপ্তাহে আফগানিস্তানে একাধিক রাতে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। তালেবানের দাবি, এসব হামলায় নারী-শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে।

সীমান্তের কাছে সাতটি কথিত জঙ্গি শিবির ও আস্তানাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা তখন পাকিস্তানের তরফে বলা হয়েছিল। এর আগে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী হামলা ঘটে।

অন্যদিকে কাবুল জানিয়েছে, বেসামরিক বাড়ি ও একটি ধর্মীয় বিদ্যালয়কে নিশানা করেছিল পাকিস্তান।

আফগান তালেবান বলেছে, প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা ‘বৃহৎ পরিসরে’ অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার তারা দাবি করেছে, তাদের অভিযানে ‘অসংখ্য’ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র এ দাবি অস্বীকার করেন এবং তালেবান মুখপাত্র মুজাহিদের ১৫টি সামরিক পোস্ট দখলের দাবিও খণ্ডন করেন।

পরে ওইদিন পাকিস্তান নিশ্চিত করে, যৌথ সীমান্তে ‘উসকানিবিহীন গুলি’র জবাব দিতে গিয়ে তাদের দুই সেনা নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত মোট ১৩৩ জন আফগান তালেবান নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে ভাষ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জাইদির।

তিনি এক্স পোস্টে লেখেন, শুক্রবার কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে পাকিস্তানের হামলায় ‘আরও অনেক হতাহত’ হয়েছে।

আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্সে লিখেছেন, সাম্প্রতিক পাকিস্তানি হামলায় ‘কেউ আহত হয়নি।’

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি আফগান তালেবান হামলার বিরুদ্ধে তার দেশের প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেছেন।

শুক্রবার সকালে এক্সে তিনি লেখেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া সর্বাঙ্গীন ও দৃঢ়।

“যারা আমাদের শান্তিকে দুর্বলতা মনে করে, তারা কঠোর জবাব পাবে এবং কেউই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে না।”

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ২৫৭৪ কিলোমিটারের পাহাড়ি সীমান্ত রয়েছে।