যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ, সাশ্রয়ে জোর জ্বালানিমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ লাইনে ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
এই সংকটকে কেবল বাংলাদেশের নয়, ‘বৈশ্বিক’ মন্তব্য করে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার জোর দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান মজুত দিয়েই পরিস্থিতি সামলানোর পক্ষে হাঁটছে সরকার।
তার কথায় “আমার হাতে যা আছে সেটাকে সাশ্রয়ভাবে ব্যবহার করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত আমার সাপ্লাই লাইন ঠিক না হয়।”
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকার এখন মূলত ‘সংকট ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, “যুদ্ধ যতদিন থাকবে ততদিন ক্রাইসিস থাকবে। আমরা বলতে পারেন এখন ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করছি।”
তিনি বলেন, “চারটা কার্গো অলরেডি আমাদের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে। এগুলো ৯ মার্চের মধ্যে পৌঁছে যাবে।”
বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা স্পট পারচেজে গেছি, কিন্তু স্পট পারচেজে সেরকম রেসপন্স পাচ্ছি না।”
জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার কথা জানিয়ে হাসান মাহমুদ বলেন, “আমরা বিভিন্ন সেক্টরে রেশনিং করার কথা ভাবছি।”
অপচয় কমানোর জন্য নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের কথা বলেন বিদ্যুৎও জ্বালানিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যা আছে সেটাকে সাশ্রয় করে ব্যবহার করতে হবে। দেশের মানুষ সহযোগিতা করলে এই ক্রাইসিস পার হয়ে যাওয়া সম্ভব।”
বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়তে পারে কী না জানতে চাইলে, পরিস্থিতি সহনীয় রাখতে সরকারের চেষ্টার কথা তুলে ধরেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমি এখনো লোডশেডিং নিয়ে কিছু বলিনি। তবে সরকার চেষ্টা করছে যাতে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে থাকে।
“আমার উদ্দেশ্য যাতে মিনিমাম দিতে পারি। এখন পর্যন্ত যে রিভিউ করেছি তাতে মনে হয়েছে খুব একটা বেশি কিছু হবে না। অসহনীয় হবে না।”
রোজায় বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইফতারি থেকে তারাবির সময় পর্যন্ত যেন লোডশেডিং না হয় সেইভাবে আমরা প্ল্যান করছি।”
বিদ্যুৎমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেন, তারা ঈদকে সময়সীমা ধরে নিয়ে আগাচ্ছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের ক্রাইসিস থাকবে ঈদের ছুটি পর্যন্ত। এই সময়টা যদি সাশ্রয় করে পার করা যায়, ছুটির পরে ডিমান্ড কমে যাবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেল বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে ‘বেড়ে গেছে’ জানিয়ে এর কারণ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় পাচারের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন তিনি।
হাসান মাহমুদ বলেন, “হঠাৎ করে ডিজেল সেল বেড়ে গেছে। কারণ হচ্ছে বর্ডারের ওপারে চলে যাচ্ছে, সেখানে দাম বেশি।”
এ কারণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারের প্রসঙ্গ তুলে হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক এবং এর প্রভাব সব দেশেই পড়ছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ তো গ্লোবের বাইরে না। পৃথিবীতে যখন এরকম ক্রাইসিস হয়, তখন তার প্রভাব সব জায়গায় পড়ে। ইউক্রেইন যুদ্ধের পর জ্বালানির বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
“ইউক্রেইন একটা জায়গায় ছিল, কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি সেটা জ্বালানি সরবরাহের মূল অঞ্চলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনা করে পল কাপুর বাংলাদেশকে জানাবেন।“
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘কৌশলগত বন্ধন’ জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে এদিন সচিবালয়ে বৈঠক করেন।
হাসান মাহমুদ বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।
“আমরা প্রতিদিনই পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করি, আজ কোথায় দাঁড়ালাম, গতকাল কোথায় ছিলাম।
“আমার কথা একটাই, যা আছে সেটাকে সাশ্রয় করে ব্যবহার করতে হবে। দেশের মানুষ যদি সহযোগিতা করে তাহলে আমরা এই সংকট পার হয়ে যেতে পারব।”
এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে শিগগিরই একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।