রাকসু নির্বাচনে সিদ্ধান্ত বদল, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শিক্ষার্থীদের সংশয়

রাকসু নির্বাচনে বারবার তফসিল ও তারিখ পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে বারবার তফসিল পরিবর্তন ও ভোটের তারিখ পেছানোয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে চারবার তফসিল পুনর্বিন্যাস এবং দুবার ভোট গ্রহণের সময় পরিবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের একাংশের মতে, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের দাবির চাপ মেটাতেই কমিশন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছে। এতে নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
একের পর এক পরিবর্তন
প্রথম ঘোষিত তফসিলে ১৭ আগস্ট মনোনয়নপত্র বিতরণের কথা থাকলেও তার আগের রাতেই কমিশন তা স্থগিত করে। এরপর নতুন তারিখ দিয়ে আবারও পরিবর্তন আনা হয়। সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর ভোটের দিন নির্ধারণ করা হলেও সেটি দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠীর দিন হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে আবারো তারিখ পরিবর্তন করে ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছাত্রসংগঠনগুলোর দাবি ও চাপ
ছাত্রদল শুরু থেকেই সময় বাড়ানোর দাবি জানায়। অন্যান্য সংগঠনও বিভিন্ন দাবি তোলে—যেমন ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে সরানো, ভোটার তালিকায় ছবি সংযুক্তি, প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট ইত্যাদি। এসব দাবি বাস্তবায়ন করতে গিয়েই নির্বাচন কমিশন একাধিকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে।
ছাত্রদলের লাভবান হওয়া নিয়ে আলোচনা
ক্যাম্পাসে আলোচনায় উঠেছে—বারবার ভোট পেছানোর কারণে প্রস্তুতিহীন ছাত্রদলই বেশি লাভবান হয়েছে। স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী নোমান ইমতিয়াজ অভিযোগ করে বলেন, “ছাত্রদলের দাবির কারণেই নির্বাচন পিছিয়েছে। এতে তাদেরই সুবিধা হয়েছে।” তবে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম দাবি করেন, “আমরা কেবল সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চেয়েছি। প্রশাসন আমাদের কোনো দাবি মানেনি। আমাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট আছে।”
৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচন
১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম রাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পরও বারবার সিদ্ধান্ত বদল করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের অনেকেই মনে করছেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট আয়োজন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।