ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে ‘কুর্দিদের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র’
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হবে কি না, হলে কীভাবে করা হবে, সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে ইরানি কুর্দি মিলিশিয়াদের সঙ্গে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিষয়টি সম্পর্কে জানেন কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এমনটি জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানি লক্ষ্যস্থলগুলোতে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করার আশায় তাদের ওপর হামলা চালাতে প্রশিক্ষণ জোরদার করেছে দেশটির কুর্দি বিদ্রোহীদের জোট। ইরাকের আধাস্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরাক-ইরান সীমান্তে শিবির গেড়েছে তারা।
ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে দুইজন জানিয়েছেন, শনিবার মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ও অন্য শীর্ষ নেতারা নিহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে দেশটির ইসলামিক শাসনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের রুখে দাঁড়ানোর মতো জায়গা তৈরি করাই বিদ্রোহী কুর্দিদের হামলার লক্ষ্য হবে।
তবে এ অভিযান ও এর সম্ভাব্য সময় নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।
তারা জানান, কুর্দিদের ওই জোট যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তার অনুরোধ করেছে আর ইরবিল ও বাগদাদের ইরাকি নেতারা সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সংস্পর্শে আছেন।
তাদের মধ্যে দুই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সিআইএ সহায়তায় অস্ত্র যোগান দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে।
কুর্দিদের এই জোটের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সংযুক্ততা ও সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন করে সিএনএন। অ্যাক্সিওস চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, কুর্দিদের দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তাদের একজন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান (কেডিপিআিই) এর প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা হিজরি।
এসব পরিকল্পনার বিষয়ে জ্ঞাত লোকজন সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরানে একটি জনপ্রিয় অভ্যুত্থান উস্কে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সিআইএ কুর্দি বাহিনীগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।