শনিবার ৩০ আগস্ট ২০২৫, ভাদ্র ১৫ ১৪৩২, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

শিক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যের শিকার ৪২% শিক্ষার্থী, সহপাঠীরাই সবচেয়ে দায়ী - জরিপ

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ১৬:১৪, ৩০ আগস্ট ২০২৫

বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যের শিকার ৪২% শিক্ষার্থী, সহপাঠীরাই সবচেয়ে দায়ী - জরিপ

বিশ্ববিদ্যালয়েই সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর হার ৫১ শতাংশ এবং পুরুষ শিক্ষার্থীর হার ৪৯ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

আজ শনিবার অনলাইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আঁচল ফাউন্ডেশন এই তথ্য প্রকাশ করে। মার্চ থেকে মে—তিন মাসব্যাপী পরিচালিত জরিপে সারা দেশের ১ হাজার ১৭৩ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অংশ নেন।

কারা বেশি বৈষম্য করছে

জরিপ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণের সবচেয়ে বড় উৎস সহপাঠীরাই, যার হার প্রায় ৫৮ শতাংশ। পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে শিক্ষকের বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া শিক্ষকের খারাপ আচরণের শিকার হয়েছেন ৫৫ শতাংশ।

বৈষম্যের ধরনগুলোর মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ৩০ শতাংশ, ধর্মীয় কারণে ১৯ শতাংশ, জাতিগত কারণে ৯ শতাংশ এবং শারীরিক অক্ষমতার কারণে ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। শারীরিক অবয়বের কারণে ২৯ শতাংশ, রাজনৈতিক মত পার্থক্যের কারণে ৩০ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক কারণে ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

কোথায় বেশি বৈষম্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ বৈষম্যের প্রধান স্থান, যেখানে ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ডরমিটরি বা হলে ১৯ শতাংশ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আড্ডায় যথাক্রমে ৩৭ ও ৩৮ শতাংশ, আর পরিবহনে প্রায় ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী বৈষম্যের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। ক্যাম্পাসের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী।

মানসিক স্বাস্থ্য সংকট

বৈষম্যের কারণে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ বিষণ্নতা, ৪৯ শতাংশ উদ্বিগ্নতা, ৩০ শতাংশ ঘুমের সমস্যা, ২২ শতাংশ প্যানিক অ্যাটাক এবং ৪৭ শতাংশ স্ট্রেসে ভুগছেন। একাকিত্ব ও হীনমন্যতার মতো সমস্যাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর মধ্যে পাওয়া গেছে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা অকার্যকর

জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মাত্র ২৫ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ পেয়েছেন মাত্র ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী। প্রশাসনের উদ্যোগ অকার্যকর ছিল বলে জানিয়েছেন ৪৪ শতাংশ।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অনীহা

বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। বাকিরা জানান, সামাজিক ট্যাবু, আর্থিক অসুবিধা ও সেবা সম্পর্কে ধারণার অভাবে তাঁরা কাউন্সেলিং বা থেরাপি নেননি।

বিশেষজ্ঞ ও প্রস্তাবনা

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সায়েদুল ইসলাম বলেন, সমস্যাকে অবহেলা না করে শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা নিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, বৈষম্য প্রতিরোধে কার্যকর আইন না থাকলেও ছাত্র সংসদগুলো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।

আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবনায় বলা হয়, প্রতিটি বিভাগে অভিযোগ বক্স, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কমপ্লেইন সেল, মনিটরিং টিম গঠন, মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং ও মেন্টরিং ব্যবস্থা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেন্টার এবং সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা তানসেন রোজ, পারসপেক্টিভ-এর নির্বাহী সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. সোহেল মামুন।